অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে ৬ নভেম্বর দেশব্যাপী পদযাত্রা

বাম গণতান্ত্রিক জোটের সংবাদ সম্মেলনে
সাতক্ষীরার ডিসি, এসপির অপসারণ দাবি

LDA-041118-2সাতক্ষীরায় রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর পুলিশ ও প্রশাসনের নিপীড়ন নির্যাতনে উদ্ভূত পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শন শেষে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতৃবৃন্দ আজ সকাল ১১টায় পল্টনস্থ মুক্তিভবনের প্রগতি সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। সাতক্ষীরা সফরকারী প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য ও জোট সমন্বয়ক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সাতক্ষীরার জনপদে দীর্ঘদিন ধরে এক ভীতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ২০১৩-১৫ সালের দিকে সেখানে মৌলবাদী জঙ্গিগোষ্ঠীর তা-বে জনপদ অস্থির ছিল। আর এখন সেখানকার জনগণ রাষ্ট্রীয় বাহিনীর অত্যাচার নির্যাতনে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এটা আমরা দীর্ঘদিন ধরেই শুনে আসছিলাম। গত ২০ সেপ্টেম্বরের ঘটনায় এটা যে সত্য তার প্রমাণ পেয়েছি। সেদিন অবাধ নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে বাম গণতান্ত্রিক জোট ঘোষিত দেশব্যাপী জেলা পর্যায়ে নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সাতক্ষীরায় বাম জোটের মিছিলে পুলিশি হামলা চালিয়ে বাসদ সাতক্ষীরা জেলা সমন্বয়ক নিত্যানন্দ সরকার, বাসদ (মার্কসবাদী) নেতা অ্যাড. খগেন্দ্রনাথ ঘোষ ও প্রশান্ত রায়কে গ্রেপ্তার করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মিথ্যা মামলা দায়ের করে দীর্ঘদিন কারাবন্দি করে রাখে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও জেলা জজ আদালত গ্রেফতারকৃত বাম জোটের নেতৃবৃন্দকে জামিন দেয়নি। হাইকোর্ট থেকে তাদের জামিন নিতে হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, গত ১ নভেম্বর ২০১৮ তালার খলিশখালীতে বাম জোটের জনসভার কর্মসূচি ছিল। জনসভার অনুমোদনের জন্য সাতক্ষীরার এসপি বরাবরে আবেদন করা হয়েছিল। তার প্রেক্ষিতে জনসভার প্রচার কাজ চালানোর জন্য মৌখিকভাবে অনুমতিও দিয়েছিল পুলিশ প্রশাসন। কিন্তু জনসভার আগের দিন ৩১ অক্টোবর সন্ধ্যায় স্থানীয় পাটকেলঘাটা থানা থেকে জানানো হয় যে, জনসভা করা যাবে না এবং রাত ১২টায় পুনরায় শেখ আবুল কালামকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে থানায় আটকে রাখা হয়। এবং পুলিশ খলিশখালি পল্লীমঙ্গল ক্লাব মাঠে নির্মিত জনসভা মঞ্চ ভেঙে দেয়।
নেতৃবৃন্দ ১ নভেম্বর এসপি কার্যালয়ে এসপি এবং ডিসির সাথে সাক্ষাৎ করে ঘটনা বর্ণনা করেন। কিন্তু নেতৃবৃন্দের সাথে সামান্য সৌজন্য না দেখিয়ে ঔদ্ধ্যত্ত্বপূর্ণ আচরণ করেন ডিসি ও এসপি।
সংবাদ সম্মেলনে জোট সমন্বয়ক সাইফুল হক বলেন, আমরা সাতক্ষীরার পূর্বাপর বিরোধী মত দমনের রাষ্ট্রীয় বাহিনীর এহেন নির্যাতন, মিথ্যা মামলা হয়রানী, গেফতার বাণিজ্যের এবং এসপি-ডিসি’র বাম জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সাথে এ ধরনের অসৌজন্যমূলক ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের জন্য সাতক্ষীরার এসপি মো. সাজ্জাদুর রহমান, জেলা প্রশাসক মোস্তফা কামালের অবিলম্বে প্রত্যাহার ও অপসারণ দাবি করছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাসদ (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশররফ হোসেন নান্নু ও সম্পাদকম-লীর সদস্য আজিজুর রহমান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক, বিপ্লবী গণতান্ত্রিক পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মোমিনুর রহমান বিশাল।

বাম জোটের নেতৃবৃন্দের সরেজমিন সাতক্ষীরা পরিদর্শন শেষে সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য
মৈত্রী মিলনায়তন, মুক্তিভবন, পুরানা পল্টন, ঢাকা। তাং ০৪ নভেম্বর ২০১৮

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন।
আপনারা অবগত আছেন যে, বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে সুন্দরবনের কূল ঘেষে অবস্থিত জেলা সাতক্ষীরার জনপদে দীর্ঘদিন ধরে এক ভীতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ২০১৩-১৫ সালের দিকে সেখানে মৌলবাদী জঙ্গিগোষ্ঠীর তা-বে জনপদ অস্থির ছিল। আর এখন সেখানকার জনগণ রাষ্ট্রীয় বাহিনীর অত্যাচার নির্যাতনে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এটা আমরা দীর্ঘদিন ধরেই শুনে আসছিলাম। কিন্তু এটা যে সত্য তার প্রমাণ পেয়েছি অবাধ নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে গত ২০ সেপ্টেম্বর ’১৮ বাম গণতান্ত্রিক জোট ঘোষিত দেশব্যাপী নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচিতে ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপর পুলিশী হামলা এবং সাতক্ষীরায় বাম জোটের মিছিলে পুলিশী হামলা ও মিছিল থেকে বাসদ সাতক্ষীরা জেলা সমন্বয়ক নিত্যানন্দ সরকার, বাসদ (মার্কসবাদী) নেতা এডভোকেট খগেন্দ্রনাথ ঘোষ ও প্রশান্ত রায়কে গ্রেপ্তার করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মিথ্যা মামলা দায়ের করে জেলে নিক্ষেপের ঘটনা। মামলার এজাহারে এক উদ্ভট-হাস্যকর জব্দ তালিকা দেখানো হয় যে, গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ৩র্ দ্ধ ৭র্ একটি ব্যানার যাতে লাল-সাদা রং এ বড় করে লেখা ছিল বাম গণতান্ত্রিক জোট ও বিক্ষোভ মিছিল; তাদের কাছে একটি ২ হাত লম্বা বাঁশের লাঠি মাথায় লাল পতাকা বাঁধা, ঘটনাস্থলের অদূরে আরো ৫টি ২ হাতি বাঁশের লাঠি এবং এক জনের কাছে ২০/২৫টি লিফলেট ছিল যাতে বড় হরফে লেখা ছিল বাম গণতান্ত্রিক জোট ও বিক্ষোভ মিছিল, এবং আরো ছিল সরকার বিরোধী বক্তব্য। আর এসব জিনিস দিয়ে নাকি নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা করছিল এবং তারা খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করছিল।
এ ধরনের ডাহা মিথ্যা-বানোয়াট ও হাস্যকর এজাহারের পরও জেলার মেজিস্ট্রেট আদালত ও জেলা জজ আদালত গ্রেপ্তারকৃত বাম জোটের নেতৃবৃন্দকে জামিন দেয়নি। হাইকোর্ট থেকে তাদের জামিন করাতে হয়েছে। উল্লেখ্য, নেতৃবৃন্দকে গ্রেপ্তার করেই পুলিশ প্রশাসন খান্ত হয়নি। তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকী-ধামকি, ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে এবং মুক্তির জন্য অর্থ দাবি করছে। এমনকি মিছিলে যারা ছিলেন তাদের ভিডিও দেখে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করছে। যারা মিছিলে ছিলেন না তাদেরকেও ফোন করে নানা হুমকী দিচ্ছে, ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। নানা হয়রানী করে চলেছে। এটা শুধু বাম জোটের নেতা-কর্মীদের উপরই নয়, নিরীহ জনসাধারণকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ গ্রেপ্তার বাণিজ্য চালাচ্ছে অবাধে। পুলিশের এ ধরনের অপতৎপরতায় সাতক্ষীরাবাসী আতঙ্কে রাতে ঘরে ঘুমাতে পর্যন্ত পারে না।
অপর দিকে সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় বাম জোটের শরীক দল ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ দীর্ঘ দিন ধরে ভূমিহীন-ক্ষেতমজুরদের খাস জমি ও বাঁচার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। সেই আন্দোলনের অন্যতম নেতা শেখ আবুল কালামকে বিনা কারণে মিথ্যা মামলায় বারে বারে গ্রেপ্তার ও হয়রানী করে চলেছে। গত ১ নভেম্বর ২০১৮ তালার খালিশখালীতে বাম জোটের জনসভার কর্মসূচি ছিল। জনসভার অনুমোদনের জন্য সাতক্ষীরার এসপি বরাবরে আবেদন করা হয়েছিল। তার প্রেক্ষিতে জনসভার প্রচার কাজ চালানোর জন্য মৌখিকভাবে অনুমতিও দিয়েছিল পুলিশ প্রশাসন। সে প্রেক্ষিতে জনসভার পোস্টার সাটানো হয় এবং লিফলেট বিলি করা হয় জেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে। কিন্তু জনসভার আগের দিন ৩১ অক্টোবর সন্ধ্যায় স্থানীয় পাটকেলঘাটা থানা থেকে জানানো হয় যে, জনসভা করা যাবে না এবং রাত ১২টায় পুনরায় শেখ আবুল কালামকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে থানায় আটকে রাখা হয়। এবং পুলিশ খালিশখালি পল্লীমঙ্গল ক্লাব মাঠে নির্মিত জনসভা মঞ্চ ভেঙে দেয়।
বাম জোটের জনসভার নির্ধারিত বক্তা হিসেবে কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, সিপিবি সাধারণ সম্পাদক কমরেড শাহ আলম, বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ, ইউসিএলবি’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশাররফ হোসেন নান্নু ও সম্পাদক কমরেড আজিজুর রহমান, বাসদ (মার্কসবাদী) নেতা হাসিনুর রহমান ১ নভেম্বর তারিখ সকালে সাতক্ষীরা পৌঁছে এসপি জনাব সাজ্জাদুর রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করে ঘটনা অবহিত করা এবং এর প্রতিকারের জন্য যান। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করার পর এসপি এবং জেলা প্রশাসক এসপি অফিসে আসেন সেখানে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করে ঘটনা বর্ণনা করেন কমরেড সাইফুল হকসহ নেতৃবৃন্দ। কিন্তু নেতৃবৃন্দের সাথে সামান্য সৌজন্য না দেখিয়ে বরং ঔদ্ধ্যত্ত্বপূর্ণ আচরণ করেন এসপি ও ডিসি। এ ঘটনা আমাদেরকে বিস্মিত করেছে। মনে হয়েছে এটা কি বাংলাদেশের বাইরে আরেকটা দেশ কিনা।
নেতৃবৃন্দ এসপি, ডিসিকে জনান একদিকে সরকার বাম জোটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের সাথে সংলাপ করছে অন্যদিকে বাম জোটের জনসভার মঞ্চ ভেঙে দিচ্ছে, মিথ্যা মামলায় বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের হয়রানী করছে – এটাই কি সরকারের গণতান্ত্রিক আচরণের নমুনা?
পরবর্তীতে নেতৃবৃন্দ এসপি ডিসিকে পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিকারের কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়ে চলে আসেন এবং খালিশখালিতে জনসভা স্থলে গিয়ে আগত জনগণ ও নেতা-কর্মীদের সাথে কথা বলেন।
আরো একটি বিষয় এখানে উল্লেখ করা জরুরি যে, সরকার একদিকে অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ রয়েছে দাবি করছে অন্যদিকে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনসভায় জঙ্গি হামলা হতে পারে এ আশংকায় অনুমতি না দেয়ার জন্য সারাদেশে প্রত্যেক থানায় নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। যাতে বিরোধী কোন পক্ষ তাদের প্রচার-প্রপাগা-া চালাতে না পারে। অথচ সরকারি দল প্রশাসন ব্যবহার করে একতরফাভাবে তাদের মিটিং মিছিল জনসভা করে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, যেখানে ১ নভেম্বর তারিখে তালার খালিশখালিতে বাম জোটের জনসভা মঞ্চ ভেঙে দেয়া হয়েছে তার অদূরে উপজেলা চত্বরে গত ২৮ অক্টোবর সরকারের শরীক ওয়ার্কার্স পার্টির জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাহলে এটাই প্রমাণ হয়না কি যে, সরকারের সাথে থাকলে জনসভার অনুমতি মিলে, বিরোধী শিবিরে থাকলে অনুমতি দেয়া হবেনা। আমরা সাতক্ষীরার পূর্বাপর বিরোধী মত দমনের রাষ্ট্রীয় বাহিনীর এহেন নির্যাতন, মিথ্যা মামলা হয়রানী, গ্রেপ্তার বাণিজ্যের এবং এসপি-ডিসি’র বাম জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সাথে এ ধরনের অসৌজন্যমূলক ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের জন্য সাতক্ষীরার এসপি মো. সাজ্জাদুর রহমান, জেলা প্রশাসক মোস্তফা কামালের অবিলম্বে প্রত্যাহার ও অপসারণ দাবি করছি।
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
আপনারা জানেন, আর কয়েক দিনের মধ্যেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার এবং ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। আমরা দেশে একটি অবাধ নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনী পরিবেশের জন্য আন্দোলন করছি।
আমাদের দাবির মধ্যে রয়েছে (১) বর্তমান সরকার পদত্যাগ করে রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে আলোচনা করে নির্বাচনকালীন তদারকি সরকার গঠন (২) তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙে দেয়া (৩) নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন (৪) সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থা চালু ও কালো টাকা, পেশী শক্তি ও সাম্প্রদায়িক প্রচারণা রোধসহ নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার, ঊঠগ ব্যবহার না করা, না ভোটের বিধান চালু, আরপিও’র দল নিবন্ধনের অগণতান্ত্রিক শর্ত বাতিল, স্বতন্ত্র সদস্যদের নির্বাচনের জন্য ১% ভোটারের সমর্থন সূচক স্বাক্ষরের বিধান বাতিল করা ইত্যাদি। আমরা মনে করি বাম জোট ও অপরাপর বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার সংলাপ অনুষ্ঠানে বাধ্য হয়েছে।
আমরা সরকারের আগ্রহের প্রেক্ষিতে সংলাপে অংশ নেয়ার জন্য চিঠি দিয়ে নেতৃবৃন্দের নামের তালিকা পাঠিয়েছি। তারিখ ও সময় জানালে আমরা আমাদের দাবিসমূহ নিয়ে সংলাপে অংশ নেবো।
আমরা আন্দোলনের অংশ হিসেবেই সংলাপে অংশ নেবো। একই সাথে আমাদের মাঠের আন্দোলনও অব্যাহত থাকবে। সেজন্য আমরা আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে আগামী ৬ নভেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার সারাদেশে অবাধ নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টির উপরোক্ত দাবিতে পদযাত্রা ও গণসংযোগ কর্মসূচি পালিত হবে।
ঐদিন ৬ নভেম্বর ঢাকায় সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ শেষে পল্টন, দৈনিক বাংলা, মতিঝিল, টিকাটুলি, সায়েদাবাদ হয়ে যাত্রাবাড়ি পর্যন্ত পদযাত্রা ও প্রচারপত্র বিলি করা হবে। বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ পদযাত্রায় অংশ নেবে। জেলায় জেলায় অনুরূপ কর্মসূচি পালিত হবে। এবং এ পদযাত্রা-গণসংযোগ কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে চলবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হওয়ার জন্য আপনাদেরকে পুনরায় ধন্যবাদ জানিয়ে আমাদের লিখিত বক্তব্য শেষ করছি।

ধন্যবাদান্তে

সাইফুল হক
সমন্বয়ক
বাম গণতান্ত্রিক জোট
কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদ