অবিলম্বে কোটা সংস্কার করে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিন-কমরেড খালেকুজ্জামান

Haturi-kastey edited copyকোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্র লীগ সন্ত্রাসীদের ও পুলিশের হামলা এবং গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান এক বিবৃতিতে ঢাকাসহ সারাদেশে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নির্মম-নৃশংস হামলা, পুলিশী হামলা ও গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে কোটা সংস্কার করে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
কমরেড খালেকুজ্জামান বলেন, দেশে ৪৭ ভাগ স্নাতক বেকার। প্রতিদিন এই বেকারের সারি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। শিক্ষাশেষে কাজের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে লক্ষ কোটি শিক্ষার্থী। তার উপর বৈষম্যমূলক এই কোটা ব্যবস্থা সংকটকে আরো ঘনীভূত করেছে। আবার এই কোটা নিয়ে দুর্নীতি-বাণিজ্য এবং এর রাজনৈতিক ব্যবহার শিক্ষার্থীদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছিল। শিক্ষার্থীরা তাই এই বৈষম্যমূলক কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবি করে আসছিল। গত এপ্রিল মাসে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশ এবং ছাত্রলীগের বর্বরোচিত হামলা সারাদেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। কিন্তু সারা দেশের শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলন ও প্রতিরোধের সামনে শাসকরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। প্রধানমন্ত্রী সংসদে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের ঘোষণা দেন। যদিও শিক্ষার্থীরা দাবি করেছিল যে কোটা ব্যবস্থা সংস্কার করা হোক। কিন্তু প্রায় ৩ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত কোন সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি না করার ফলে সঙ্গতভাবেই শিক্ষার্থীরা আবারও রাস্তায় নেমে আসে। গত ৩০ জুন তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে শিক্ষার্থীদের উপর নির্মমভাবে হামলে পড়ে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশে বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপর হামলার ঘটনা পত্রিকায় এসেছে। আজ ০২ জুলাই পুনর্বার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচী পালন করতে গেলে অতর্কিতে তাদের উপর ছাত্রলীগ হামলা করে, নারী শিক্ষার্থীদেরও লাঞ্চিত করার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রলীগের এই আচরণ শিক্ষার গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ভুলুন্ঠিত করছে। ভিন্ন মত দমনে ছাত্রলীগ সরকারের লাঠিয়ালের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। ক্ষমতাসীন সরকার যেমনি জনগণের মতামতকে কোন তোয়াক্কা করছে না, একর পর এক নানা জনস্বার্থ বিরোধী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে তেমনি ছাত্রলীগও তার অনুগামী হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, সংসদে প্রধানমন্ত্রীর যে প্রতিশ্রুতিতে আন্দোলনকারীরা আন্দোলন স্থগিত করেছিলেন – তা দীর্ঘ সময়েও বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট কোন উদ্যোগ না থাকায়, পুনরায় যখন ছাত্ররা কর্মসূচি ঘোষণা করছে সেখানে ছাত্রদের কর্মসূচিতে ছাত্র লীগের সন্ত্রাসী হামলা, গ্রেফতারের ঘটনায় দেশবাসীর মনে সন্দেহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক যে সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘসূত্রিতার মাধ্যমে কালক্ষেপণ করে দাবি না মানার পাঁয়তারা করছে কিনা?
অবিলম্বে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের এই বর্বর হামলার বিচার এবং কোটা পদ্ধতি সংস্কার করে সরকারি প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে প্রকাশ করার দাবিও তিনি জানান।