কথিত বন্দুকযুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধ ও মাদকের প্রকৃত হোতাদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি

IMG_2069কথিত বন্দুকযুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধ ও মাদকের সাথে যুক্ত প্রকৃত হোতাদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ ঢাকা মাহানগর শাখার উদ্যোগে আজ ৫ জুন সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বাসদ নগর আহ্বায়ক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক লিখিল দাস, শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি আবদুর রাজ্জাক, বাসদ নগর কমিটির সদস্য খালেকুজ্জামান লিপন, আহসান হাবীব বুলবুল, শম্পা বসু। সভা পরিচালনা করেন নগর সদস্যসচিব জুলফিকার আলী।
কমরেড খালেকুজ্জামান বলেন, দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণের নামে যেভাবে বিচারবহির্ভূতভাবে মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে এটা কোন সভ্য ও গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় চলতে পারে না। এইভাবে যারা মানুষ খুন করে চলছে,  তারা আইন-বিচার ব্যবস্থা, সংবিধান-মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, মূল্যবোধ, কোন কিছুরই ধার ধারেন না। এই প্রক্রিয়া চললে আদালত-কোর্টকাচারির প্রয়োজনীয়তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এই অভিযানের মধ্যদিয়ে শাসকদের আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা, আদালত-বিচার ব্যবস্থার প্রতি অবজ্ঞা ও অস্বীকার করা এবং জনগণের মৌলিক-গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘন করা প্রতিভাত হয়।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ মাদকের ভয়াবহতায় আতঙ্কিত, দিশেহারা।  যুবসমাজ নেশার করালগ্রাসে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছেÑএটা নির্মূল হোক সবাই চায়। কিন্তু সরকার যে পথে এগুচ্ছে তাতে মাদক নির্মূল হবে না। এর উৎস স্থলে যেতে হবে। প্রকৃত হোতাদের গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনতে হবে। মিয়ানমারে ইয়াবার কারখানা আছে, সীমান্ত দিয়ে এগুলো বাংলাদেশে ঢুকে। ভারতে সীমান্ত এলাকায় ফেনসিডিল তৈরি হয়। বাংলাদেশের দুই প্রতিবেশি রাষ্ট্রে মাদক তৈরি হয়Ñএটা প্রতিরোধে সরকার কেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়নি? সীমান্ত রক্ষীবাহিনী চুরি ঠেকাতে পারে, গুলি করে মানুষ মারতে পারে, মাদক ঠেকাতে পারে না কেন? এই দুই রাষ্ট্রের মাদকের বড় বাজার বাংলাদেশ। সরকারের দাবি মোতাবেক বন্ধু রাষ্ট্র ভারতÑতারা আমাদের ন্যায্য পাওনা পানি আটকিয়ে ফেনসিডিল পাঠাচ্ছে। আর প্রতিবেশি মায়ানমার একদিকে রোহিঙ্গা পাঠিয়ে বিবাদ তৈরি করছে সাথে ইয়াবা-মাদক পাঠিয়ে যুব সমাজ ধ্বংসের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই ব্যবসায় হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে, সাধারণ মানুষের তো এই টাকা বিনিয়োগ করার ক্ষমতা নাই। তাই প্রশ্ন ওঠে, এই বিনিয়োগকারী কারা, মুনাফাভোগী কারা? তারা তো ধরা পড়ছে না, নিরাপদে আছে; দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর চুনোপুঁটিরা খুন হচ্ছে। মাদক অধিদপ্তর, পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ গত কয়েক বছর ধরে যে তালিকা প্রকাশ করছে, তালিকাভুক্তদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি? তাই আজকের এই অভিযান যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রনীত এবং বিরোধী মত দমনের লক্ষ্যে তা স্পষ্ট। রাঘব বোয়ালরা যে ধরা পড়ছে না এতে সহজে অনুমান করা যায়, ক্ষমতার সাথে যুক্ত প্রভাশালী ব্যক্তি-গোষ্ঠী ছাড়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যোগসাজশ ছাড়া সারা দেশে মাদক বানের জলের মতো ছড়িয়ে পড়তে পারে না। গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্য, নানা স্তরের প্রশাসন এই মাদকব্যবসার সাথে যুক্ত। অবিলম্বে তাদের গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনা না হলে এই অভিযান প্রহসনের নাটকে পরিণত হবে, দেশ মাদকমুক্ত হবে না।
তিনি মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। একই সাথে সরকারের মাদক বিরোধী অভিযানের নামে কথিত বন্ধুক যুদ্ধে মানুষ খুনের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলার জন্য আহ্বান জানান।
IMG_2117সমাবেশ শেষে একটি মিছিল প্রেসক্লাব ও তোপখানা রোড প্রদক্ষিণ করে বাসদ কার্যালয়ের নিচে এসে শেষ হয়।