কমরেড জাহেদুল হক মিলুর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন

130618-Milu-3বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট-এর সভাপতি, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতি কমরেড এডভোকেট জাহেদুল হক মিলু গত ১৩ মে ২০১৮ ভোরে উলিপুর থেকে কুড়িগ্রাম আসার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হয়ে প্রথমে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর রংপুর মেডিকেল কলেজ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে আজ ১৩ জুন দুপুর ১২টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
Miluকমরেড জাহেদুল হক মিলুর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য আজ ১৩ জুন বেলা ৩টা থেকে ৪:৩০টা পর্যন্ত ২৩/২ তোপখানা রোডস্থ বাসদ কার্যালয়ের সামনে মৃতদেহ রাখা হয়। প্রথমে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষে দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ ও রাজেকুজ্জামান রতন। এরপর পর্যায়ক্রমে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি’র) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, উপদেষ্টাম-লীর সদস্য মঞ্জুরুল আহসান খান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নঈমুল আহসান জুয়েল, শ্রমিক বিষয়ক সম্পাদক সাইফুজ্জামান বাদশা, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক মোসতাক আহমেদ, রফিকুল ইসলাম প্রতিক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি’র আব্দুল মালেক রতন, বাসদ (মার্কসবাদী)’র সদস্য শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী, আলমগীর হোসেন দুলাল, মানস নন্দী, ঐক্য ন্যাপ এর পক্ষে সভাপতিম-লীর সদস্য এসএমএ সবুর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশিদ ভূইয়া, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদক অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার, সম্পাদক ম-লীর সদস্য আজিজুল হক, বাসদ সিরাজগঞ্জ জেলার আবদুল্লাহ আল-মামুন, ফরিদপুর অঞ্চলের বিপুল কুমার দাস ও বিদ্যুৎ কুমার বর্মন, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার নিখিল দাস, আবু নাঈম খান বিপ্লব, সেলিম মাহমুদ ও কাউন্সিলার অসিত বরণ বিশ্বাস; বাসদ গাজীপুর জেলা শাখার রাহাত আহমেদ, আব্দুল লতিফ; শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ নেতা আলহাজ শুক্কুর মাহমুদ, আনোয়ার হোসেন, গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (জি-স্কপ)-এর নঈমুল আহসান জুয়েল, কামরুল হাসান, আহসান হাবিব বুলবুল, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন, মো. মাহাবুব আলম বাদল, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সহসভাপতি ওসমান আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান হাবীব বুলবুল, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশ-এর সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, সাধারণ সম্পাদক নঈমুল ইসলাম জুয়েল, বাংলাদেশ সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মোসাদেক হোসেন স্বপন, সাধারণ সম্পাদক মোকাদ্দেম হোসেন, কার্যকরী সভাপতি হারুনার রশিদ ভূইয়া, শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম, বিলস এর পক্ষে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ শুক্কুর মাহমুদ, নির্বাহী পরিচালক সুলতান উদ্দিন আহম্মদ, সংযুক্ত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান বাবলু, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন এর সভাপতি কামরুল আহসান, সাধারণ সম্পাদক আমিরুল হক আমিন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সভাপতি হাবীব ও বাচ্চু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দত্ত, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ এর মহাসচিব নোমানুজ্জামান আল আজাদ, গার্মেন্টস ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার; বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘের সভাপতি কবি গোলাম কিবরিয়া পিনু, সহ-সাধারণ সম্পাদক অভিনু কিবরিয়া ইসলাম; বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি এসএমএ সবুর ও সাধারণ সম্পদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সভাপতি রওশন আরা রুশো, উপদেষ্টা সুফিয়া চৌধুরী, নূরজাহার ঝর্ণা, শামসুন্নাহার জ‌্যোৎস্না, সাধারণ সম্পাদক শম্পা বসু, মুক্তা বিশ্বাস, প্রগতিশীল কৃষিবিদ কেন্দ্রের অধ্যাপক গাজী এমএ জলিল ও রফিকুল বারী মুক্তা, প্রগতিশীল আইনজীবী ফ্রন্টের এ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মোল্লা ও বিমল চন্দ্র সাহা, প্রগতিশীল সাংবাদিক ফোরামের আব্দুল্লাহ শাহরীয়ার সাগর, সাজেদ রোমেল ও তাপসী রাবেয়া আঁখি, প্রগতিশীল প্রকৌশলী স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ ফোরামের স্থপতি সুব্রত সরকার ও আব্দুল্লাহ আল মাসুম পলক, প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের অধ্যাপক গাজী এমএ জলিল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের রোকসানা আফরোজ আশা, সজল বাড়ৈ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জিলানী শুভ ও সহসভাপতি অনিক রায়, ছাত্র ঐক্য ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক সরকার আল ইমরান, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক স্নেহাদ্রী চক্রবত্তী রিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের বিনয়ন চাকমা; চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সংগঠক বিপুল কুমার দাস ও সুজাউদ্দিন বাদল, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সংগঠক সুপ্তি রায় প্রমুখ।
130618-Milu-7শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, সিপিবির সহ-সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের ওয়াজেদুল ইসলাম খান, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ ও রাজেকুজ্জামান রতন। কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে সমাবেশ শেষে কমরেড জাহেদুল হক মিলুর মরদেহ কুড়িগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলে নেতা-কর্মীরা লাল পতাকায় সজ্জিত শোভাযাত্রা করে তোপখানা রোড, পুরানা পল্টন হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব ঘুরে মৎস্য ভবন পর্যন্ত এগিয়ে দেয়।
সংক্ষিপ্ত জীবনী : কমরেড জাহেদুল হক মিলু
কমরেড জাহেদুল হক মিলু ১৯৫৪ সালের ৭ আগস্ট কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী থানার বেপারীর হাট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুর আজিজুল হক এবং মাতা মরহুম বেগম জহুরা হক। ৮ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। তিনি ১৯৭০ কুড়িগ্রাম রিভারভিউ হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং  ১৯৭২ সালে কুড়িগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। হাইস্কুলের ছাত্র থাকাকালীন সময়ে তিনি অবিভক্ত ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। ১৯৭২ সালে কুড়িগ্রাম মহকুমার জাসদ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক জেলার প্রথম কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮০ সালে বাসদ গঠিত হলে কুড়িগ্রাম মহকুমার পাঠচক্র কমিটির সমন্বয়ক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে জেলা বাসদের সম্মেলনে দলের আহ্বায়ক এবং একই বছর পার্টির কেন্দ্রীয় কনভেনশনে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি এবং চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতির ও দায়িত্ব পালন করেন। শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি হিসাবে তিনি শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা হিসাবে দেশের শ্রমিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি দলের জেলা আহ্বায়ক, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি ও চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতির দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করেছেন। এছাড়া কুড়িগ্রাম বারের সদস্য ছিলেন এবং কুড়িগ্রাম জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। প্রগতি সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠনেরও তিনি প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য।
তিনি রাজনৈতিক জীবনে ভারত, নেপাল, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক, রাজনৈতিক ও শ্রমিক সম্মেলনের অংশ গ্রহণ করেন।