কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনুর ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের এক বছর-বিচার কোথায়? বিচার চাই

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনুর ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের এক বছর-
বিচার কোথায়? বিচার চাইIMG_9836copyকুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু গত বছর ২০মার্চ ২০১৬ ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিল কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের ভিতরে। একবছর পার হলেও হত্যাকাণ্ডের কোন বিচার হয়নি। তদন্ত এগোয়নি। এমনকি দুবার ময়নাতদন্তের যে রিপোর্ট জনগণকে জানানো হয়েছে তাতে কিভাবে তনু নিহত হল তারই কোন নির্দেশনা নাই। এই বিচারহীনতার প্রতিবাদে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর উদ্যোগে আজ ২০ মার্চ ২০১৭ সোমবার সকাল ১০.৩০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শম্পা বসু এবং পরিচালনা করেন সংগঠনের সদস্য মুক্তা বাড়ৈ। সভায় বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মণ্ডলীরি সদস্য সামসুন্নাহার জ্যোৎস্না, নারায়নগঞ্জ জেলা শাখার সংগঠক জেসমিন আক্তার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ইডেন কলেজ শাখার সভাপতি নবীনা আক্তার।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, নিরাপত্তা বেষ্টিত সংরক্ষিত এলাকা যেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সার্বক্ষণিক নজরদারী নিয়ন্ত্রিত সেই ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় তনুর লাশ পাওয়া গিয়েছিল। এক বছর হয়ে গেল এখন পর্যন্ত কিভাবে তনু খুন হয়েছে তাই জানা গেল না; খুনি গ্রেফতার হওয়া তো দূরের কথা! তদন্ত পুলিশ থেকে ডিবি; ডিবি থেকে সিআইডিতে ট্রান্সফার করা হল। কবর থেকে লাশ তুলে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত হল। তনু’র বাবা লাশ উদ্ধারের পর জানান তনুর মাথার পেছনে বড় আঘাত বা কাটা ছিল, নাক দিয়ে রক্ত বের হয়েছিল, পোশাক ছেড়া ছিল। যিনি দাফনের আগে গোসল করিয়ে ছিলেন তিনিও একই কথা বলেছেন। অথচ তনুর দুটি ময়নাতদন্ত রিপোর্টে এসেছে-শরীরে বড় কোন আঘাত নেই, ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি, বিষক্রিয়ায় তাকে খুন করা হয়নি। তাহলে তনু মরলো কীভাবে বা তনু কীভাবে খুন হল? একটি সংরক্ষিত এলাকায় তনু খুন হল, সেনা টহল ছিল, সিসি ক্যামেরা ছিল, আলামত নষ্ট করা হয়েছে, ধর্ষক-খুনি সন্দেহভাজনদের জেরা না করে, উল্টো তনুর পরিবার ও আত্মীয় স্বজনকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসা-হয়রানি, তাদেরকে প্রলোভন দেখানো, হুমকি দেওয়া। স্বাভাবিক কারণেই পুরো তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েই জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আর কোন দিন হয়তো তনুর হত্যাকারীকে খুঁজে পাওয়া যাবেনা-এমনই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে দেশবাসীর মনে।
বক্তারা বলেন, আমাদের দেশে দুষ্টের দমন শিষ্টের পালনের জন্য আইন-শৃঙ্খলা বলে কিছু আছে তো মনে হয় না? এদেশে অন্যায়কারীরা-নিপীড়করা যা খুশি তাই করতে পারে। নিপীড়ক যত ক্ষমতাধর এবং টাকাওয়ালা; বিচার প্রাপ্তি এদেশে তত কঠিন। বাংলাদেশে বিচারহীনতার রেওয়াজ চলছে। এই বিচারহীনতার রেওয়াজ দুর্বৃত্তদেরকেই প্রশ্রয় দেয়। দেশের মানুষ এই বিচারহীনতার অবসান চায়।
সমাবেশ থেকে বক্তাগণ অবিলম্বে তনু হত্যার বিচার দাবি করেন।