কাশ্মীর, আসামের নাগরিক তালিকা (NRC) এবং রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে বাসদ এর বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত

কাশ্মীরী জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে, আসামের নাগরিক তালিকা (NRC) করে বাংলাদেশের উপর চাপ প্রয়োগের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এবং রোহিঙ্গা
প্রত্যাবাসনে সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদে বাসদ এর বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত

SPB-060918-1কাশ্মীরী জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে, আসামের নাগরিক তালিকা (NRC) করে বাংলাদেশের উপর চাপ প্রয়োগের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর উদ্যোগে ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ বিকেল ৪:০০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা মহানগর বাসদ এর আহ্বায়ক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন, কেন্দ্রীয় পাঠচক্রের সদস্য নিখিল দাস ও জুলফিকার আলী। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
SPB-060918-2সমাবেশে কমরেড খালেকুজ্জামান বলেন, উন্নয়নের ডামাডোল বাজতে থাকা বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতি, অর্থব্যবস্থা, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিজনিত সংকটের মাঝেই চারিদিক থেকে বাহ্যিক বহুমাত্রিক সংকট ক্রমাগত চেপে আসছে। মিয়ানমার ১০/১১ লাখ রোহিঙ্গা ঠেলে দিয়েছে, ভারত আসাম থেকে কখনো ৪০ লাখ, কখনো ২০ লাখ আসাম নিবাসীকে বাংলাদেশী বলে বাংলাদেশে পাঠাতে চাইছে, চারিদিকে কাঁটাতার, ন্যায্য পানির হিস্যা বঞ্চনা, সাগরের তেল-গ্যাস লুণ্ঠনের নতুন মহড়া ইত্যাদি মিলে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি, কূটনীতি ও পদক্ষেপসমূহের দৈন্যতা ও ব্যর্থতার খেশারত বহু মূল্যে দেশবাসীকে দিতে হবে। যা কাক্সিক্ষত ও প্রত্যাশিত ছিল না।
ভারতের নাগরিক তালিকা (NRC) প্রসঙ্গে কমরেড খালেকুজ্জামান বলেন, ভারতের হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার ভারতের রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে ক্রমাগত স্পষ্ট করে তুলছে, পৃষ্ঠপোষকতা করছে। তারই অংশ হিসেবে আসামের নাগরিক তালিকা তৈরির উদ্যোগ। এতদিন প্রচার করেছে ৪০ লক্ষাধিক বাংগালী মুসলমান বাংলাদেশ থেকে ভারতের আসামে অনুপ্রবেশ করেছে। ফলে নাগরিক তালিকা করে তাদের ফেরৎ পাঠাবে। এ সাম্প্রদায়িক রাজনীতি আসামে দীর্ঘদিনের ‘আলী, কুলি, বঙ্গাল খেদাও’ (মুসলিম, বিহারী ও হিন্দু বাঙ্গালী) শ্লোগানে সংগঠিত হলেও বিজেপি সরকার তাকে নতুন সংকটের আবর্তে নিক্ষেপ করছে।
তিনি বলেন, যদিও বাংলাদেশ সরকারের কাছে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয় সংকর সম্প্রতি এসে বলে গেছেন যে, এটা তাদের আভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এতে বাংলাদেশের দুঃচিন্তার কোন কারণ নেই। আমরা বিস্ময়ের সাথে দেখলাম ভারত সরকারের সাথে সুর মিলিয়ে বাংলাদেশ সরকারও এ বিষয়কে ভারতের আভ্যন্তরীণ বিষয় বলে উল্লেখ করছে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণের কাছে এটা পরিষ্কার যে, ভারত বন্ধুত্বের কথা বলে বাংলাদেশের কাছ থেকে শুধু সুবিধাই নিয়েছে, বাংলাদেশকে তিস্তার পানিসহ কিছুই দেয়নি। ফলে ভারতের আশ্বাসে বিশ্বাস করার কিছু নেই।
খালেকুজ্জামান বলেন, আসামের এনআরসি-তে যারা বাদ পড়েছেন তারা যদি আগামী দিনেও ফরেনার্স ট্রাইবুনাল ও হাইকোর্ট-সুপ্রীম কোর্টে অযাচিত হয়রানির পরও প্রমাণ করতে না পারে তাহলে তাদের কি হবে? তাছাড়া যারা তালিকা থেকে বাদ পড়েছে তাদের অধিকাংশই দরিদ্র জনসাধারণ। বলা হয়েছে এফটি এবং আদালত করতে প্রতি জনের প্রথমে ২০ হাজার পরে ১৯ হাজার রুপি লাগবে। ফলে অসহায় জনগণ এমনিতে নিঃস্ব – তারা আরো নিঃস্বতর হবে। তা ছাড়া তালিকায় নাম না ওঠাদের এখনই নানা হয়রানীর শিকার হতে হচ্ছে। ডিটেনশন ক্যাম্পে নেয়া হচ্ছে। ফলে ভীত হয়ে অনেকে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করতে পারে। যেমনি মায়ানমারের সেনা বাহিনীর অত্যাচারে ১১ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে।
খালেকুজ্জামান বাংলাদেশ সরকারকে ভারতের প্রতি অনুগত না থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এখনই আসামের এন.আর.সি বিষয়ে সতর্ক থাকা, পুশব্যাকের ভারতীয় নীল নকশা ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবি’র নজরদারি জোরদার করা এবং কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর জোর দাবি জানান।
ভারতীয় শাসক গোষ্ঠীর এহেন চক্রান্তের বিরুদ্ধে দেশের সকল বাম প্রগতিশীল দেশপ্রেমিক জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
রোহিঙ্গা সমস্যা প্রসঙ্গে কমরেড খালেকুজ্জামান বলেন, নিকট পার্শবর্তী দেশ হিসাবে মিয়ানমারের আভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং তার প্রভাব পরিণতিতে বাংলাদেশে সংকট সৃষ্টি বিষয়ে বাংলাদেশের শাসকশ্রেণির আগাগোড়া মনোযোগ না দেয়া এবং সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা ও প্রতিকার মূলক আগাম প্রস্তুতি না রেখে তাৎক্ষণিক ও এডহক ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে সংকটের মাত্রা ও বোঝা দিন দিন বেড়ে চলছে। ২০১৭ সালে প্রায় ১১ লক্ষ রোহিঙ্গা স্বরণার্থী বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তখন থেকেই বাংলাদেশ সরকারের ভ্রান্ত পররাষ্ট্রনীতি এবং কূটনৈতিক ব্যর্থতার কারণে এই সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক কোন শক্তিকে পাশে পাচ্ছে না।
সরকার দাবি করে ভারত তাদের বন্ধু রাষ্ট্র, চীনের সাথে সম্পর্ক ভালো, জাপানের বিনিয়োগ অনেক বেশি। কিন্তু আমরা দেখছি রোহিঙ্গা প্রশ্নে তাদের কেউই বাংলাদেশের পাশে নেই। তারা মায়ানমারের পক্ষেই অবস্থান করছে। এ ছাড়া সরকার যে, পদে পদে কূটনৈতিক ভুল করছে তার প্রমাণ, রোহিঙ্গা সমস্যা দুই দেশের মধ্যে আলোচনা করে নিষ্পত্তি করার বিষয়ে চুক্তি সম্পাদন করে। বাস্তবে এটা যে, শুধু দুই দেশের সমস্যা নয়, আন্তর্জাতিক সমস্যা ফলে এখানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যুক্ত করা জরুরি। কিন্তু বাংলাদেশ সেটা করেনি, বা করতে পারেনি। আবার পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে যে সকল প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হচ্ছে তা অস্থির মানসিকতার প্রকাশ ছাড়া কিছুই নয়। সে জন্য আজও অগ্রগতির বদলে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব ভুল পদক্ষেপ ও কূটনৈতিক ব্যর্থতার কারণে কয়েকবার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছে সরকার। আর এই ব্যর্থতা দেশকে এক ভয়াবহ সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সমাবেশে কমরেড খালেকুজ্জামান কাশ্মীর সমস্যা প্রসঙ্গে বলেন, ভারতের হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকার গত ৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি এবং পরবর্তীতে পার্লামেন্টের উচ্চ ও নিন্ম কক্ষে বিল পাশের মাধ্যমে সংবিধানের ৩৭০ ধারা ও ৩৫(ক) বাতিল করেছে। এর মাধ্যমে ভারত সরকার কাশ্মীরের জনগণকে দেয়া বিশেষ অধিকার খর্ব করে বাস্তবে কাশ্মীরী জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের আন্দোলনে শেষ পেরেক ঠুকলো।
তিনি বলেন, ভারত বিভক্তির সময় ব্রিটিশের করদ রাজ্য কাশ্মীরের রাজা ছিল হরি সিং। ব্রিটিশরা বলেছিল করদ রাজ্যসমূহ স্বাধীনভাবে যে কোন দেশের সাথে সংযুক্ত হতে পারে অথবা নিজস্ব স্বতন্ত্র অবস্থানে থাকতে পারে। এ প্রেক্ষিতে রাজা হরি সিং স্বতন্ত্র অবস্থানে থাকার ঘোষণা করলে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সহযোগে একটা আদিবাসী গোষ্ঠী কাশ্মীরে হামলা চালিয়ে একটা অঞ্চল দখল করে নেয়। এ প্রেক্ষিতে রাজা হরি সিং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নেহেরুর সাহায্য চায়। কিন্তু নেহেরু কাশ্মীর ভারতের অন্তর্ভুক্ত না হলে সে সাহায্য করতে অপারগতা প্রকাশ করে। ঐ সময় কাশ্মীরের জাতীয়তাবাদী নেতা শেখ আব্দুল্লাহর পরামর্শে ভারতের সাথে এক চুক্তি স্বাক্ষর করে যেটা ” Instrument of Accession ” নামে পরিচিত। এর পর মাউন্ট ব্যাটেন ঐ চুক্তি অনুমোদন করলে ভারত সৈন্য পাঠায়। ঐ চুক্তিতেও কাশ্মীরী জনগণের ইচ্ছায় কাশ্মীরের অবস্থান নির্ধারিত হওয়ার কথা উল্লেখ ছিল। পরবর্তীতে ভারতের সংবিধান প্রণয়নের সময় কাশ্মীরের জনগণের বিশেষ অধিকারের মর্যাদা দিয়ে ৩৭০ ধারা ও ৩৫(ক) ধারা যুক্ত করা হয়। এই বিধান অনুযায়ী কাশ্মীরের নির্বাচিত নেতাকে ভারতের অন্য রাজ্যের মতো মুখ্যমন্ত্রী না বলে প্রধানমন্ত্রী বলা, কাশ্মীরের নিজস্ব পতাকা ও কাশ্মীরের জমি অন্য কোন রাজ্যের জনগণ কিনতে না পারাসহ অন্যান্য অধিকারের স্বীকৃতি ছিল। এর পর থেকে কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে অনেকবার যুদ্ধ হয়েছে, যুদ্ধপরিস্থিতি চলে আসছে। এরকম প্রেক্ষাপটে ৪৮ সালে নেহেরু জাতিসংঘে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য উত্থাপন করলে সেখানে গণভোটের মাধ্যমে কাশ্মীর সমস্যার সমাধানের কথা বলা হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত ভারত বা পাকিস্তান কেউই কাশ্মীরে গণভোটের ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়নি। জম্মু-কাশ্মীর বর্তমানে ভারত, চীন এবং পাকিস্তানের দখলে রয়েছে।
তিনি বলেন, শুরু থেকেই ভারতের শাসক গোষ্ঠী জম্মু-কাশ্মীরের জনগণের অধিকার হরণের চক্রান্ত করে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের মোদি সরকার ভারতের বুর্জোয়া শ্রেণির স্বার্থে ৩৭০ ধারা বাতিল করে সেই আগ্রাসনের চূড়ান্ত রূপ দিল।
ঐতিহাসিক সম্মতির মাধ্যমে স্বীকৃত সাংবিধানিকভাবে গৃহীত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ও বিশেষত্ব ভারতের স্বাধীনতার পর থেকে চলে আসছিল। সেক্যুলার ঘোষিত ভারতকে হিন্দুত্ববাদী শৃঙ্খলে শক্ত পোক্ত করে বাঁধার অংশ হিসাবে গেরুয়াধারী বিজেপি সরকার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে ৩৭০ ধারা ও ৩৫(ক) বাতিলের মধ্য দিয়ে পরিকল্পিতভাবে এহেন উস্কানীমূলক পদক্ষেপ নিয়ে রাজ্য মর্যাদার স্থান থেকেও জম্মু কাশ্মীরকে নীচে নামিয়ে আনলো। ২০১৮ সালে জম্মু কাশ্মীর এসেম্বলি বাতিল করার মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডারে এই পরিবর্তনের ক্ষেত্র তৈরি করা হয়েছিল। ভারতের হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের এই পদক্ষেপ শুধু ভারতবর্ষেই নয় উপমহাদেশ জুড়ে সাম্প্রদায়িকতার অশান্তির ক্ষেত্র সম্প্রসারিত করে তুলতে পারে। জম্মু কাশ্মীরকে খ-িত করা এবং ১৪৪ ধারা জারি ও কার্ফু জারি করা, সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রীসহ রাজনীতিকদের গৃহবন্দি করে যুদ্ধ পরিস্থিতির মতো সেনা উপস্থিতির ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি ভারতের সেক্যুলার গণতন্ত্রকামী জনগণের কাছেও গ্রহণযোগ্য নয়।
কাশ্মীরের সংখ্যাগুরু মুসলিম জনগোষ্ঠীকে সংখ্যালঘুতে পরিণত করা ও সম্পত্তির ব্যাপক হস্তান্তরের ভবিষ্যত নীল নক্সা নিয়ে অগ্রসর হলে তা সংশয়, সংঘাত ও উগ্রবাদী তৎপরতাকে ক্রমাগত বাড়িয়ে তুলবে। এমনকি সন্ত্রাসবাদী নানা অপশক্তির নাক গলানোরও সুযোগ করে দিতে পারে। কাশ্মীরের বিশেষত্ব বাতিল করে এক অভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংহতি বিধানের যুক্তি হাজির করা হলেও লুকানো উদ্দেশ্যে অধীনস্ত করা। এর মধ্য দিয়ে দমন-পীড়ন অসমতা নতুন মাত্রায় বৃদ্ধি পাবে এবং বহু রাজ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে।
খালেকুজ্জামান ভারতীয় শাসক বুর্জোয়া শ্রেণির পুঁজিবাদী-সা¤্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিশ্ব বিবেককে সোচ্চার হওয়া এবং কাশ্মীরের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
খালেকুজ্জামান বলেন, একদিকে রোহিঙ্গা সংকট, অন্যদিকে আসামে নাগরিক তালিকা (NRC) দিয়ে বাদ পড়াদের বাংলাদেশে পুশব্যাপক করার ষড়যন্ত্র, ব্যাংক ও আর্থিক খাতে সীমাহীন লুটপাট, মেগা প্রকল্পে মেগা দুর্নীতি, জনগণের বাক স্বাধীনতা হরণ, গণতান্ত্রিক অধিকার ভোটাধিকার হরণ, সাগরের গ্যাস ক্ষেত্র রপ্তানির বিধান রেখে মডেল পিএসসি ২০১৯ প্রণয়ন করে জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দিচ্ছে, বিদেশী কোম্পানি ও দেশীয় কমিশনভোগীদের স্বার্থ রক্ষা করার পাঁয়তার চলছে। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় নির্মিত মহাসড়কে আবার জনগণের কাছ থেকে ট্যাক্স-টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে। এক কথায় দেশে যে চরম ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন চলছে তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন গড়ে তোলা এবং শাসক বুর্জোয়া শ্রেণির বিরুদ্ধে বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

Translate »