কৃষকের কোমরে দড়ি, লুটেরাদের জামাই আদর-এক দেশে দুই আইন চলবে না

অবিলম্বে সার্টিফিকেট মামলা, ওয়ারেন্ট প্রত্যাহার এবং
১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করুন
court2সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কৃষক নেতা অধ্যক্ষ ওয়াজেদ পারভেজ ও সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ সংবাদপত্রে দেয়া এক বিবৃতিতে ১ লক্ষ ৯৪ হাজার ১৭৫ জন কৃষকের নামে সার্টিফিকেট মামলা দায়ের এবং ১২ হাজার ৫৩১ জন কৃষকের নামে ওয়ারেন্ট জারির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে এর প্রতিবাদ করেছেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, এক দেশে দুই আইন চলতে পারেনা। একদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসমূহ থেকে হলমার্ক, বিসমিল্লাহ গ্রুপসহ লুটেরারা হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে মেরে দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক বা সরকার কিছু করছে না। উপরন্তু কয়েক দিন আগেই খেলাপী ঋণের ৪০ হাজার কোটি টাকা অবলোপনের নামে মওকুফ করে দিয়েছেন। অন্যদিকে যারা দিনান্তকর পরিশ্রম করে চাষাবাদ করে ফসল ফলিয়ে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন, অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছেন, মাত্র ৫৮২ কোটি টাকার জন্য তাদের নামে সার্টিফিকেট মামলা, ওয়ারেন্ট জারি করছে। এ ঘটনা থেকে বুঝা যায় যে, রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংকসমূহ দরিদ্র কৃষকের কোমরে দড়ি পরিয়ে লুটেরাদেরকে জামাই আদর করছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ১৯৯১ সাল থেকে গত ২৫ বছরে ১ লক্ষ ৯৪ হাজার ১৭৫ জন কৃষকের কাছে পাওনা মাত্র ৫৮২ কোটি টাকা যা গড়ে জনপ্রতি ৩০ হাজার টাকা। এটাও আবার ৫-১০ হাজার টাকা যেটা ঋণ নিয়েছিল তার সুদ-আসলে হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, কৃষক একদিকে বেশি দামে কৃষি উপকরণ কিনে, ফসলের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হয়। এবারেও বোরো ধানের যখন মৌসু চলছে তখন বাজারে ধানের দাম কম, এতে কৃষক মণপ্রতি ৩০০-৪০০ টাকা লোকসান দিচ্ছে। অন্যদিকে বন্যা-খরা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল হানির ফলে কৃষক ঋণ শোধ করতে ব্যর্থ হয়। এজন্য তাদের কোমরে দড়ি দেয়া খুবই অন্যায়।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, লুটেরাদের ৪০ হাজার কোটি টাকা ঋণ অবলোপন করতে পারলে কৃষকের ৫৮২ কোটি টাকা কেন সরকার মাফ করতে পারবে না।
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে কৃষকের নামে দায়ের করা সার্টিফিকেট মামলা ও ওয়ারেন্ট প্রত্যাহার এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

Translate »