গণহত্যা বন্ধ এবং রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বিশ্বজনমত গড়ে তুলতে হবে

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সিপিবি-বাসদ নেতৃবৃন্দ
গণহত্যা বন্ধ এবং রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বিশ্বজনমত গড়ে তুলতে হবেIMG_0198 copyমায়ানমার রাষ্ট্র কর্তৃক নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর চলমান জাতিগত গণহত্যার প্রতিবাদে আজ ৩১ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ-এর মানববন্ধন চলাকালে অনুষ্ঠিত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, অবিলম্বে চলমান গণহত্যা বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের মায়ানমারের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে। জাতিসত্তার সকল অধিকারসহ শরণার্থীদের নিজ ভূমিতে পুনর্বাসন করতে হবে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মহলকে সোচ্চার হতে হবে এবং রোহিঙ্গা-সংহতিতে বিশ্বজনমত গড়ে তুলতে হবে।
বাসদ-এর সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড মো. শাহ আলম, বাসদ-এর কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড বজলুর রশিদ ফিরোজ, সিপিবি’র কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ কমরেড মাহাবুবুল আলম প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন সিপিবি’র সহকারী সাধারণ সম্পাদক কমরেড কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন।
কমরেড খালেকুজ্জামান বলেন, সাম্রাজ্যবাদ ও আঞ্চলিক আধিপত্যকারী শক্তিসমূহের মদদ ও উসকানিতে মায়ানমার রাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিপীড়ন চালিয়ে আসছে। গত কয়েকদিন ধরে আরাকান রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বরোচিত হামলা, নির্যাতন, বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ ও গণহত্যা চালাচ্ছে সে দেশের সরকারের মদতপুষ্ট সেনাবাহিনী। আমরা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। হাজার হাজার নারী-শিশু-বৃদ্ধ জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছে, যা বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটকে আরো নাজুক করে তুলেছে।
তিনি বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং শরণার্থী সংকট মোকাবিলার জন্য বাংলাদেশ সরকারের উচিত কূটনৈতিক পদক্ষেপ জোরদার করা। তা না করে সরকার মিয়ানমারের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানের প্রস্তাব দিয়েছে। সরকারের এ প্রস্তাব নিন্দনীয়। এ পদক্ষেপ চলমান জাতিগত নিপীড়ন ও গণহত্যায় প্রচ্ছন্ন মদদ জোগাবে।
সমাবেশে কমরেড মো. শাহ আলম বলেন, বর্বর হামলার ফলে লাখ লাখ রোহিঙ্গার জীবনে নেমে এসেছে চরম মানবিক বিপর্যয়। রোহিঙ্গা সমস্যা মায়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও, তার মারাত্মক প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের ওপর। জীবন বাঁচাতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং পড়বে। আশ্রয়প্রার্থী রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক আচরণ করতে হবে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের উদ্যোগে গঠিত কফি আনান কমিশনের প্রস্তাব বাস্তবায়নে মিয়ানমারের ওপর চাপ তৈরি করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বঙ্গোপসাগর উপকূলকে কেন্দ্র করে সাম্রাজ্যবাদী ও আঞ্চলিক আধিপত্যকারী শক্তিসমূহের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটকে পুঁজি করে কোনো সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী যাতে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার সুযোগ না পায়, সেদিকেও সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।