গার্মেন্টস শিল্পাঞ্চলে হাজার হাজার শ্রমিকের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা হয়রানীমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল এবং বৈষম্যমূলক মজুরি ও গ্রেড নির্ধারনের জন্য দায়িদের শাস্তি দাবি

বাম গণতান্ত্রিক জোটের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত
গার্মেন্টস শিল্পাঞ্চলে হাজার হাজার শ্রমিকের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা হয়রানীমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল এবং
বৈষম্যমূলক মজুরি ও গ্রেড নির্ধারনের জন্য দায়িদের শাস্তি দাবি
LDA-220219-Garments Labour-2সভার-আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ গার্মেন্টস শিল্পাঞ্চলে মজুরি ও গ্রেড বৈষম্য নিরসনের দাবিতে আন্দোলন করায় হাজার হাজার শ্রমিকের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা হয়রানীমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এবং প্রায় ১১ হাজার শ্রমিককে ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে বাম গণতান্ত্রিক জোটের উদ্যোগে আজ ২২ ফেব্রুয়ারি’১৯ শুক্রবার বিকেল ৪:৩০টায় ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বাম জোটের সমন্বয়ক বাসদ নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশ বক্তব্য রাখেন সাইফুল হক, জলিতালকুদার, জহিরুল ইসলাম, অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, আমনে আক্তার, তাসলিমা আক্তার ও হামিদুল হক। সমাবেশ সঞ্চলনা করেন নজরুল ইসলাম।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রেসক্লাব থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুরানা পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে নেতৃবন্দ বলেন, গত ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ গার্মেন্টস শিল্পাঞ্চলে ন্যায্য মজুরি ও গ্রেড বৈষম্য দূর করার দাবিতে আন্দোলন করায় গাজীপুর সদর, সাভার, আশুলিয়া ও উত্তরা পূর্ব থানায় ৩৪টি মামলায় ৩৫০০ জনকে আসামী করা হয়েছে এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১১ হাজার শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। বিজিএমইএ অবশ্য স্বীকার করেছে ৫০০০ ছাঁটাই হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, শুধু ছাঁটাই করেই খান্ত নয়, মালিকেরা বিজিএমইএর ডাটা বেইজ এ ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদেরকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়, ফলে যে সকল বড় কারখানা প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেসব কারখানায় ছাঁটাইয়ের কালো তালিকাভুক্ত শ্রমিকদের আর চাকরি হয় না।
নেতৃবৃন্দ বলেন, কিছু কারখানায় কাজ নাই বলে শ্রমিকদের পাওনা না দিয়েই বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কোন কোন কারখানার শ্রমিকেরা আন্দোলন করলে লাম-সাম কিছু টাকা দিয়ে বিদায় করে দিচ্ছে। ১৫-২০ দিন পর পুনরায় নতুন শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে কারখানা চালু করে, পুরানোদের আর নিয়োগ দেয়া হয় না। এটা মালিকদের এক নব্য চাতুরী – পুরাতন শ্রমিকদের চাকরি থেকে ছাঁটাইয়ের জন্যই কারখানা বন্ধ করা হয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, মজুরি বৃদ্ধির ঘোষণার সাথে সাথে মালিক পক্ষ শ্রমিকদের উপর নতুন এক নির্যাতন নামিয়ে এনেছে তা হলো প্রডাকশন টার্গেট বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে এবং হেলপার ছাড়া কাজ করতে হবে এমন শর্ত দেয়া হচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ সমাবেশ থেকে অবিলম্বে শ্রমিকদের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা হয়রানীমূলক মামলা প্রত্যাহার, গ্রেপ্তারকৃত শ্রমিকদের মুক্তি এবং গণহারে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয় এবং হেলপার ছাড়া কাজ করতে হবে এমন অগণতান্ত্রিক শর্ত দেয়া বন্ধ করতে হবে। একই সাথে বৈষম্যমূলক মজুরি ও গ্রেড নির্ধারণের জন্য দায়িদের শাস্তি দাবি করেন।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ সরকারি দায়িত্বহীনতার কারণে গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে চকবাজারে চুরিহাট্টায় ভায়বহ অগ্নিকা-ে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, এটা নিছক দুর্ঘটনা না, এটা হত্যাকা-। নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০১০ সালে ৩ জুন নিমতলী অগ্নিক-ে ১২৪ জন নিহত হওয়ার পর হাইকোর্ট ৩ মাসের মধ্যে সরকার গঠিত তদন্ত কমিটিকে অবৈধ স্থাপনাসহ সকল অনিয়মের রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশ দিয়েছিল। তদন্ত কমিটি ১৭ দফা সুপারিশ করেছিল। তা বাস্তবায়ন করলে আজ এ ভয়াবহ পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটতো না। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ও আহতদের সুচিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং দায়িদের শাস্তি দাবি করেন। একই সাথে আবাসিক এলাকা থেকে রাসায়নিক কারখানা-গোডাউন দ্রুত সরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমানে দেশে চলছে একদলীয় ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন। গত ৩০ ডিসেম্বর নজীরবিহীন ভোট ডাকাতির ভূয়া নির্বাচনের মাধ্যমে মহাজোটের সরকার পুনরায় ক্ষমতা দখলে রেখে ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন কায়েম করেছে। ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিনে ভোট না হয়ে আগের রাতেই ৩০/৫০ ভাগ ভোট ব্যালট পেপারে সীল মেরে শুধু বাংলাদেশে নয় গোটা পৃথিবীতে ভোট জালিয়াতির নতুন নজীর সৃষ্টি করেছে। ফলে এই সরকারের জনগণের প্রতি কোন দায় নাই। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে ভোট ডাকাতির সংসদ বাতিল করে সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় তদারকি সরকারের অধীনে পুনরায় নির্বাচন দেয়া, ব্যর্থ ও অনুগত, ভোট ডাকাতির সহযোগি নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থা চালুর দাবিও জানান। নেতৃবৃন্দ শ্রমিক-কৃষক মেহনতি মানুষের ভোটাধিকারসহ গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার আদায়ে ব্যাপক জনগণের সংগ্রামী ঐক্য গড়ে তোলা ও বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প শক্তির উত্থানে কার্যকর আন্দোলনের আহ্বান জানান।