গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৮০০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সমাবেশে জাতীয় শ্রমিক নেতৃবৃন্দ
গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৮০০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে
GSF-3গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৮০০০ টাকা নির্ধারণের দাবিতে আজ ১২জানুয়ারি’২০১৮ শুক্রবার সকাল ১১:০০ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ ও প্রেসক্লাব-পল্টন এলাকায় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আহসান হাবিব বুলবুল, সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জাহেদুল হক মিলু, সহসভাপতি আবদুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (জি-স্কপ) এর যুগ্ম আহবায়ক নঈমুল আহসান জুয়েল, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সহসভাপতি খালেকুজ্জামান লিপন, খায়রুল কবির, সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, সহ-সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম গোলক, সাংগঠনিক সম্পাদক সৌমিত্র কুমার দাস, অর্থ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরিফসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তাগণ বলেন, ২৪ জানুয়ারি ২০১৬ সংসদে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এম.পিদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি বিল উত্থাপন কালে বলা হয়েছে-জীবন যাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণার কারনে বেতন-ভাতা, পরিতোষিক ইত্যাদি সময়পোযোগী করা প্রয়োজন। এই যুক্তি দিয়ে তাদের বেতন-ভাতা দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন দেশের ৬ কোটি ১০ লাখ শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কীভাবে মিটবে? দেশের রপ্তানি আয়ের শতকরা ৮২ ভাগ বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহকারী ৪০ লক্ষ গার্মেন্টস শ্রমিকরা সর্বসাকুল্যে ৫৩০০ টাকা বেতন দিয়ে কীভাবে চলবে? রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এম.পি, আমলা-জেনারেলরা যে বাজার থেকে নিত্যপণ্য ক্রয় করে সেই বাজার থেকেই গার্মেন্টস শ্রমিকরাও বাজার করে। অথচ আমলা-জেনারেলদের বেতন ৮৬ হাজার থেকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে, যা আনুষাঙ্গিক ভাতাসহ সাকুল্যে ২ থেকে ২.৫ লক্ষ টাকা দাড়াবে। যারা সরাসরি উৎপাদনের সাথে যুক্ত, দেশের সম্পদ সৃষ্টি করে, বৈদেশিক মুদ্রা আনে তারা কীভাবে ৫৩০০ টাকায় চলবে এটা গোটা জাতির সামনে প্রশ্ন।
GSF-2নেতৃবৃন্দ বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট ২০১৫ সালে ক্রিয়াশীল গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠন সমূহের সাথে মতবিনিময় করে ন্যূনতম মজুরি ১৫০০০ টাকা নির্ধারণের দাবি তুলেছিল। কিন্তু গত ৩ বছরে নিত্য প্রয়োজনিয় দ্রব্যমূল্য বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধান খাদ্য উপাদান চালের মূল্য গত বছরেই প্রায় শতকরা ২৩ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে সরকারি ঘোষণা অনুসারে বর্তমানে আমাদের মাথাপিছু আয় ১৬১০ মার্কিন ডলার অর্থাৎ ৫ সদস্যের পরিবারের মোট আয় হওয়ার কথা প্রায় ৫৩০০০ টাকা। আমাদের দেশের পরিবার প্রতি গড় কর্মসংস্থানের হার ১.২ থেকে ১.৫। পরিবার প্রতি ২ জন অর্থ উপার্জনকারী সদস্য ধরলেও একজন শ্রমিকের মাসিক বেতন হতে হবে ২৪০০০ টাকার বেশি। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য মূল্যের দাম অনেক কম হওয়া সত্ত্বেও সেখানে শ্রমিক সংগঠন সমূহ জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ১৮০০০ টাকা নির্ধারণের দাবি তুলেছে। তাছাড়া পুষ্টিমান সম্পন্ন খাদ্য, স্বাস্থ্য সম্মত বাসস্থান এবং ন্যূনতম মানবিক জীবনের শতকরা ৬০ ভাগ পূরণ করতে হলেও ১৮০০০ টাকার বেশি প্রয়োজন। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে নি¤œতম মজুরি বোর্ড কতৃক ন্যূনতম মজুরি ১৮০০০ টাকা নির্ধারণ ও মজুরি বাস্তবায়নের পূর্ব পর্যন্ত মহার্ঘ ভাতা চালু করার জোর দাবি জানান।
GSF-6নেতৃবৃন্দ শ্রম আইনের শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী অগণতান্ত্রিক ধারা সমূহ বাতিল করে অবাধ ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
সমাবেশ শেষে একটি মিছিল প্রেস ক্লাব-তোপখানা রোড প্রদিক্ষণ করে।