ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অবিলম্বে ক্ষতিপূরণ দাও – কৃষক-ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদ

ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অবিলম্বে ক্ষতিপূরণ দাও
নিম্নমানের বাঁধ নির্মাণে দায়ী দুর্নীতিবাজদের বিচার কর

KKSP-080519পৃথিবীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় সারা পৃথিবীতে প্রাকৃতিক দূর্যোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাশের অবস্থান উপকূলীয় অঞ্চলে হওয়ায় এই সকল প্রাকৃতিক দূর্যোগ বারবার হানা দিচ্ছে। একইসাথে প্রকৃতি বদলে যাওয়ার কারণে অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, অসময়ে বৃষ্টি হচ্ছে। প্রকৃতির এই দূর্যোগে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্চে দেশের কৃষি ও কৃষক। প্রতিবছর প্রাকৃতিক দূর্যোগে কৃষকের ফসল নষ্ট হওয়ায় কৃষক হচ্ছে সর্বশান্ত। প্রাকৃতিক ভাসাম্য নষ্ট হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ যেই অর্থ সহায়তা বিশ্ব সংস্থাসমূহ থেকে পায় তা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ ও বিপর্যয় প্রতিরোধে অবকাঠামো তৈরিতে ব্যয় না করে ব্যয় হচ্ছে লুটপাট ও নানা ধরনের নগর উন্নয়ন প্রকল্পে। প্রতিবছর অতিবৃষ্টি ও অসময়ের বৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড়ে হাওরের ফসল নষ্ট হচ্ছে। বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের কারণে নিম্নমানের বাঁধ দূর্যোগের সময় ভেঙ্গে পড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষক। সুপার সাইক্লোন ফণীর আঘাতে ৩ এপ্রিল হাওর অঞ্চলের বাঁধ ভেঙ্গে কৃষকের ধান প্লাবিত হয়। ২০১৭ সালে পাহাড়ি ঢলের পানিতে সৃষ্ট বন্যায় বাঁধ ভেঙ্গে ব্যাপক ফসল নষ্টের ক্ষতি কৃষক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবার ফণীর আঘাত কৃষকের শেষ সম্বলটুকুও কেড়ে নিয়েছে। ফলে এই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অবিলম্বে ক্ষতিপূরণ দিয়ে পুনর্বাসন করতে হবে। একইসাথে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধসহ সকল বাঁধ দ্রুত নির্মাণ ও নিম্নমানের বাঁধ নির্মাণের সাথে যুক্ত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
ফণীর আঘাতে হাওরসহ সারাদেশে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ৮ মে ২০১৯, বুধবার দুপুর ৩টায় কৃষক-ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদের মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দ এসকল কথা ও দাবি উত্থাপন করেন।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, কৃষকের জন্য অবিলম্বে পূর্ণ মাত্রায় শস্যবীমা চালু করতে হবে, কৃষকের কৃষিঋণ মওকুফ করতে হবে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় বিশ্ব সংস্থাসহ উন্নত দেশসমূহ থেকে প্রাপ্ত অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ব্যয় করতে হবে।
কৃষক-ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন-এর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি এস এম এ সবুর, ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের সভাপতি সাইফুল হক, সমাজতান্ত্রিক কৃষক-ক্ষেতমজুর ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশের ক্ষেতমজুর সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার, সমাজতান্ত্রিক কৃষক ফ্রন্টের সভাপতি আলমগীর হোসেন দুলাল, বিপ্লবী কৃষক সংহতির সভাপতি আনসার আলী দুলাল, বাংলাদেশ কৃষক-মজুর সংহতির নেতা সাদিক রেজা, বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হোসেন খান প্রমুখ।
মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ২০১৭ সালে হাওরের বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় হাওরের কৃষকরা। তখন স্পষ্ট হয় হাওরের বাঁধসহ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্তদের লুটপাট। কিন্তু তাদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থাতো হয়নি বরং এখনো চলছে অনিয়ম-দুর্নীতি। আর এই অনিয়ম দুর্নীতির খেসারত দিচ্ছে সাধারণ কৃষক। তাই অবিলম্বে সকল দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অপসারণ ও শাস্তির ব্যবস্থা করে দ্রুত সঠিক মানের ফসল রক্ষা বাঁধসহ সকল বাঁধ নির্মাণ সম্পন্ন করতে হবে। নেতৃবৃন্দ সমাবেশ থেকে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া না হলে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা হবে।