চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান, আহতদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসন, দায়িদের বিচার এবং দ্রুত রাসায়নিক দ্রব্যের গোডাউন-কারখানা আবাসিক এলাকা থেকে সরিয়ে নিন – বাম গণতান্ত্রিক জোট

চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান, আহতদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসন, দায়িদের বিচার এবং দ্রুত রাসায়নিক দ্রব্যের গোডাউন-কারখানা আবাসিক এলাকা থেকে সরিয়ে নিন – বাম গণতান্ত্রিক জোট
LDA-250219-2বাম গণতান্ত্রিক জোট এর উদ্যোগে ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টায় চকবাজার থানার মোড়ে এক মানববন্ধন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের ক্ষতিপূরণ প্রদান, আহতদের সুুচিকিৎসা-পুনর্বাসন, অগ্নিকাণণ্ডের জন্য দায়িদের বিচার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান এবং আবাসিক এলাকা থেকে দ্রুত রাসায়নিক দাহ্য পদার্থের গোডাউন-কারখানা সরিয়ে নেয়ার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বাম জোটের সমন্বয়ক বাসদ নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম,অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, আকবর খান, মানস নন্দী, বাচ্চু ভূইয়া, হামিদুল হক, জুলফিকার আলী, মমিনুল ইসলাম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, বার বার দুর্ঘটনা ঘটে আর একটি করে দতন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কোন কোনটার রিপোর্ট প্রতাশিত হয় বাস্তবায়ন হয় না আবার কোনটার রিপোর্টই প্রকাশিত হয় না। যার ফলে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটে আর মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০১০ সালে নিমতলীর ঘটনার পর গঠিত তদন্ত কমিটি ১৭ দফা সুপারিশ করেছিল তা বাস্তবায়ন হলে হয়তো চকবাজারের এই মৃত্যু ঘটতো না। তাই দুর্ঘটনার পর সরকার প্রশাসনের শুধু আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতিতে মানুষ ভরসা রাখতে পারে না।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ইতিমধ্যে ঘটনার সূত্রপাত কোথা থেকে তা নিয়ে সরকার ও সিটি মেয়র এর  পক্ষ থেকে নানা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পূর্বে এ ধরনের বক্তব্য বিবৃতি তদন্ত কাজকে প্রভাবিত করে প্রকৃত ঘটনা ও দায়িদের আড়াল করার প্রচেষ্টা কিনা তা নিয়ে জনমনে আশংকা দেখা দিচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সিটি মেয়র এখন আগুণে পুড়া কেমিক্যাল সরানোর জন্য নিজ হাতে বস্তা ট্রাকে তোলার যে তৎপরতা প্রদর্শন করছেন অগ্নিকা-ের আগে পুরান ঢাকা থেকে দাহ্য পদার্থ ও রাসায়নিক এর ব্যবসা গোডাউন সরানোর উদ্যোগ নিলে এত প্রাণ বলি হতো না। সমাবেশ থেকে দায়িত্বে অবহেলার জন্য সিটি মেয়রের পদত্যাগ দাবি করা হয়। একই সাথে বিস্ফোরক অধিদপ্তর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ যাদের এ ব্যাপারে নজরদারি ও ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব তাদেরও শাস্তির দাবি জানানো হয়।
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ, আহতদের সুচিকিৎসা-পুনর্বাসন এবং প্রত্যেককে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান, দায়িদের বিচার, দাহ্য পদার্থের গোডাউন পুরান ঢাকা থেকে দ্রুত সরানোর  দাবি জানান। এবং সিটি মেয়র সহ দায়িত্ব পালনে অবহেলার জন্য দায়ি সকলের শাস্তি দাবি করেন।