চাঁদপুরে বাসদ এর ঈদ পূর্নমিলনী অনুষ্ঠানে-গুলশানে কুটনৈতিক এলাকায় ও কিশোরগঞ্জে শোলাকিয়া জঙ্গী হামলায় হত্যার প্রতিবাদ ও সহযোগীদের পরিচয় প্রকাশের দাবি

DSC01137 copy৯ জুলাই ২০১৬ইং বাসদ চাঁদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে হোটেল পাঁচতারায় বাসদ কার্যালয়ে ঈদ পুর্নমিলনী সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাসদ চাঁদপুর জেলা সমন্বয়ক কমরেড শাহজাহানা তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন হারুন অর রশিদ, নজরুল ইসলাম, আঃ রহিম, তুষার লস্কর, কৃষ্ণ চন্দ্র লস্কর, ফারুক হোসেন, নবী হোসনে প্রমুখ।
বক্তারা বলেন আপনারা জানেন গত ১লা জুলাই শুক্রবার (২৫ রমজান) রাত পৌনে ৯টায় ঢাকা গুলশান কুটনৈতিক পাড়ায় ‘হলি আর্টিসান রেস্তোরায়’ ও ৭ জুলাই ঈদের দিন কিশোরগঞ্জের ‘শোলাকিয়ায়’ জঙ্গী মৌলবাদীরা হামলা করে নিরীহ মানুষদের হত্যা করে। পুলিশ জঙ্গীবাদীর মোটিভ বুঝে উঠতে না পারায় এবং অধিক সাহসিকতার মাধ্যমে জঙ্গীদের ধরতে গিয়ে দুইজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এই মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
DSC01143 copyআপনার আরো জেনে থাকবেন- গত কয়েক মাস পূর্বে এই কুটনৈতিক এলাকায় তাবিলা নামে ইতালির এক নাগরিক সন্ত্রাসীর গুলিতে নিহত হয়। এ হত্যার পর নিশ্চয়ই সরকার জনমানুষের কার্যকর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। তা কী নেয়া হয়েছে?
এমনকি গত মে মাসে বিদেশী গোয়েন্দারা এদেশকে সতর্ক করে বলেছে কুটনৈতিক এলাকায় রমজানে জঙ্গীরা হামলা করতে পারে। এ ছাড়া হামলার দিন সকালে জঙ্গীদের ওয়েব সাইটে লিখেছে- আজ যে কোন সময় কুটনৈতিক পাড়ায় হামলা হবে। প্রচার মাধ্যম ও প্রকাশনায়, পত্র-পত্রিকায় এ বিষয়টা এসেছে। এ বিষয়ে সরকারের দায়িত্ব কী? কী ভূমিকা নিয়েছেন?
বেশ কিছুদিন যাবৎ টার্গেট ক্লিলিং হত্যা হচ্ছে। বিশেষ করে কয়েকজন খ্যাতনামা শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যা, বৌদ্ধ মন্দিরে নিরীহ পুরোহিতকে হত্যা, হিন্দু পুরোহিতকে হত্যা, মুক্তমনা ও সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে হত্যা করেছে। সরকার জঙ্গীদের এ ধরনের আক্রমণ এবং হত্যার হাত থেকে জনমানুষের জীবন রক্ষা ও দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে সরকার সারাদেশ থেকে জঙ্গী-সন্ত্রাসীদের নির্মূলের জন্য প্রায় ১৩ হাজার লোককে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার করে সরকার প্রচার করছে যে, জঙ্গী-সন্ত্রাসী নেই, এখন প্রায় জঙ্গী মুক্ত দেশ। আসলে কী তা হলো?
গত কিছুদিন পূর্বে মাদারীপুর নাজিমুদ্দিন কলেজের অধ্যাপক রিপন চক্রবর্তীকে হত্যার উদ্দেশ্যে কয়েকজন যুবক মিলে একত্র হয়ে আক্রমণ করে আহত করে পালিয়ে যাওয়ার সময় দুর্দান্ত সাহসের সহিত জনতা ‘গোলাম ফয়জুল্লাহ ফাহিম’ নামে এক সন্ত্রাসী জঙ্গীকে ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে।
DSC01146 copyজনতা আশা করেছিল- পুলিশ ফাহিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে এবং তার কাছে জানতে চাইবে যে একজন শিক্ষককে হত্যা করতে চেয়েছিল কেন? সে কোন সংগঠনের সাথে যুক্ত- তার পরিচয় কী? কে তাকে এ কাজে পাঠিয়েছে- তার কাছে যে অস্ত্র সেটা কীভাবে সংগ্রহ করেছে? তার খরচের টাকা যোগান দেয় কে? ইত্যাদিসহ তথ্য উপাত্ত জানবে। কিন্তু এর কিছুই জানা হলো না, প্রচলিত আইনের তার বিচার হলো না। বিধি-বিধানের তোয়াক্কা না করে তাকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হলো কেন? দেশবাসীর তা জানার অধিকার আছে।
আমাদের দল বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ আরো মনে করে- সংবিধানের ৩২নং অনুচ্ছেদ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী একজন নাগরিক তার কাজের নিশ্চয়তা, কথা বলার অধিকার, চলাফেরা ও সংগঠন করার স্বাধীনতা, নিরাপদে বসবাস করার জন্য সরকার তাকে নিরাপত্তা দিতে বাধ্য। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করা। অসাম্প্রদায়িক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু শ্রেণী বিভক্ত সমাজে, শোষণের পক্ষে সমাজ পরিচালিত হলে সবাই বাঙ্গালী হলেও সব নাগরিক সমান মর্যাদা, সমান অধিকার পায় না (যদিও প্রত্যেকের ভোটের ওজন সমান) তাই বুর্জোয়ারা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে- জনগণের দৃষ্টি অনদিকে সরিয়ে নেওয়ার কুটকৈৗশল চালায়- যার কারণে তাদের মধ্যে উগ্রতা, অহংকার, হীনমন্যতা, অপসংস্কৃতি গড়ে তোলা হয় এবং গড়ে উঠে। যার সুযোগ নিয়ে গনতন্ত্র/ মানবতা/ মূল্যবোধ/ বিজ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও যুক্তিবাদী পথের পরিবর্তে জঙ্গীবাদী সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মাধ্যমে ইহকাল বাদ দিয়ে পরকালের শান্তির আশায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।
এমতাবস্থায় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ও ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিসান রেস্তোরায় সন্ত্রাসী হামলায় দেশি-বিদেশি নারী-পুরুষ হত্যার বিচার এবং হামলাকারীদের সহযোগিতকারীদের পরিচয় প্রকাশের দাবি জানাই। একই সাথে রাজনীতিতে ধর্মের ব‌্যবহার আইন করে নিষিদ্ধ করার দাবি জানাই।