চাল রপ্তানির সিদ্ধান্ত হবে আত্মঘাতি – ব্যর্থ কৃষি মন্ত্রী ও বিরূপ মন্তব্যকারী খাদ্য মন্ত্রী অবিলম্বে পদত্যাগ করুন

চাল রপ্তানির সিদ্ধান্ত হবে আত্মঘাতি
ব্যর্থ কৃষি মন্ত্রী ও বিরূপ মন্তব্যকারী খাদ্য মন্ত্রী অবিলম্বে পদত্যাগ করুন
কৃষকের ধানের লাভজনক দাম নিশ্চিত করে কৃষক বাঁচানো ও অবিলম্বে পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধসহ ৯ দফা দাবি মেনে নিন

LDA-190519-1ধানের লাভজনক দাম নিশ্চিত করে কৃষক বাঁচানো ও অবিলম্বে পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশেধসহ ৯ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে বাম গণতান্ত্রিক জোটের উদ্যোগে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ ১৯ মে সকাল সাড়ে এগারটায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বাম জোটের সমন্বয়ক ও বাসদ নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাম জোটের কেন্দ্রীয় নেতা বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, সিপিবি সহকারী সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দন, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশাররফ হোসেন নান্নু, বাসদ (মার্কসবাদী) নেতা আ.ক.ম. জহিরুল ইসলাম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের নেতা জুলহাজ নাইন বাবু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির নেতা লিয়াকত আলী। সমাবেশ পরিচালনা করেন বাম জোট ঢাকা মহানগরের সমন্বয়ক ও বাসদ নেতা খালেকুজ্জামান লিপন।
সমাবেশে বক্তাগণ বলেন, দেশের মোট শ্রম শক্তির ৪১ ভাগ কৃষি খাতে নিয়োজিত জিডিপিতে কৃষির অবদান ১৪.৫% অথচ সেই কৃষক ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত। কৃষকরা দেশের ১৭ কোটি মানুষের আহার যোগায়। তারা দেশকে খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ করেছে। এত বড় কাজের জন্য তাদের পুরষ্কার পাওয়ার কথা অথচ সেই কৃষক মনের দুঃখে ক্ষোভে ধান ক্ষেতে ও ধানের বস্তায় আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে। সরকার মণ প্রতি দানের দাম ১০৪০ টাকা নির্ধারণ করলেও বাজারে ধানের দাম ৫০০-৫৫০ টাকা মণ। কৃষি অধিদপ্তর বলছে এক কেজি ধান উৎপাদনে খৃষকের খরচ হয় ১৭ টাকা, বাজারে বর্তমানে দাম ১ কেজি ১৩ টাকা। প্রতি কেজিতে ৪ টাকা লোকসান দিচ্ছে কৃষক। ১ বিঘা জমিতে কৃষকরা ৬৫০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান দিচ্ছে। সরকার ঋণখেলাপীদের, ব্যাংক মালিকদের, শিল্প মালিকদের ছাড় দিচ্ছে কিন্তু কৃষকদের লাভজনক দাম নিশ্চিত করতে সরকার কোন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। উল্টো খাদ্য মন্ত্রী বলেছেন কৃষকরা ষড়যন্ত্র করে ধানে আগুন লাগিয়েছে। তিনি বলেন তারা ২০০ টাকা দিয়ে বার্গার খেতে পারে কিন্তু চালের দাম ২ টাকা বেশি দিতে পারে না। অন্যদিকে কৃষিমন্ত্রী বলছেন ধানের দাম নিয়ে তার কিছু করার নেই।
বক্তাগণ বলেন, শুধুমাত্র খুলনা অঞ্চলের ৯টি পাটকল শ্রমিকদের ১২ সপ্তাহের মজুরি ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের ৩-৪ মাসের বকেয়া বেতন বাবদ পাওনা ৭৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা। কিন্তু ঐ ৯টি পাটকলে ৩২৫ কোটি টাকার উৎপাদিত পাট পণ্য মজুত আছে। ৯টি পাটকলের প্রতিদিনের উৎপাদন ক্ষমতা ২৭২ টন কিন্তু সেখানে প্রতিদিন উৎপাদন করা হচ্ছে ১০০.২৯ টন। এখানে প্রতিদিন যে ১৭২ টন কম উৎপাদন হচ্ছে, রাষ্ট্রের ক্ষতি হচ্ছে তার দায় দায়িত্ব কার। এ দায় শ্রমিকেরা কেন নেবে? মৌসুমে ১২০০/১৫০০ টাকা মণ দরের পাট সময়মতো না কিনে পরে ২৫০০/৩০০০ টাকা দিয়ে ব্যবসায়ী ও ফড়িয়াদের কাছ থেকে কেনার ফলে যে ক্ষতি হয় তার দায়িত্ব কেন শ্রমিকেরা নেবে। অর্থমন্ত্রণালয় কেন সময়মতো অর্থ ছাড় করে না। এসবই শাসক লুটেরাদের চক্রান্ত। ইতোমধ্যে খবর প্রকাশিত হয়েছে একটি চক্রান্তের অংশ হিসেবে সরকার পাটকলগুলো পিপিপি’র মাধ্যমে লুটেরা মালিকদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্যই পরিকল্পিতভাবে পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া বেতন না দেয়া ও মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন করছে না।
বক্তাগণ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে কৃষিমন্ত্রী কৃষকের জন্য কিছু করতে পারবে না বলেন তার ঐ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বে থাকার কোন নৈতিক অধিকার নেই। খাদ্য মন্ত্রীর কৃষক ও জনগণকে নিয়ে উপহাস ও বিরূপ মন্তব্য করার দায়ে অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।
বক্তাগণ অবিলম্বে প্রতিটি ইউনিয়নে ও হাটে সরকারি ক্রয় কেন্দ্র খুলে সরকার নির্ধারিত দামে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় করা এবং প্রতিটি উপজেলায়/ ইউনিয়নে খাদ্য গুদাম নির্মাণ করার দাবি জানান। বক্তাগণ বলেন, কৃষি মন্ত্রী বলেছেন সরকারের ধান ক্রয় নয় চাল রপ্তানি করলেই সমস্যা কিছুটা সমাধান হতে পারে। মন্ত্রীর এ বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন চাল রপ্তানি করলে এটা হবে আত্মঘাতি। এতে দেশে খাদ্য নিরাপত্তা বিঘিœত হবে।
বক্তাগণ সরকারের ভুলনীতি পরিহার ও দুর্নীতি বন্ধ করে পাটকল-পাট চাষীদের রক্ষা ও ধর্মঘটি পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া বেতনসহ ৯ দফা দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। একই সাথে পাটশিল্পের বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় পাটকল শ্রমিক, পাট চাষী ও দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য আহ্বান জানান।
সমাবেশে বক্তাগণ ধানের লাভজনক দাম নিশ্চিত করা এবং পাটকল শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নেয়া না হলে কৃষি মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য গুদাম ঘেরাও, অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারী প্রদান করেন।
LDA-190519-2সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রেসক্লাব, তোপখানা রোড হয়ে পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।