জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের মানববন্ধ, সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত

070516-SPF-Human Chainধানের দাম মণপ্রতি ১০০০/= টাকা নির্ধারণ, ধান, গমসহ কৃষি ফসলের লাভজনক দাম নিশ্চিত এবং
প্রতি ইউনিয়নে কমপক্ষে একটি সরকারি ক্রয় কেন্দ্র খুলে খোদ কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করার দাবি

ধানের দাম মণ প্রতি ১০০০/= টাকা নির্ধারণ, ধান, গমসহ কৃষি ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত এবং প্রতি ইউনিয়নে কমপক্ষে একটি সরকারি ক্রয় কেন্দ্র খুলে খোদ কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি রেটে ধান ক্রয় করার দাবিতে সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের উদ্যোগে ০৭ মে ২০১৬ সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন, সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
070516-SPF-Human Chain-1সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কৃষক নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি কমরেড জাহেদুল হক মিলু, বাসদ ঢাকা মহানগর শাখার সদস্য সচিব জুলফিকার আলী, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা শামসুন্নাহার জ্যোৎ¯œা, কৃষক ফ্রন্টের দপ্তর সম্পাদক নিখিল দাস, কৃষকনেতা বেলায়েত হোসেন, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী প্রমুখ।
070516-SPF-Miluসমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, এখন বোরো ধানের মৌসুম চলছে। সরকার ধানের কেজি ২৩ টাকা এবং চালের কেজি ৩২ টাকা নির্ধারণ করে ধান-চাল সংগ্রহের ঘোষণা দিয়েছে গত ৪ মে ২০১৬। সাধারণত ১ মণে ৩৭ কেজি হিসেবে ধানের দাম পড়ে ৮৫১ টাকা। কিন্তু এতে কৃষক লাভবান হচ্ছে না। কারণ সরকারি হিসেবেই এক মণ ধান উৎপাদনে কৃষকের খরচ পড়ে ৭৫০ টাকা। বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে ১ বিঘা জমিতে ধান উৎপাদন করতে জমি চাষ, প্রস্তুত করা, সেচ, বীজ, সার, কীটনাশক, রোপা, নিরানী, কাটা, মাড়াইয়ে মজুর খরচ, জমির লীজ ইত্যাদি বাবদ খরচ হয় কমপক্ষে ১৫০০০ টাকা; ধান উৎপাদন হয় সর্বোচ্চ ২০ মণ। ফলে উৎপাদনের খরচের সাথে ৪০% মূল্য সংযোজন করে দাম নির্ধারণ করলে কৃষক লাভবান হতো। বর্তমান বাজার দরের সাথে পাল্লা দিয়ে জীবন যাত্রার ব্যয় নির্বাহ করতে পারতো। সে হিসেবে ১০০০ টাকার কমে মণ প্রতি ধানের দাম নির্ধারণ করলে এটা কখনো কৃষকের জন্য লাভজনক হবে না।
070516-SPF-Rallyনেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার ঘোষণা করেছে খোদ কৃষকের কাছ থেকে ৭ লাখ টন ধান এবং ৬ লাখ টন চাল সংগ্রহ করবে। কিন্তু প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে ক্রয়কেন্দ্র না খুললে কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করবে কিভাবে? জেলা সদরে এসে সরকারি গুদামে কৃষককে ধান বিক্রি করতে হয়। এতে নানা ধরনের হয়রানীর শিকার হওয়ায় কৃষক আসেনা। একদিকে খাদ্য গুদামের কর্মকর্তারা বলছে কৃষকের ধান ভেজা, তাই কেনা যাবে না,অন্যদিকে সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্লিপের মাধ্যমে সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করছে। ফলে লাভবান হচ্ছে এই মধ্যসত্তভোগী ফড়িয়ারা। কৃষকদের কাছ থেকে চাল কেনা একটি ভাওতাভাজির ব্যাপার। চাল বিক্রি করে চাতাল মালিকরা। ফলে ধনি কৃষক ও চাতাল মালিকদের স্বার্থেই চাল কেনার এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ৭ লাখ টন ধান কিনে তেমন কিছুই হবে ন্ াকৃষকের কাছ থেকে ২০ লাখ টন ধান ক্রয় করতে হবে। ধান, গমসহ কৃষি ফসলের ন্যায্য দাম না পেয়ে কৃষক সর্বশান্ত হচ্ছে। ঋনের টাকার দায়ে তাদের পালিয়ে থাকতে হচ্ছে। অথচ সরকার নিজেদের কৃষক বান্ধব বলছে। এটি একটি হাস্যকর ব্যাপার। এছাড়া এবার বন্যায় সুনামগঞ্জ, সিলেটের হাওড়ের ফসল ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কৃষক ৫ ভাগের ১ ভাগ ফসলও তুলতে না পেরে ক্ষতির সম্মুখীন। হাওড়ের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে ভিজিডি, ভিজিএফ’র মতো প্রকল্প চালু এবং ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে নেতৃবৃন্দ সরকারের প্রতি দাবি জানান।
এছাড়াও গ্রামীণ দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ ভিজিডি, ভিজিএফসহ সকল গ্রামীণ প্রকল্পে দুর্নীতি বন্ধ করা, ক্ষেতমজুরদের বাঁচানোর জন্য ১২০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্প পুনরায় চালু এবং সামরিক বাহিনী রেটে রেশনিং চালুসহ কৃষক-কৃষি-ক্ষেতমজুরদের বাঁচাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি নেতৃবৃন্দ জোর দাবি জানান। একই সাথে কৃষি, কৃষক, ক্ষেতমজুরদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য কৃষক-ক্ষেতমজুরদের প্রতি আহ্বান জানান।