জোট-মহাজোটের বাইরে বাম বিকল্প শক্তি গড়ে তুলুন-যশোরে কমরেড খালেকুজ্জামান

spb-jessor-291216সর্বব্যাপী দূর্নীতি, গণতন্ত্রহীনতা, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট ও পাচার, ধর্মান্ধ জঙ্গিবাদ, সংখ্যালঘু নির্যাতন, সুন্দরবন তথা প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংশের প্রতিবাদে এবং শ্রমিক নেতা সৌমিত্র কুমার দাসের মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ এর উদ্দোগে ২৯ ডিসেম্বর বিকেল ৩টায় স্থানীয় দড়াটানার মোড়ে এক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান। জনসভায়  সভাপতিত্ব করেন বাসদ যশোর জেলা সমন্বয়ক কমরেড শাহজাহান আলী। আরো বক্তব্য রাখেন বাসদ  কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন, কুষ্টিয়া জেলা বাসদের আহবায়ক কমরেড সফিউর রহমান, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সম্পা বসু,  বাসদ ঝিনেদা জেলা কমিটির সমন্বয়ক কমরেড আসাদুল ইসলাম , বাসদ খুলনা জেলা কমিটির সমন্বয়ক কমরেড জনার্দন দত্ত নান্টু,  বাসদ জেলা কমিটির সদস্য কমরেড আব্দুল মালেক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রণ্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছাত্রনেতা রাসিব রহমান। শুভেচ্ছা  বক্তব্য রাখেন সিপিবি জেলা সাধারণ সম্পাদক এলাদাদ খান। জনসভা পরিচালনা করেন বাসদ জেলা কমিটির সদস্য কমরেড আক্কাছ আলী।

জনসভায় কমরেড খালেকুজ্জামান বলেন, আজ থেকে ৩৬ বছর আগে ১৯৮০ সালের ৭ নভেম্বর আমাদের দল বাসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল স্বাধীনতার ৮ বছর পরে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল এদেশে শ্রমিক রাজ-কৃষক রাজ কায়েম করা। কিন্তু স্বাধনতার ৪৫ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও স্বাধীনতার সেই চেতনা বাস্তবায়িত হয়নি। উপরন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ পরিচালিত না করায় দেশ ও জনগণ আজ ভয়াবহ সংকটে জর্জরিত। আজ মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নাই, কৃষক ফসলের দাম পায় না, শ্রমিক বাঁচার মত মজুরি থেকে বঞ্চিত। নারী-শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ক্রমেই বেড়ে চলেছে। শিক্ষা বাণিজ্যের এমন প্রসার ঘটেছে যে, সাধারণ মানুষের সন্তানেরা শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত। মাদক-অপসংস্কৃতি-অশ্লীলতা সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এমন ভাবে প্রবেশ করেছে যে, ছাত্র-যুব সমাজের নৈতিক অবক্ষয় চরমে পৌঁছেছে। এই অবস্থার কবল থেকে জাতিকে মুক্ত করতে প্রয়োজন শোষণমুক্ত সমাজ তথা সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা।

খালেকুজ্জামান আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল ধর্ম নিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক দেশ প্রতিষ্ঠা। আজ সারা দেশে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ১৯৭১ সালে জনগণ এই সাম্প্রদায়িক শক্তিকে পরাজিত করেছিল কিন্তু শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতায়, আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সেই পরাজিত শক্তি আজ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে দানবের রূপ নিয়ে। এই অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আর সমাজতন্ত্রের আদর্শই পারে এই অপশক্তিকে রোধ করতে।

তিনি বলেন, সাম্রাজ্যবাদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেই আমরা দেশ স্বাধীন করেছিলাম। কিন্তু আজ শোষক শ্রেণি সাম্রাজ্যবাদের সাথে গাঁটছড়া বেঁধে তাদের কাছে নতজানু হয়ে দেশি-বিদেশি লুটেরাদের হাতে জাতীয় সম্পদ-প্রাকৃতিক সম্পদ তুলে দিচ্ছে। ভারতের স্বার্থে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র করে সুন্দরবন ধ্বংসের চক্রান্ত করছে। পাবনার রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করে জনগণকে মৃত্যু মুখে ঠেলে দিচ্ছে গোবিন্দগঞ্জে সাওতালদের উপর রাষ্ট্রীয় দমন নিপীড়ন বন্ধ এবং তাদের ন্যায্য দাবী তাদেও ভূমি মালিকানা ফিরিয়ে দেয়ার দাবী জানান সেই সাথে আরো বলেন নাসির নগরে সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের নিরাপত্তা এবং ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ধনিক শ্রেণির স্বার্থে দেশ পরিচালনা করায় আজ এ অবস্থা হয়েছে। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের পথ কি? শ্রমিক শ্রেণির রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া শোষণ মুক্তি হবে না, এ অবস্থার পরিবর্তন হবে না।

খালেকুজ্জামান বলেন, আজ থেকে ৯৯ বছর আগে রাশিয়ায় মহান লেনিনের নেতৃত্বে পৃথিবীর বুকে প্রথম শ্রমিক শ্রেণির রাষ্ট্র সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো। রাশিয়া থেকে ভিক্ষুক, বেকরাত্ব,পতিতাবৃত্তি, নিরক্ষরতা দূর করেছিল সমাজতন্ত্র। ইউরোপের পিছিয়ে পড়া দেশ থেকে উন্নত দেশে পরিণত হয়েছিল রাশিয়া। সেই মহান সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের দেশেও শোষণমুক্তির লড়াই গড়ে তুলতে হবে। সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি সেই সংগ্রামে শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-জনতাকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাসদ-এর পতাকা তলে সমবেত হয়ে বাসদকে শক্তিশালী করে জোট-মহাজোটের বাইরে বাম বিকল্প শক্তি গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন বলেন,  গত ৩ বছরে দ্রব্যমূল্য, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির দাম, গাড়ি ভাড়া, বাড়ি ভাড়া বহুগুণ বৃদ্ধি পেলেও তার সাথে সমন্বয় করে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি না করাই যে শ্রমিক অসন্তোষের কারণ তা এড়িয়ে সরকার ও মালিক পক্ষ দমন-পীড়নের পথ অবলম্বন করেছে। একদিকে শ্রমিকদের কাজে যোগদান করার আহবান জানানো হচ্ছে । অপরদিকে মালিকরা বেআইনি প্রক্রিয়ায় কারখানা বন্ধের নোটিশ ঝুলিয়ে দিচ্ছে, শ্রমিকদের ছাঁটাই এবং তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করছে। শ্রমিক প্রতিনিধিদের আলোচনার নাম করে ডেকে নিয়ে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সাংগঠনিক সম্পাদক সৌমিত্র কুমার দাস সহ শ্রমিক নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সাংগঠনিক সম্পাদক সৌমিত্র কুমার দাস সহ শ্রমিক নেতাদের মুক্তি, মিথ্যা মামলা-দমন-নির্যাতন বন্ধ করার আহবান জানান।