ঠাকুরগাঁও এ বিজিবি’র গুলিতে ২ জন পথচারী ও ১জন এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় বাম জোটের তীব্র নিন্দা ও দোষীদের শাস্তি দাবি

BGB Kill-120219-Thakurgoanবাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের পক্ষ থেকে সংবাদপত্রে দেয়া এক বিবৃতিতে ঠাকুগাঁও এর হরিপুরে বিজিবি’র গুলিতে ৩ জন গ্রামবাসী নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে ঘটনার জন্য প্রকৃত দায়ীদের তদন্তপূর্বক চিহ্নিত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিজিবি বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী, তাদের কাজ সীমান্তে চোরাচালান বন্ধ করা এবং সীমান্তে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখা। কিন্তু ভারত সীমান্তে চোরাচালান বন্ধে তাদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। তাছাড়া গরু এমন জিনিস যে এটা লুকিয়ে আনা যায় না। ফলে সীমান্ত পার হওয়ার সময় গরু না ধরে দেশের অভ্যন্তর থেকে গরু আটকের ঘটনা উস্কানীমূলক কিনা তা তদন্ত করে দেখা দরকার।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ঘটনার পর তদন্ত ছাড়াই বিজিবি’র পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে নিহতদেরকে চোরাকারবারী উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ গুলিতে যারা নিহত হয়েছেন পত্রিকায় তাদের পরিচয় দেয়া হয়েছে ২ জন পথচারী ও ১ জন এসএসসি পরীক্ষার্থী। তদন্ত ছাড়াই নিহতদেরকে চোরাকারবারী উল্লেখ করা ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অশুভ চক্রান্ত।
বিবৃতিতে বলা হয়, সীমান্তে একদিকে বিএসএফ বাংলাদেশীদের অব্যাহতভাবে হত্যা করে চলেছে সেটা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গহণ করতে পারছেনা উপরন্তু বিজিবি নিজেরাও গুলি করে দেশের নাগরিকদের হত্যা করছে এটা মেনে নেয়া যায় না। নেতৃবৃন্দ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি ও নিহত-আহতদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন সিপিবি সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক কমরেড শাহ আলম, বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, বাসদ (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী, ইউসিবিএল এর সাধারণ সম্পাদক মোশারর হোসেন নান্নু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের হামিদুল হক।