ঢাকার ২ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত বাসদ-এর

SPB-বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির এক সভা আজ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ বেলা ৩টায় পার্টি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ ও কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন।
সভার এক প্রস্তাবে বলায় হয়, বিরোধী সকল রাজনৈতিক দল যখন ৩০ ডিসেম্বর ভোট ডাকাতির এক বছর ‘কালো দিবস’, ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ পালন করছে তখন সকলকে অপ্রস্তুত রেখে সরকার আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে তড়িঘড়ি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে, যাতে বিরোধী দলসমূহ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে।
প্রস্তাবে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন নির্বাচনকে একটা ব্যবসায়িক পণ্যে পরিণত করেছে। জামানতসহ নির্বাচনী ব্যয় সীমা এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যেখানে সাধারণ মানুষের প্রার্থী হওয়ার কোন সুযোগ নাই। মেয়র নির্বাচনে জামানত ১ লক্ষ টাকা এবং নির্বাচনী ব্যয় সীমা ৫০ লক্ষ টাকা নির্ধারণ করেছে। এতে একদিকে সাধারণ মানুষ যেমন নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না অপরদিকে ধনিরা অংশ নিয়ে ব্যয় সীমা লংঘন করে নির্বাচন করবে। কিন্তু কমিশন তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই গ্রহণ করতে পারবে না।
এছাড়া বিরোধীদের মতামত উপেক্ষা করে বিতর্কিত ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্তে কমিশন অটল রয়েছে। অথচ কয়েক দিন পূর্বে সিইসি বললেন সকল প্রার্থী না চাইলে ইভিএম ব্যবহার হবে না। আবার ২দিন পরেই বরিশালে গিয়ে বললেন নির্বাচন ইভিএম-এ হবে। এটা বলে বাস্তবে আবারও নিজেদের প্রশ্নবিদ্ধ করলেন।
এমনিতেই জনগণের মধ্যে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা নাই। কমিশনের নিজস্ব কার্যকলাপ এবং নির্বাচন পরিচালনা বিশেষ করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনের ভোট রাতে করার কূকীর্তি প্রচলিত ব্যবস্থায় আস্থার আর কিছুই অবশিষ্ট রাখেনি। তাই এখন ইভিএম আনা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ও সরকার জনগণের সাথে অতীতে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তার কোনটাই তারা রক্ষা করে নি। ফলে যারা জনসমর্থনহীনতার চাপে রয়েছেন এবং ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার জন্য যে কোন ঝুঁকি জালিয়াতি ও দমন পীড়নে অবিচল রয়েছেন, তারা জনআকাঙ্খা পূরণ কিংবা জনমতের প্রতিফলন ঘটাবেন কীভাবে? তাই বাসদ মনে করে আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন একচেটিয়া দখল, ভাগবাটোয়ারা বা ভোটের সংখ্যার নৈকট্য ইত্যাদি যাই করুক না কেন কোন ভাবেই সুষ্ঠু হবে না এবং ভোট জালিয়াতির আরেকটি নবসংস্করণ হবে মাত্র। এসব বিবেচনায় বাসদ নির্বাসিত গণতন্ত্রের নির্বাচনী আসরে শরীক না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সাথে বাসদের পক্ষ থেকে জনগণকে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ সকল গণতান্ত্রিক মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে বেগবান করার জন্য ঢাকাবাসীসহ দেশের সকল বাম-প্রগতিশীল দেশপ্রেমিক জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সভার অপর এক প্রস্তাবে গতকাল মন্ত্রীসভায় জ্বালানির দাম বছরে একাধিকবার সমন্বয় তথা বাড়াতে পারার যে আইন সংশোধন করে অনুমোদন দিয়েছে তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে এই গণবিরোধী সংশোধনী প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

Translate »