তুচ্ছ ঘটনায় গণহারে বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল করে কমিশন সরকারের ইচ্ছা বাস্তবায়ন করেছে-খালেকুজ্জামান

নির্বাচন কমিশন সকল প্রার্থীর সমসুযোগ সৃষ্টিতে উপর্যুপরি ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে
তুচ্ছ ঘটনায় গণহারে বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল করে কমিশন 
সরকারের ইচ্ছা বাস্তবায়ন করেছে-খালেকুজ্জামান
Haturi-kastey edited copyবাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান আজ ০৩ ডিসেম্বর সংবাদপত্রে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেন, বাছাইয়ে সংশোধনযোগ্য তুচ্ছ ঘটনায় গণহারে বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল করে কমিশন প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতের দিকে ঝুকে পড়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। নির্বাচনে ভোটারদের ভীতি শঙ্কা দূর করা ও প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টিতে কমিশন উপর্যুপরি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে চলেছে। বাস্তবে কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে মনোনয়ন জমা দেয়ার দিন ও পরে আচরণ বিধি লংঘণের কোন খবর তাদের কাছে নেই। এ ঘটনা প্রমাণ করে কমিশন ‘উটপাখী নীতি’ গ্রহণ করেছে। যে কারণে আচরণ বিধি লংঘণের কোন ঘটনা দেখতে পায় না।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারি দলের প্রার্থীরা, বর্তমান এমপি-মন্ত্রীরা প্রতিনিয়ত সাবেক মেজাজে চলাফেরা, শোডাউন, শোভাযাত্রা, সমাবেশ ইত্যাদির মাধ্যমে আচরণ বিধি লংঘণ করে চলছেন অথচ কমিশনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। অসংখ্য ঘটনা ঘটছে এবং ঢাকাসহ প্রত্যেক জেলায় যা আচরণ বিধির সুস্পষ্ট লংঘণ যার ছবি টেলিভিশন ও পত্র-পত্রিকায় তথা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। অথচ কমিশন নীরব। পক্ষান্তরে বাম গণতান্ত্রিক জোটসহ বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার, গায়েবী মামলা দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে নিত্যদিন।
বিবৃতিতে বলা হয়, গতকাল মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে কমিশন গণহারে বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল করে। রাজশাহীতে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের ঘটনা তার জলন্ত প্রমাণ। কমিশন থেকে জেলা রিটানিং কর্মকর্তার অফিসে পাঠানো তালিকায় নাকি বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের নাম বাংলাদেশ উল্লেখ আছে এবং নিবন্ধন নং ০১৭ এর স্থলে ১৬ লেখা আছে। ফলে প্রার্থীর উল্লেখিত নাম ও নিবন্ধন নং এর সাথে না মেলায় প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে। অথচ প্রার্থীর পক্ষ থেকে কমিশন থেকে দেয়া দলের নিবন্ধন সার্টিফিকেট এবং ওয়েব সাইটে নিবন্ধনের বিষয় দেখিয়ে বলা হয়েছে ক্রমিক নং আর নিবন্ধন এক নয় তার পরেও বাসদ প্রার্থী আলফাজ হোসেন-এর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এটা এক ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার। এমনকি নির্বাচন কমিশনে আপিল করার জন্য মনোনয়ন বাতিলের সার্টিফায়েড কপির জন্য গতকাল দরখাস্ত করে আজ সারাদিন ডিসি অফিসে অপেক্ষা করার পরও সার্টিফায়েড কপি দেয়া হচ্ছে না। বিবৃতিতে খালেকুজ্জামান এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও কমিশনের প্রতি দাবি জানান।
খালেকুজ্জামান বিবৃতিতে বলেন, নির্বাচন কমিশন তার কর্মকা-ের মাধ্যমে ক্রমাগত নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ এবং নির্বাচনী পরিবেশকে বিঘিœত করছে। একজন নির্বাচন কমিশনারের বিরোধিতা ও বিরোধী দলসমূহের আপত্তির পরও বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তাকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে যার বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ ছিল তাকে নারায়ণগঞ্জে নিয়োগের অনুমতি দিয়ে কমিশন জনগণের কাছে নিজেদেরকে সরকারের ইচ্ছা পূরণের কারিগর হিসেবে নিজেদেরকে তুলে ধরেছে।
বিবৃতিতে খালেকুজ্জামান বলেন, নির্বাচন কমিশনের আচরণে ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারির নির্বাচনের মতো পরিবেশ তৈরি করছে কিনা জনমনে এ সন্দেহ সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে বিতর্কিত ভূমিকা ছেড়ে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের জন্য কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে অবাধ-সুষ্ঠু-গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির জন্য কমিশনকে বাধ্য করতে দেশপ্রেমিক গণতন্ত্রকামী জনগণের প্রতি সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।