দেশকে চূড়ান্তভাবে গণতন্ত্রহীন করতে বিদেশি শক্তির অনুপ্রবেশের পটভূমি তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে

100716-SPB-CPB-1“টার্গেট কিলিং, গুপ্তহত্যা, সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র, লুটপাটে বিপন্ন স্বদেশ! রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ”-এই শ্লোগানকে ধারণ করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ-এর আহ্বানে দেশব্যাপী ‘প্রতিরোধ দিবসে’ আজ ১০ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ-সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিপিবি’র সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন বাসদ-এর সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাসদ-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ। সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাড. সুব্রত চৌধুরী।100716-SPB-CPB-MI Selimসভাপতির ভাষণে কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, দেশে এখন সন্ত্রাস, অনিশ্চয়তা, আতঙ্ক আর ভয়ানক পরিস্থিতি চলছে। দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র চলছে। বিদেশি শক্তিকে আমন্ত্রণ জানানোর পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। বর্তমান গণতন্ত্রহীনতার পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে দেখিয়ে চূড়ান্তভাবে গণতন্ত্রহীন করতে বিদেশি শক্তির অনুপ্রবেশের পটভূমি তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে। 

সমাবেশে কমরেড সেলিম আরো বলেন, দেশের অস্তিত্ত্বের ওপর আঘাত আসার অশনি সংকেত দেখা যাচ্ছে। কেউই আজ রক্ষা পাচ্ছে না। উগ্র সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীরা নানা নামে তাদের তৎপরতা চালাচ্ছে। তাদের উপরে ছাতা ধরে আছে জামাত। আমেরিকা এসব শক্তিকে টিকিয়ে রাখছে। জামাতকে কেন নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না? সরকার প্রকৃত ভূমিকা পালন করছে না। বিএনপি জামাতকে ছাড়ছে না। বুর্জোয়া দলগুলোর ক্ষমতার খেলার কাছে জাতির অস্তিত্ত্বের প্রশ্ন আজ জিম্মি। আমেরিকা নিজেরাই সন্ত্রাস সৃষ্টি করে তা দমনের নামে বাংলাদেশে সেনা পাঠাতে চাইছে। ষোল কোটি মানুষকে নামতে হবে। পাড়া-মহল্লায় সকলকে সংগঠিত হতে হবে।
সমাবেশ থেকে কমরেড সেলিম আগামী ১৫ জুলাই থেকে ১৪ আগস্ট ‘প্রতিরোধ মাস’ ঘোষণা করেন। এই মাসে গ্রামে-গঞ্জে, পাড়া-মহল্লায় প্রতিরোধ-সমাবেশ করা এবং প্রতিরোধ ব্রিগেড গঠনের আহ্বান জানান।
100716-SPB-CPB-Khalequzzamanসমাবেশে কমরেড খালেকুজ্জামান বলেন, জঙ্গি হামলার আন্তর্জাতিক ও জাতীয় প্রেক্ষিত রয়েছে। সারা পৃথিবীতে অশান্ত পরিস্থিতি চলছে। সাম্রাজ্যবাদের এক নম্বর ব্যবসা হচ্ছে অস্ত্র ব্যবসা। সম্পদ লুট ও দখল করার জন্য সাম্রাজ্যবাদ বিভিন্ন দেশে হামলা করছে। ইরাক দখলের মিথ্যা অজুহাত ফাঁস হয়ে গেছে। সাম্রাজ্যবাদের মদদ দিয়ে নানা উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সৃষ্টি করছে। এরপর তাদের দমন করার নামে বিভিন্ন দেশে হামলা চালাচ্ছে।
কমরেড খালেকুজ্জামান আরো বলেন, যে চেতনা-আকাক্সক্ষা নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, তা থেকে দেশ বিচ্যুত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে দেশ চলছে। আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ভুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ধর্মের নামে ভয়ানক রাজনৈতিক ব্যবসা চলছে। ভয়াবহ মাত্রায় লুটপাট চলছে। দুর্বৃত্তদের হাতে রাজনৈতিক ক্ষমতা চলে গেছে। অর্থনৈতিক বৈষম্য যত বাড়ছে, সামাজিক ভারসাম্য তত নষ্ট হচ্ছে। সর্বত্র পচন ধরেছে। সবকিছু ভেঙে পড়ছে। রাষ্ট্র এখন বিচারবহির্ভুত হত্যাকা- চালাচ্ছে। এই অবস্থায় বাম-প্রগতিশীলদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
অ্যাড. সুব্রত চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ধারার নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিন্তু সরকার ঘুমাচ্ছে আর বিভ্রান্তিমূলক কথা-বার্তা বলছে। জঙ্গিদের আড়াল করার জন্য ‘ক্রসফায়ার’ নাটক করা হচ্ছে। এভাবে বিচার বিভাগকেও ধ্বংস করা হচ্ছে।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল ঢাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরানা পল্টনে এসে শেষ হয়।