নদী-পানি-জাতীয় স্বার্থ রক্ষা আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

নদী-পানি-জাতীয় স্বার্থ রক্ষা আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত ভারতের আগ্রাসী নীতি রুখে দাঁড়ানো এবং তিস্তাসহ অভিন্ন ৫৪ নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবিতে সোচ্চার হোন

Pic Nodi Pani -12032020-1‘নদী-পানি-জাতীয় স্বার্থ রক্ষা আন্দোলন’ এর উদ্যোগে আজ ১২ মার্চ ২০২০ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে এগারটায় জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ‘নদী-পানি-জাতীয় স্বার্থ রক্ষা আন্দোলন’এর সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, ডাক্তার জাফরউল্লা চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী, নদী ও পানি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ম. এনামুল হক, কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু। সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য রাখেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, ডাকসু ভিপি নূরুল হক নূর, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আকবর খান, কমিউনিস্ট লীগের অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, বিশিষ্ট রাজনীতিক শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির মোশরেফা মিশু, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের হামিদুল হক, গরীর মুক্তি আন্দোলনের  সামছুজ্জামান মিলন, সমাজতান্ত্রিক মজদুর পার্টির সামছুল আলম, ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী)র সিরাজুম মুনীর, গণ দলের গোলাম মাওলা চৌধুরী, স্বাধীনতা পার্টির ফয়েজ হোসেন, মানবিক রাষ্ট্র আন্দোলনের রফিকুল ইসলাম পথিক, নাগরিক পরিষদের মোঃ সামছুদ্দিন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সহ-সভাপতি আবদুর রাজ্জাক, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শম্পা বসু, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সোনার বাংলা পার্টির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ, গণসংহতি আন্দোলনের বাচ্চু ভুইয়া, জুলহাজ নাইন বাবু প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, নদীর সমস্যা রাজনৈতিক, প্রাকৃতিক নয়। বহু আগেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর মুক্ত ধারা ও রক্তকরবী নাটকে নদীর সমস্যা তুলে ধরেছিলেন, সৈয়দ ওয়ালিউল্লা তাঁর তিনটি উপন্যাস লাল সাবুজ, চাঁদের সমস্যা, কাঁদো নদী কাঁদো তে নদীর সমস্যা উল্লেখ করে বলেছেন নদী কাঁদছে, নদীর মরছে, ফেরী ঘাট সরে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদীরা নদী-পানিসহ দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। মৌলানা ভাসানী ফারাক্কাসহ নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে লংমার্চসহ বিভিন্ন আন্দোলন করেছেন। তিনি বলেন, নদী পানির সাথে আমাদের সমুদ্র ও তার সম্পদ নিয়ে আন্দোলনের কথাও এ কমিটিকে ভাবতে হবে। নদীর সংকটের কারণ কি, সমাধানে করণীয় কি তা জনগণকে জানানোর জন্য প্রকাশনা লাগবে, এটা শুধু ভারত-বাংলাদেশের সমস্যা নয় তাই আমাদের অধিকারের দাবি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে হবে। Pic Nodi Pani -12032020-3কমরেড খালেকুজ্জামান বলেন, আমাদের ৫৭ নদী বিদেশ থেকে এসেছে এর মধ্যে ৫৪টি ভারত হয়ে এসেছে। এসব নদী ভারতে উৎপত্তি নয়, কোনটা চীনে, কোনটা বার্মা, নেপালে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী একাধিক দেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত নদী আন্তর্জাতিক নদী হিসেবে গণ্য হয়। ফলে উজানের দেশ ভাটির দেশকে বঞ্চিত করে একতরফা পানি প্রত্যাহার করতে পারে না। অথচ ভারত আমাদের বঞ্চিত করে একতরফা পানি প্রত্যাহার করে আইন লংঘন করছে। তিনি বলেন, তিস্তা চুক্তি নিয়ে মনমোহন সিং, নরেন্দ্র মোদি উভয়ে আমাদেরকে ছেলে ভোলানো আশ্বাস দিয়ে তাদের স্বার্থ হাসিল করে নিচ্ছে। তারা বলছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তিস্তার পানি চুক্তিতে রাজী হচ্ছে না। এটা যে খুবই খোড়া যুক্তি এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে তারা একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে মর্যাদা দিতে চায় না। কারণ ভারতের সংবিধানের ২৫৩ অনুচ্ছেদে বলা আছে কোন দেশের সাথে চুক্তি করতে কেন্দ্রীয় সরকারই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তিনি বলেন, ভারতকে অনেকে বন্ধু রাষ্ট্র বলেন, বন্ধু রাষ্ট্রের নমুনা কাটা তারের বেড়া, সীমান্তে হত্যা, উপকূলে রাডার স্থাপন, বাণিজ্য ঘাটতি দূর না করা। তিনি ভারত কর্তৃক পানি প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশের যে ক্ষতি হয়েছে তার জন্য ভারতের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি করেন । লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ভারতের আগ্রাসন ও অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বাংলাদেশকে ভারত বঞ্চিত করছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের জনগণ চুপ করে বসে থাকতে পারে না। লক্ষ লক্ষ শহীদের জীবনদানের বিনিময়ে অর্জিত একটি দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা কতিপয় নেতা-নেত্রী বা দু-চারটি রাজনৈতিক দলের সংকীর্ণ স্বার্থবুদ্ধির কাছে আমরা বিসর্জন দিতে পারি না। এমতাবস্থায় আমাদের নদী পানিসহ সকল প্রকার ন্যায্য অধিকার আদায় এবং দেশের সার্বভৌমত্ব হরণের চক্রান্তের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক শক্তি ও শাসক শ্রেণির বাইরে সকল দল মত নির্বিশেষে যারা ঐক্যবদ্ধভাবে পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী তাদেরকে সাথে নিয়ে আমরা এ অবস্থার পরিবর্তন করতে চাই। লিখিত বক্তব্যে আরও কেবলমাত্র অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক চেতনা সম্পন্ন দেশপ্রেমিক সকল মানুষের দৃঢ় ঐক্যই এক্ষেত্রে আমাদের কাক্সিক্ষত সাফল্য এনে দিতে পারে। তাই আমরা মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক শক্তি ও শাসক শ্রেণির বাইরে সকল দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের দেশপ্রেমিক জনগণকে আজ মাতৃভূমির নদী-পানি-জাতীয় স্বার্থ তথা অস্তিত্ব রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাই। Pic Nodi Pani -12032020-5উল্লেখ্য ৩০টি রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিভিন্ন বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, নদী ও পানি বিশেষজ্ঞসহ ব্যক্তিবর্গ প্রাথমিকভাবে এই ‘নদী-পানি-জাতীয় স্বার্থ রক্ষা আন্দোলন’ এর সাথে যুক্ত হয়ে এই আন্দোলনের সংস্থা গড়ে তুলেছেন। বাস্তবে এটা একটা জাতীয় আন্দোলন সাম্প্রদায়িক শক্তি ও শাসক শ্রেণির দলের বাইরে সকল রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গ সকলে মিলে এই আন্দোলন এগিয়ে নিতে হবে। ফলে দল, মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের সকল জনগণ নদী-পানি-জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় এগিয়ে আসবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে আশা প্রকাশ করা হয়। উল্লেখিত সংগঠনসমূহের প্রতিনিধি ও ব্যক্তিদের নিয়ে ‘নদী-পানি-জাতীয় স্বার্থ রক্ষা আন্দোলন’ জাতীয় কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটির দৈনন্দিন কার্য পরিচালনার জন্য একটি ১১ সদস্যের স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে জনাব নঈম জাহাঙ্গীর দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি সকলের সাথে সমন্বয় করে কার্যপরিচালনা করবেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে নিন্মোক্ত কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়া হয়। ১) বাংলাদেশের নদ-নদীর পানি প্রবাহ, সংকট ও সমাধানে করণীয় বিষয়ে জাতীয় সেমিনার। ২) নদী-পানি-জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ঢাকায় গণকনভেনশন। ৩) পদ্মা, তিস্তা, ফেনীসহ অভিন্ন নদীর সংশ্লিষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত অববাহিকা-এলাকা অভিমুখে লংমার্চ/ গণঅভিযাত্রা আগামী ১৬ মার্চ ২০২০ সেমিনারটি অনুষ্ঠানের তারিখ নির্দিষ্ট ছিল। কিন্তু বিশ্বব্যাপী করোনো ভাইরাসের আক্রমণে মহা আতংকের পরিবেশ বিরাজ করায় ঐ কর্মসূচিটি স্থগিত করা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে অচিরেই উপরোক্ত তিনটি কর্মসূচির সুনির্দিষ্ট তারিখ ও সময় ঘোষণা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনের পুরো বক্তব‌্য নিচে যুক্ত করা হলো:-

নদী-পানি-জাতীয় র্স্বাথ রক্ষা আন্দোলন

প্রিয় দেশবাসী, আপনারা জানেন বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। অর্থাৎ আমরা সবাই যেমন মায়ের পেট থেকে জন্ম নিয়েছি, বাংলাদেশ তেমনি নদীর পেট থেকে পলি বধিৌত হয়ে জন্ম নিয়েছে। বাংলাদেশের আরেক নাম ভাটির দেশ। আমাদের উজানে ভারত, নেপাল, ভুটান, চীন এই সব দেশ আছে, কিন্তু আমাদের ভাটিতে আর কোনো দেশ নাই। আমাদের ভাটিতে আছে বঙ্গোপসাগর। নদীর পলি থেকে জন্মানো বলে এবং আমাদের ভাটিতে সমুদ্র থাকায় আমাদের প্রাণ-প্রকৃতি জীববৈচিত্র্য, জীবনধারা ও জীবিকা যতোটা স্রোতস্বিনী নদীর সাথে সম্পর্কিত আমাদের উজানের দেশসমূহ তেমন নয়। ভুটানের নদীতে ¯্রােত না থাকার আর আমাদের নদীতে ¯্রােত না থাকর পরিণাম একরকম না। আমাদের নদীর ¯্রােত সমুদ্রের লবণাক্ততাকে ঠেলে সমুদ্রের অভ্যন্তরে পাঠায় বলে আমাদের উপকূলের জীববৈচিত্র্য টিকে আছে। এইসব নদীর ¯্রােত হ্রাস পেলে কিংবা বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাবে। ইতোমধ্যেই ফারাক্কার প্রবাহ হ্রাস পাওয়ায় বিশ্বের একমাত্র ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

বন্ধুগণ, আপনারা জানেন বঙ্গোপসাগর থেকে হিমালয় পর্যন্ত যে মৌসুমী বায়ু বয়ে যায়, তার কারণে এ অঞ্চলের বৃষ্টিপাত ও পাহাড়-পর্বতের বরফ গলে যে ¯্রােতধারা তৈরী হয়েছে, তা-ই মিলিতভাবে নদী হয়ে বঙ্গোপসাগরে এসে পতিত হয়েছে। উজান থেকে বয়ে আসা ৫৭টি নদীকে (এর মধ্যে ভারতের ৫৪টি) বাংলাদেশ এবং ভারত আন্তর্জাতিক নদী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আমাদের অভ্যন্তরীণ যে শত শত নদ-নদী রয়েছে তার অধিকাংশের প্রবাহও এইসব আন্তর্জাতিক নদ-নদীর প্রবাহের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু ভারত বহু দনি যাবত তাদের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনের কথা বলে এইসব নদীর পানি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় একতরফাভাবে প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা এমন-সব প্রকৃতি-বিরোধী কর্মকা-ে লিপ্ত থাকে, যা এইসব নদীর অনেকগুলোকে ইতোমধ্যে ধ্বংস করে ফেলেছে এবং আরো বহু নদীকে ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে ফেলছে। তিস্তা এক্ষেত্রে এক ভয়াবহ ও বিপজ্জনক উদাহরণ।

প্রিয় দেশবাসী, মজলুম জননতো মওলানা ভাসানী এই ভয়াবহ ও বপিদজনক পরস্থিতিি অনকে আগইে উপলব্ধি করতে পরেছেলিনে। এই প্রক্ষেতিইে তার নতেৃত্বে ১৯৭৬ সালে ঐতহিাসকি ফারাক্কা লং র্মাচ অনুষ্ঠতি হয়ছেলিো। এই লংমার্চ ফারাক্কা চুক্তরি ক্ষেত্র তৈরি করছেলি । ফারাক্কার পানি-প্রবাহ নিয়ে চুক্তি থাকা সত্ত্বেও চুক্তি অনুযায়ী কখনোই পানি না দেওয়া, গ্যারান্টি ক্লজ না থাকা, তিস্তার মতো আর্ন্তজাতিক নদী সম্পূর্ণরূপে বেঁধে ফেলা, ফেনী নদী থেকে একতরফাভাবে খাবার পানির নাম করে পাম্প দিয়ে অবৈধভাবে পানি তুলে নিয়ে সেচকাজে ব্যবহার করা (গত ৫ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শখে হাসনিা এক চুক্তিতে অবধৈ পানি প্রত্যাহারকে বৈধতা দিয়েছেন), প্রবাহমান নদীগুলোতে অনিয়ন্ত্রিত শিল্পবর্জ্য নিঃস্বরণের মাধ্যমে দূষণ ও আন্তর্জাতিক রীতিনীতি উপেক্ষা করাসহ ভারত বহুক্ষেত্রে পানি আইনের বরখেলাপ করে চলেছে। বাংলাদেশের জন্য ভারতের সবচাইতে ভয়াবহ প্রকল্প ‘আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প’ বা রিভার লিংকিং প্রজেক্ট। ভারতীয় সুপ্রীম কোর্ট পর্যন্ত এই প্রকল্পের অনুমোদন দিয়ে রেখেছে, যা সম্পূর্ণরূপে প্রাণ-প্রকৃতি ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। এই প্রকল্পের মাধ্যমে হিমালয় অববাহিকার পানিকে খরাপ্রবণ পেনিনসুলার অববাহিকায় নিয়ে যাবার যে উদ্যোগ তা ভারত-সরকার ধাপে-ধাপে বাস্তবায়ন করে চললেও বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে এখন পর্যন্ত এসব বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে চলেছে। এমনকি ভাটির দেশের নদী-পানির অধিকার সংরক্ষণের জন্য জাতিসংঘ যে আন্তর্জাতিক আইনটি পাশ করেছে, বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে তার অনুমোদন বা অনুস্বাক্ষর পর্যন্ত করেনি আজও। উজানের দশে ভারতরে একতরফা পানি প্রত্যাহাররে সাথে যুক্ত হয়ছেে দশেরে অভ্যন্তরে নদী-খাল-বলি- জলাশয়রে অবধৈ দখল-দুষণের ভয়াবহ নানা তৎপরতা। রাষ্ট্র ও সরকার এবং তাদরে ছত্রছায়ায় থাকা নানা চক্র ও ভূমিগ্রাসী দখলদাররে দৌরাত্বে আমাদরে নদী-খাল-বলি মৃত বা মৃতপ্রায়।

প্রিয় বন্ধুগণ, একটি দেশের নিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্ব এখন শুধুমাত্র সামরিক ক্ষমতা বা কর্তৃত্ব দিয়ে রক্ষা করা যায় না। বর্তমান বিশ্বে খাদ্য নিরাপত্তা, পানি নিরাপত্তা ইত্যাদি প্রশ্ন সার্বভৌমত্বের ক্ষেত্রে সামরিক শক্তির চেয়েও অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আপনারা জানেন, আমাদের কৃষি উৎপাদন তথা খাদ্য নিরাপত্তা সম্পূর্ণরূপেই নদী-পানির প্রয়োজনীয় প্রবাহের নিশ্চয়তার সাথে সম্পর্কযুক্ত। নদী-পানির সুব্যবস্থা ছাড়া ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না।

প্রিয় দেশবাসী, প্রত্যেক রাষ্ট্র তার নিজের স্বার্থে এবং তার দেশের জনগণের স্বার্থে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে এমন সবগুলি দলই এমনভাবে ভারতরে কাছে নতজানু হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, এতে মনে হয় তারা দেশের ওপর এবং দেশের জনগণের সমর্থনের ওপর ভরসা করতে পারে নাই। অধিকাংশ সময়ই তারা কোনো-না কোনো বিদেশী শক্তির সাথে আপোস করে তাদের অনুগ্রহে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে রাষ্ট্র পরিচালনা করে আসছ।েশাসকগোষ্ঠী নিজেদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার লোভে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়েছে। তারা শুধু আমাদের জাতীয় র্স্বাথ ও রাষ্ট্রীয় অধিকার জলাঞ্জলি দিয়েছে এমন নয়, তারা এমনভাবে আইন-কানুন-চুক্তি সম্পাদন করেছে, যাতে আমাদের জাতীয় র্স্বাথ ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব এখন নানা দকি থকেে হুমকির মুখে পড়েছে। এরকম অনেকগুলি চুক্তির মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্নকারী সাম্প্রতিক ভারতের সাথে উপকূলে রাডার বসানোর যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে তার কথা তুলে ধরা যায়। এইসব চুক্তির মাধ্যমে তারা একদিকে যেমন দেশকে ভয়াবহ বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে, অন্যদিকে স্বাধীন দেশের একটি সরকার হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে ন্যূনতম মর্যাদাটুকু পাওয়ার কথা ছিল তাও পাচ্ছে না। নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সাথে জাতীয় স্বার্থে সাধারণ যে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক দরকষাকষির ক্ষমতা থাকতে হয় সরকার তাও হারিয়ে ফেলেছে। বন্ধুগণ, এমন একটি পরিস্থিতিতে দেশের জনগণ চুপ করে বসে থাকতে পারে না। লক্ষ লক্ষ শহীদের জীবনদানের বিনিময়ে অর্জিত একটি দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা কতিপয় নেতা-নেত্রী বা দু-চারটি রাজনৈতিক দলের সংকীর্ণ স্বার্থবুদ্ধির কাছে আমরা বিসর্জন দিতে পারি না। এমতাবস্থায় আমাদের নদী পানিসহ সকল প্রকার ন্যায্য অধিকার আদায় এবং দেশের সার্বভৌমত্ব হরণের চক্রান্তের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক শক্তি ও শাসক শ্রেণির বাইরে সকল দল মত নির্বিশেষে যারা ঐক্যবদ্ধভাবে পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী তাদেরকে সাথে নিয়ে আমরা এ অবস্থার পরিবর্তন করতে চাই। আমরা জানি কেবলমাত্র অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক চেতনা সম্পন্ন দেশপ্রেমিক সকল মানুষের দৃঢ় ঐক্যই এক্ষেত্রে আমাদের কাক্সিক্ষত সাফল্য এনে দিতে পারে। তাই আমরা মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক শক্তি ও শাসক শ্রেণির বাইরে সকল দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের দেশপ্রেমিক জনগণকে আজ মাতৃভূমির নদী-পানি-জাতীয় স্বার্থ তথা অস্তিত্ব রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাই।

(নঈম জাহাঙ্গীর) সদস্য সচিব নদী-পানি-জাতীয় স্বার্থ রক্ষা আন্দোলন

Translate »