নারীর মানবিক মর্যাদা ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন গড়ে তুলুন

৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ডাক
‘বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭’ এর বিশেষ বিধান (১৯ নং ধারা) বাতিল কর
নারী-শিশু নির্যাতন বন্ধ কর
নারীর মানবিক মর্যাদা ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন গড়ে তুলুন
IMG_9603 - Copyআন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর উদ্যোগে আজ ৮ মার্চ ২০১৭ বুধবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে র‌্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শম্পা বসু এবং পরিচালনা করেন সংগঠনের সদস্য রুখসানা আফরোজ আশা। সভায় বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য সামসুন্নাহার জ্যোৎস্না, নারায়নগঞ্জ জেলা শাখার সংগঠক জেসমিন আক্তার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এর ঢাকা নগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মুক্তা বাড়ৈ, ইডেন কলেজ শাখার সভাপতি নবীনা আক্তার, নারায়নগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি সুলতানা আক্তার।
বক্তাগণ বলেন, আন্তর্জাতিক নারীদিবসের চেতনার মূলে ছিল নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং শোষণ-বৈষম্যহীন সাম্য সমাজ গড়ার আহ্বান। নারীদিবস ঘোষণার ১০৭ বছর পর ও মুক্তিযুদ্ধের ৪৬ বছর পরেও আমাদের দেশের নারীরা সমাজিক-পারিবারিক জীবনের অনেক ক্ষেত্রে সম-অধিকার থেকে বঞ্চিত। এখনও সম্পত্তির উত্তরাধিকারে নারীর সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা পায়নি। প্রায় সকল অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের নারী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে ‘সমকাজে সমমজুরি’ আইনে থাকলেও তার বাস্তবায়ন নেই। অন্যদিকে প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে নারী নির্যাতনের ধরণ এবং নির্যাতিতের সংখ্যা। পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা ও পুঁজিবাদী ব্যবস্থা সৃষ্ট ভোগবাদী দৃষ্টিভঙ্গীর কারণে ঘরে-বাইরে নারী নিত্যদিন বহুমুখী নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।
বক্তাগণ বলেন, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সংসদে ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭’ পাস হয়। এই আইনের ১৯ ধারায় বলা হয়েছে ‘এই আইনের অন্যান্য বিধানে যা কিছু থাকুক না কেন, কোন বিশেষ প্রেক্ষাপটে অপ্রাপ্তবয়স্কের সর্বোত্তম স্বার্থে আদালতের নির্দেশক্রমে এবং মাতা-পিতার বা প্রযোজ্যক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতিক্রমে বিধি দ্বারা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিয়ে সম্পাদিত হলে তা এই আইনের অধীন অপরাধ বলে গণ্য হবে না।’ অর্থাৎ এই আইনের মধ্য দিয়ে শিশুর বিয়ে বৈধতা পাবে।
‘বিশেষ প্রেক্ষাপট’ কী এবং কত কম বয়সে বিয়ে করা যাবে বা বাবা-মা ছাড়া আর কারা অভিভাবকত্ব দাবি করতে পারবেন তা এই আইনে স্পষ্ট করা হয়নি। আইনে উল্লেখ না থাকলেও, ধর্ষণের শিকার হয়ে বা প্রেমের সম্পর্কের কারণে মেয়ে শিশুর অন্তসত্ত্বা হয়ে পড়াকে বিশেষ ক্ষেত্রে আইনের বিশেষ বিধান রাখার পক্ষে যুক্তি করেছেন সরকার। সেক্ষেত্রে মনে হচ্ছে ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করে ধর্ষিতার সাথে বিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজছে সরকার।
সম্প্রতি সরকার নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ আইন (সিডও সনদ) এর দুটি ধারা থেকে আপত্তি তুলবে না বলে জানিয়েছে। এর ফলে সম্পত্তির উত্তরাধিকার, বিবাহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ ও অভিভাবকত্বের ক্ষেত্রে নারীরা সমান অধিকার পাবেন না।
পোশাকশিল্পে শতকরা ৮০ ভাগই নারী শ্রমিক। ২০১৩ সালে অনেক আন্দোলন-সংগ্রামের পর তাদের ন্যূনতম বেতন বেড়ে হয়েছিল ৫ হাজার ৩০০ টাকা। এই ৩ বছরে বাড়িভাড়া বেড়েছে, দ্রব্যমূল্য বেড়েছে কিন্তু বেতন তো বাড়েনি! এই রাষ্ট্র এই সমাজ নারীদের ন্যূনতম যে মানবিক অধিকার তাই দেয় না; সম-অধিকার তো আরও দূরের কথা!
সমাবেশে বক্তারা বলেন, পুঁজিবাদ মানুষের অসহায়ত্ব, মানুষের আবেগ-অনুভূতি-মূল্যবোধ, নারীর মর্যাদা, নারীর শ্রম-সৌন্দর্য সকল কিছু নিয়েই ব্যবসা করছে। তাই নারীকে একই সাথে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বিরুদ্ধে এবং এই পুঁজিবাদী বৈষম্যমূলক সমাজ ভাঙ্গার লড়াইয়ে শামিল হতে হবে। সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াইকে সাম্য সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের সাথে যুক্ত মনে করে। কোন একটা সমাজ ও রাষ্ট্রে নারী কতখানি অধিকার ও মর্যাদা পেয়ে থাকে তার উপর নির্ভর করে ঐ সমাজ বা রাষ্ট্র কতটুকু গণতান্ত্রিক। তাই এ লড়াই নারী-পুরুষ উভয়েরই।