নারী-শিশু ধর্ষণকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে মিছিল ও সমাবেশ

নারী-শিশু ধর্ষণকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে
সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

p-2নারী-শিশু ধর্ষণকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে এবং ধর্ষণের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর উদ্যোগে আজ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নারী সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রওশন আরা রুশোর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শম্পা বসুর পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মহিলা ফোরাম এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক দিলরুবা নূরী, নারীনেত্রী ইসরাত জাহান লিপি, নারীনেত্রী জেসমিন আক্তার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা নগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মুক্তা বাড়ৈ।
p1বক্তাগণ বলেন, সারাদেশে নারী-শিশু নির্যাতন-ধর্ষণ-হত্যা বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন পত্রিকা খুললেই খুন-ধর্ষণ-অপহরণ-নির্যাতনের ঘটনা। একটি নির্যাতনের ঘটনা বিভৎসতায়, বর্বরতায় আগেরটিকে ছাপিয়ে যাচ্ছে। আমাদেরও যেন গাঁ সওয়া হয়ে যাচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম ৩৩ দিনেই শুধুমাত্র একটি পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী ৪৪টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। গত পাঁচ বছরে (২০১৪-২০১৮) ধর্ষণ ও ধর্ষণজনিত হত্যার শিকার হয়েছে অন্তত প্রায় ৪ হাজার নারী-শিশু। তাদের ৮৬শতাংশই শিশু-কিশোরী। ৫ বছরে যৌতুকের কারণে সহিংসতার শিকার ১,৩৩১ জন, ৫ বছরে শিশু হত্যা ১,৬৮০, বখাটের উৎপাতের শিকার ৮১২জন, ৯৪ শতাংশ নারী গণ-পরিবহনে নানা প্রকার যৌন নিপীড়নের শিকার হন, বল্যবিবাহ ৫২ শতাংশÑএটাই স্বাধীন দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীর জীবন চিত্র!!
বক্তাগণ বলেন, নারী-শিশু নির্যাতন এতো ভয়াবহ মাত্রায় আসার একটি অন্যতম কারণ বিচার না হওয়া। নির্যাতনের যত ঘটনা দেশে ঘটে তার অধিকাংশ ক্ষেত্রে মামলা হয় না। যে সব ক্ষেত্রে মামলা হয় সেগুলোও বছরের পর বছর ঝুলতে থাকে। সহজে নিষ্পত্তি হয় না। দেখা যায়, যে মামলাগুলোর নিষ্পত্তি হয়েছে তার মাত্র ৩ শতাংশের সাজা হয়েছে। বিচারের বাণী যেন নিভৃতে কাঁদে!! একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটে চলেছে; যদি বিচার পেতাম, যদি ধর্ষক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পেতো, তাহলে ধর্ষকরা ভয় পেত; সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হতো। সমাবেশ থেকে নারী-শিশু নির্যাতক-ধর্ষক-হত্যাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
বক্তাগণ বলেন, নারী-শিশু নির্যাতন-ধর্ষণ-হত্যা এসব অপরাধের বিচার না হওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় কারণ স্বেচ্ছাচারমূলক ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি। ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী হল দখল, হাট-মাঠ দখল, নদী-নালা-খাল-বিল দখল, বন-পাহাড় দখল, ব্যাংক দখল Ñ পুরো দেশই প্রায় দখলে নিয়ে ফেলেছে। সর্বশেষ ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি করে গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। দেখা যাচ্ছে মাদক-পর্নোগ্রাফি-নারী-শিশু পাচার-নির্যাতন-ধর্ষণ-হত্যা এসব অপরাধমূলক ঘটনার সাথেই অনেকক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা যুক্ত। ক্ষমতায় থাকলে যে কোন অপরাধ করেও পার পাওয়া যাবে Ñ এই তাদের মনোভাব এবং বাস্তবতা। ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে তারা আইন-বিচার-প্রসাশনকে দিয়ে সর্বোচ্চ অপরাধ Ñ খুন করেও পার পেয়ে যাচ্ছে। আর যেখানে ন্যয় বিচার নেই; সেখানে নারী-শিশু নির্যাতন বাড়বে এটাই তো স্বাভাবিক।
বক্তাগণ আরও বলেন, নারী শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সমাজিক প্রতিরোধ প্রয়োজন। এই সামাজিক প্রতিরোধ আন্দোলনই বিচার প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠুভাবে ত্বরান্বিত করতে সরকারকে বাধ্য করতে পারে এবং সাথে সাথে সামাজিক প্রতিরোধের কারণে অপরাধী কোনঠাসা হয়ে পড়বে; সে আইন বা সমাজ কোথাও আশ্রয় পাবে না। এর আগে আমরা দেখেছি ১৯৯৫ সালে ইয়াসমিন ধর্ষণ-হত্যার বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের চাপে তৎকালীন সরকার বাধ্য হয়েছিল ইয়াসমিন হত্যার বিচার করতে। সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ নারী-শিশু ধর্ষণের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।