নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কারে বামপন্থি নেতৃবৃন্দের দাবি

টাকার খেলা, পেশীশক্তি, প্রশাসন ও ধর্মের অপব্যবহারমুক্ত সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিসহ অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত কর
IMG_0371১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বিকাল সাড়ে চারটায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিতে সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা আহূত দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশের কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত দাবি জানান।
ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকম-লীর সদস্য কমরেড অধ্যাপক আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আকবর খান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ-এর কেন্দ্রীয় সদস্য কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয় জুনায়েদ সাকি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড মো. শাহ আলম, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মাকর্সবাদী)’র কেন্দ্রীয় নেতা আকম জহিরুল ইসলাম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক। সভা পরিচালনা করেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড জাহেদুল হক মিলু।
সিপিবি সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, পাকিস্তান আমল থেকেই বাংলাদেশের মানুষ অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে সংগ্রাম করছে। নিজের ভোট নিজে প্রয়োগ করার পরিস্থিতি নিশ্চিত করার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে গত ৪৬ বছরে মানুষের ভোটাধিকারের নিশ্চয়তার বিধান করা সম্ভব হয়নি। মূলত দুটো সামরিক শাসনের আমলে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের উপর জনগণের আস্থা নিঃশেষিত হয়ে গিয়েছিল। স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারবিরোধী গণআন্দোলনের জয়ের মধ্য দিয়ে প্রাপ্ত ব্যবস্থায় নির্বাচন করা গেলে ভোটাধিকার প্রয়োগের নিশ্চয়তা এখনও নিশ্চিত হয়নি।
কমরেড সেলিম বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড মানে আওয়ামী লীগ-বিএনপির জন্য নির্বাচনে সমান সুযোগ নয়। নির্বাচনে ছোট-বড় সকল দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা না গেলে তাকে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বলা যাবে না।
কমরেড সেলিম দাবি জানিয়ে বলেন, নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। স্বাধীন ও আর্থিক ক্ষমতাসম্পন্ন কার্যকরী নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য নির্বাচনে সন্ত্রাস, পেশীশক্তি, টাকার খেলা, সাম্প্রদায়িকতা, দলীয়করণ ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।
তিনি বর্তমান আসনভিত্তিক সংসদ সদস্য নির্বাচনের পরিবর্তে ভোটের আনুপাতিক হারে প্রতিনিধি নির্বাচনের বিধান চালু করার দাবি জানান।
কমরেড সেলিম বলেন, নির্বাচনে জামানতের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়ে দরিদ্র কিন্তু সৎ ও যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণকে দুঃসাধ্য করে তোলার অপচেষ্টা সহ্য করা হবে না। তিনি রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধনের অগণতান্ত্রিক ও অসংবিধানিক পদ্ধতি বাতিলের দাবি জানান।
কমরেড আকবর খান বলেন, বর্তমান নুরুল হুদা নির্বাচন কমিশন আগের আমলের নির্বাচন কমিশনগুলোর মত অজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনে পরিণত হয়েছে।
কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, নির্বাচন কমিশন বর্তমান ২৫ হাজার টাকার জামানত বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করার উদ্যোগ নিয়েছে। একজন নিম্ন আয়ের মানুষ কিভাবে এই জামানত প্রদান করবে। নির্বাচন কমিশন ধনীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে ব্যবস্থা করে দিয়ে সংসদকে ধনীদের ক্লাবে পরিণত করছে।
কমরেড জুনায়েদ সাকি বলেন, ৭০(১) ধারা সংবিধানে জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসে আছে। এই ধারা আমাদের গণতন্ত্রহীনতার চূড়ান্ত নিদর্শন। এই ধারার ফলে ক্ষমতা এককেন্দ্রীক হয়ে পড়েছে। দুই পরিবারের জমিদারীতে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মত নির্বাচন করার যে কোন অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে বলে তিনি শাসক দলকে হুঁশিয়ার করে দেন।
কমরেড মো. শাহ আলম বলেন, বাংলাদেশের মসনদে বিভিন্নভাবে স্বৈরাচার গেড়ে বসেছে। ভোটারবিহীন, প্রার্থীবিহীন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয় না। তিনি বলেন, ১৯৯০ সালে সিপিবি যেমন ‘আমার ভোট আমি দিব, যাকে খুশী তাকে দিব’ সারা দেশে পদযাত্রা করেছিল। প্রয়োজনে জনগণের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন করতে সিপিবি-বাসদ-বাম মোর্চা ভোটাধিকারের দাবিতে আবার দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে পদযাত্রা করবে।
সভাপতির ভাষণে কমরেড অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার বলেন, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন সংবিধান পরিপন্থী। তিনি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন পদ্ধতি বাতিল করার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানান। তিনি বলেন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যক্তিভিত্তিক নয় দলীয়ভিত্তিক তথা সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি চালু করতে হবে।
সমাবেশ শেষে একটি মিছিল শহরের বিভিন্ন পথ প্রদক্ষিণ করে।