পাটকল শ্রমিকদের ধর্মঘটের সমর্থনে বাসদের মানববন্ধন-সমাবেশ অনুষ্ঠিত

পাটকল শ্রমিকদের ধর্মঘটের সমর্থনে বাসদের মানববন্ধন-সমাবেশ অনুষ্ঠিত 
বকেয়া বেতন পরিশোধ, মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবি মেনে নিন 
SPB-140519-3বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ ঢাকা মহানগর শাখার উদ্যোগে আজ ১৪ মে ২০১৯ সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ, মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ পাটকল শ্রমিকদের ৯ দফা দাবিতে ধর্মঘটের সমর্থনে এবং শ্রমিকদের ন্যায় সংগত দাবি মেনে নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন, সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাসদ ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ। সমাবেশে বক্তব্য রখেন বাসদ নগর শাখার সদস্য সচিব জুলফিকার আলী, সদস্য খালেকুজ্জামান লিপন, আহসান হাবিব বুলবুল, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুর রাজ্জাক, সহ-সম্পাদক ইমাম হোসেন খোকনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তবাগণ বলেন, ১৯৫১ সালে নারায়ণগঞ্জে বাওয়ানী জুট মিলের মাধ্যমে এই ভূখ-ে পাট শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। স্বাধীনতার পূর্বে ৭৫টি পাটকল থাকলেও ১৯৮১ সালে তা ৮২ তে দাঁড়ায়। এক সময় রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত পাটকে দেশের সোনালী আঁশ বলা হতো। আজ সেই পাট শ্রমিক ও কৃষকের গলার ফাঁস হয়েছে। সরকারের দুর্নীতি ও ভুলনীতির ফলে, ৮২ সাল থেকে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ এর পরামর্শে বিরাষ্ট্রীয়করণ নীতির ফলে বর্তমানে মাত্র ২৫টি সরকারি জুট মিল চালু আছে। কিন্তু এর বিপরীতে প্রায় ২৩০টি বেসরকারি পাটকল দেশে চালু আছে।
বক্তাগণ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি পাটকল কেন অলাভজনক তার কোন সঠিক রিপোর্ট আজ পর্যন্ত প্রকাশ করা হয় না। কিন্তু ঢালাওভাবে শ্রমিকদের উপর দায় চাপিয়ে আদমজীসহ বেশির ভাগ পাটকল বন্ধ করা হয়েছে। যেগুলো বর্তমানে চালু আছে সেগুলোকেও বেসরকারি খাতে মুষ্টিমেয় মুনাফালোভী গোষ্ঠীর হাতে ছেড়ে দেওয়ার চক্রান্তের অংশ হিসেবেই শ্রমিকদের মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না এবং বকেয়া বেতন দেয়া হচ্ছে না।
IMG_1430 copyবক্তাগণ বলেন, শুধুমাত্র খুলনা অঞ্চলের ৯টি পাটকল শ্রমিকদের ১২ সপ্তাহের মজুরি ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের ৩-৪ মাসের বকেয়া বেতন বাবদ পাওনা ৭৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা। কিন্তু ঐ ৯টি পাটকলে ৩২৫ কোটি টাকার পাট পণ্য মজুত আছে। ৯টি পাটকলের প্রতিদিনের উৎপাদন ক্ষমতা ২৭২ টন কিন্তু সেখানে প্রতিদিন উৎপাদন করা হচ্ছে ১০০.২৯ টন। এখানে প্রতিদিন যে ১৭২ টন কম উৎপাদন হচ্ছে, রাষ্ট্রের ক্ষতি হচ্ছে তার দায় দায়িত্ব কার। মৌসুমে ১২০০/১৫০০ টাকা মণ দরের পাট সময়মতো না কিনে পরে ২৫০০/৩০০০ টাকা দিয়ে ব্যবসায়ী ও ফড়িয়াদের কাছ থেকে কেনার ফলে যে ক্ষতি হয় তার দায়িত্ব কেন শ্রমিকেরা নেবে। অর্থমন্ত্রণালয় কেন সময়মতো অর্থ ছাড় করে না। এসবই শাসক লুটেরাদের চক্রান্ত।
বক্তাগণ আরো বলেন, সারা বিশ্বে সবুজায়নের জন্য ও পরিবেশ রক্ষা জন্য আন্দোলন হচ্ছে এর ফলে পাট পণ্যের ব্যাপক বাজার সৃষ্টি হচ্ছে। সারা বিশ্বে বর্তমানে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন পিস শপিং ব্যাগের চাহিদা রয়েছে। এর মাত্র ৫% যদি আমরা রপ্তানি করতে পারি তাহলে হাজার হাজার কোটি টাকার রপ্তানি আয় করা সম্ভব। কিন্তু সরকারের নীতি সেই মুখী নয়।
বক্তাগণ সরকারের এই ভুলনীতি পরিহার ও দুর্নীতি বন্ধ করে পাটকল-পাট চাষীদের রক্ষা ও ধর্মঘটি পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া বেতনসহ ৯ দফা দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান। একই সাথে পাটশিল্পের বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় পাটকল শ্রমিক, পাট চাষী ও দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

Translate »