পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান

031217-SSF & BAM-Firoz-1রূপপুরের পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক হুমকী বলে আখ্যায়িত করে এই সর্বনাশা পথ থেকে সরে আসার দাবিতে আজ ০৩ ডিসেম্বর ’১৭ বিকাল ৪:০০টায় শাহাবাগ যাদুঘরের সামনে বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চ ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেণ সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা মহানগরের সভাপতি রোখসানা আফরোজ আশা। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল- বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড বজলুর রশিদ ফিরোজ, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শম্পা বসু, সমাজতন্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক, বিজ্ঞান আন্দোলন  মঞ্চের সংগঠক শ্যামল বর্মন,  সমাজতন্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক, বিজ্ঞান আন্দোলন  মঞ্চের সংগঠক মুক্তা বাডৈ, সমাজতন্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক, বিজ্ঞান আন্দোলন  মঞ্চের সংগঠক আলমগীর হোসেন সুজন, সমাজতন্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার  সভাপতি, বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চের সংগঠক এম এম মুজাহিদ অনিক প্রমুখ।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০১১ সালে জাপানরে ফুকুশমিা পারমাণবকি বিদ‌্যুৎকেন্দ্রে র্দুঘটনার পর জ্বালানি পরকিল্পনা  প্রণয়নে গুরুত্ব নর্ধিারণে কোনটি অধকি মূল্য পাবে। জনগণরে জীবনরে নরিাপত্তা, জনজীবনরে ঝুঁকি জনস্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র‌্য, প্রাণ-প্রকৃতি-পরবিশে; নাকি পারমাণবকি বদ্যিুৎকন্দ্রে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে ব্যাপক বির্তকের পর সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত হলো, আর নতুন কোনো পারমাণবকি বদ্যিুৎকন্দ্রে  নয়, বরং পুরনোগুলো বন্ধের  পদক্ষেপ নিতে হবে। এরপর একে একে বন্ধ হতে থাকে রাশয়িার বালাকোভাকে ভিভিইআর-১০০০/৩২০ স্থাপনার কাজ অনকে দূর এগিয়ে গেলেও কারণ না জিানিয়েছে মাঝপথে বন্ধ করে  দিয়েছে রাশিয়া। পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অনিরাপদ ও ঝুঁকপূর্ণ বিধায় রাশিয়ার সঙ্গে করা চুক্তি হাঙ্গেরি দুটি, ইউক্রনে ৩টি, র্জামানি ৪টি ও চেক রপিাবলকি ৪টি প্রকল্প বাতিল করছে। এরই মধ্যে বিশ্বে পারমাণবিক বিদ‌্যুৎ উৎপাদনকারী অধকিাংশ দশে যথা জার্মানি, অস্ট্রয়িা, হাঙ্গেরি, যুক্তরাষ্ট্র, নদোরল্যান্ডস, ইতালি, ফলিপিাইন, দক্ষিণ আফ্রিকা, বেলজিয়াম, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, অনেক কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছে এবং দেশভেদে ২০২২ থেকে ২০৩০ সালরে মধ্যে বাকিগুলো বন্ধ করে দেয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আন্তর্জাতিক বাজারের ব্যয় বিবেচনয় প্রতি মেঘাওয়াট পারমানবিক বিদ‌্যুৎ গড়ে ব্যয় ২৫ কোটি, কয়লায় ১০ কোটি, গ্যাসভিত্তিক কম্বাইন্ড সাইকেলে পড়ে মাত্র ৭ কোটি টাকা। আর চুক্তি অনুযায়ী রূপপুর পারমাণবকি বদ্যিুৎকন্দ্রে স্থাপনে প্রতি মেঘাওয়াটে মূলধনি ব্যয় পড়বে প্রায় ৪৪ দশমকি ৫০ কোটি টাকা। ২ হাজার ৪০০ মেঘাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রূপপুর পারমানবিক বিদ‌্যুৎকেন্দ্র আমাদের দেশের শত শত কোটি টাকা আপচয় হবে। এর পাশাপাশি একটি গুরুত্বর্পূণ বিষয় হলো, এ নতুন ধরনরে পারমানবিক কেন্দ্রে বর্জ‌্য ব্যবস্থাপনা, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক, পারমানবিক বিদ‌্যুৎকেন্দ্র থেকে যে র্সবনাশা রেডিও অ‌্যাকটিভ (তেজস্ক্রিয়) বর্জ‌্য পরবিশেরে সঙ্গে যুক্ত হয়, তা এতই ভয়ানক, যা মানুষরে বিভিন্ন অনিরাময়যোগ্য রোগব্যাধি সৃষ্টিসহ জমির উর্বরা শক্তি, পানি ও বায়ুদূষণের পাশাপাশি জীববৈচিত্র‌্য ধ্বংস করে।

বক্তাগণ বলেন, যেকোনো  জটিল প্রকল্প গ্রহণে বাংলাদশেরে জমি ও ভূগঠনের বিশেষ বৈচিত্র‌্য বিষয়ে অবহিত হওয়া অত‌্যান্ত  প্রয়োজন। বাংলাদশেরে নদী-নালা, খাল-বিল আর জমি অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ, অথচ পরবিশেবিধ্বংসী, জীববৈচিত্র‌্য বিনাশী প্রতিক্রিয়ার কথা বিশ্লেষণ না করলে দেখা যায়, রূপপুর হবে দেশবিনাশী এক ভয়ঙ্কর প্রকল্প। এধরনের র্সবনাশা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এ কেন্দ্র থেকে ১০-১২ কিলোমিটারব্যাপী বসবাসরত কৃষক পরিবারগুলোকে ওইসব এলাকায় অনিরাময়যোগ্য রোগব‌্যাধী, দেশব্যাপী এর ভয়াবহ প্রভাবে জমির উর্বরা শক্তি হ্রাস, পানি ও বায়ুদূষণসহ জীববৈচিত্র‌্য ধ্বংস হয়ে বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাবে বিধায় বসতভিটা ছেড়ে চিরতরে বাস্তুহারা হতে হবে। আর বাংলাদেশ হারাবে অনেক মূল্যবান জমি, নদী-খাল-বিলসহ ভূর্গভস্থ পানি, জলজ ও বনজ প্রাণী।

নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশে রক্ষার  বিষয়ে  কোন পরার্মশ নেই এবং পারমানবিক বিদ‌্যুৎকেন্দ্রের অতি উচ্চতাপমাত্রায় রিয়েক্টের ত্রুটজনিত কারণে প্রাণ-প্রকৃতি-পরবিশেবিনাশী পারমানবিক বর্জ‌্য নির্গত হওয়া বন্ধ করারও কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। অথচ আমাদের দেশের সরকার সারাদেশে উল্লাস প্রকাশ করেছে যে, দেশ পারমানবিক যুগে প্রবেশ করেছে। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ অসত্য বরং বাংলাদেশ পারমানবিক বিপর্যয়ের যুগে প্রবেশ করলো। বিদেশী কারিগরী জ্ঞান, বিষেশজ্ঞ, বিদেশী ঋণ এবং দেশের পানি, পরিবেশ ও জনগণের উপর হুমকী সৃষ্টিকারী এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিদ্যুৎ সস্তাও নয়, নিরাপদও নয়। একদিকে ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ অন্যদিকে বাংলাদেশকে ঋণের জালে আটকে রাখার এই প্রকল্প।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে জনমত উপেক্ষা করে পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিলে সরকারকে বাধ্য করতে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলার জন্য জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য আহ্বান জানান।