পাহাড় ধসের স্থায়ী সমাধানের দাবিতে বাসদের মানববন্ধন ও সমাবেশ

বাসদের মানববন্ধন-সমাবেশ অনুষ্ঠিত
পাহাড় ধস রোধে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, পাহাড় ও গাছ কাটা এবং স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ, সকল লীজ বাতিল, অবৈধ বসতি উচ্ছেদ; নিহত-আহতদের ক্ষতিপুরণ ও পুনর্বাসনের দাবি
SPB 190617পাহাড় ধস রোধে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, পাহাড় ও গাছ কাটা এবং স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ, সকল লীজ বাতিল, অবৈধ বসতি উচ্ছেদ; নিহত-আহতদের ক্ষতিপুরণ ও পুনর্বাসনের দাবিতে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ ঢাকা মহানগর শাখা আজ ১৯ জুন‘২০১৭, দুপুর ১২-০০ টায় আবহাওয়ার বৈরী পরিবেশের মধ্যে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন-সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করে। বাসদ ঢাকা মহানগর শাখার আহবায়ক কমরেড বজলুর রশিদ ফিরোজ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড জাহেদুল হক মিলু, ঢাকা নগর কমিটির সদস্য সচিব জুলফিকার আলী, খালেকুজ্জামান লিপন প্রমুখ। সভায় বক্তাগণ পাহাড় ধসে ১৬৫ জনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, এটা যতটা না প্রাকৃতিক দুর্যোগ তারচেয়ে বেশি মনুষ্যসৃষ্ট বিপর্যয়। ২০০৭ সালে পাহাড়ে বিপর্যয়ের পরে গঠিত কমিটি পাহাড় ধসের ২৭টি কারণ চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য ৪৭টি সুপারিশ করেছিল। সুপারিশে ছিল পাহাড়ের ১০কি.মি.এর মধ্যে ইট ভাটা ও ৫কি.মি. এর মধ্যে আবাসন প্রকল্প নিষিদ্ধ এবং পাহাড় কাটা, লিজ দেয়া, জবর দখল দারিত্বের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার। কিন্তু গত ১০ বছরে এর কোনটিই বাস্তবায়িত হয়নি। উল্টো ৩ পার্বত্য জেলায় সংরক্ষিত বনের ১/৩ অংশ ধ্বংস করা হয়েছে। ৬১% ঝর্ণা শুকিয়ে গেছে। এছাড়াও বিভিন্ন প্রজেক্টের নামে পাহাড়ের গাছ কেটেছে ও অবৈধ বসতি স্থাপন করেছে। নদী ও ঝর্ণা গুলো থেকে অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলন করা হয়েছে। সবমিলিয়ে পাহাড়ের যে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য তাকে রক্ষা করার পরিবর্তে তাকে ধ্বংস করার জন্য সমস্ত আয়োজনের কাজে রাষ্ট্রিয়, প্রশাসনিক, লুটেরা ও দুর্ণিতিবাজরা ও বড় রাজনৈতিক দলগুলো যুক্ত।
নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রতি বছর বর্ষা আসলেই পাহাড় ধসের আশংকা থাকলেও স্থানীয় প্রশাসন ও রাষ্ট্রিয় প্রশাসন বাস্তবে কোন কার্যকর উদ্যেগ গ্রহণ করেনা। ফলে প্রতিবছর হতাহতের সংখ্যা ও সম্পদ হানির সংখ্যা বাড়ছে। বক্তাগন অবিলম্বে, ২০০৭ সালে গঠিত কমিটি পাহাড় ধস প্রতিরোধে যে সুপারিশ মালা প্রণয়ন করা হয়েছিল তা বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও সুচিকিৎসা, ক্ষতিপুরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবি জানান। একই সাথে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনে হেলিকপ্টার ব্যবহারের দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ, গতকাল বি.এন.পি মহাসচিবসহ নেতৃবৃন্দের গাড়িবহরে সন্ত্রাসি হামলার তিব্র নিন্দা জানান এবং দায়িদের শাস্তির দাবি জানান।