প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর ছাত্র সমাবেশে নেতৃবৃন্দ-২৯ জানুয়ারি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সর্বাত্মক ছাত্র ধর্মঘট পালন করার আহ্বান

প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর ছাত্র সমাবেশে নেতৃবৃন্দ
ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের সন্ত্রাস-দখলদারীত্বের প্রতিবাদে ২৯ জানুয়ারির সারাদেশে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে
সর্বাত্মক ছাত্র ধর্মঘট পালন করার আহ্বান
34-2সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট-এর ৩৪তম প্রতিষ্ঠা বাষির্কী উপলক্ষে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে ২৫ জানুয়ারি বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাজেয় বাংলায় সমাবেশ ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ইমরান হাবিব রুমনের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্সের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সংগাঠনিক সম্পাদক রাশিব রহমান, দপ্তর সম্পাদক শ্যামল বর্মন, অর্থ সম্পাদক রোখসানা আফরোজ আশা, স্কুল সম্পাদক সজৈল বাড়ৈ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মাসুক হেলাল অনিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি আলমগীর হোসেন সুজন, ঢাকা নগরের সাধারণ সম্পাদক মুক্তা বাড়ৈ, ইডেন কলেজ সভাপতি নবীনা আক্তার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি এম এম মুজাহিদ অনিক, রিয়াজ মাহম্মদ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, শিক্ষার উপরে চলছে সর্বগ্রাসী আক্রমণ। শিক্ষাকে বাজারী পণ্যে পরিণত করার সকল আয়োজন চূড়ান্ত। শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এদেশের শ্রমিক- কৃষক সহ সাধারণ নিম্মবিত্ত ঘরের সন্তানেরা। সরকার মুখে শিক্ষা প্রসারের বুলি আওড়াচ্ছে কিন্তু শিক্ষা সংকোচনের নীতিকেই বাস্তবায়ন করছে সুকৌশলে। সারা দেশে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাড়লেও বাড়ছেনা সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়গুলোতে নানা নামে শিক্ষার্থীদের উপর ফি আরোপ করা হচ্ছে, চালু করা হচ্ছে বিভিন্ন বাণিজ্যিক সান্ধ্যকালীন কোর্স। ইউ জি সি’র ২০ বছর মেয়াদি কৌশলপত্র বাস্তবায়ন করে শাসকরা বিশ^বিদ্যালয়গুলোর পাবলিক চরিত্রকে ধ্বংস করার আয়োজনে লিপ্ত হয়েছে। প্রাথমিক থেকে উচ্চ শিক্ষা সকল স্তরে প্রশ্ন ফাঁস শিক্ষা ব্যাবস্থা কে ধ্বংসে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের সন্ত্রাস-দখলদারীত্ব বিশ^বিদ্যালয়গুলোকে মিনি ক্যান্টনমেন্টে পরিণত করেছে। শিক্ষাঙ্গনে সুষ্ঠ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে ছাত্র সংসদ নির্বাচন প্রয়োজন। অথচ আমাদের প্রশাসণ সেই পথে না গিয়ে শাসক দলের ছাত্র সংগঠনকে ব্যবহার করে সমস্যা আরও ঘনীভুত করছে। গত ২৩ জ্নাুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়ন বিরোধী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপর হামলা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রগতিশীল ছাত্র জোটের বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রলীগ দফায় দফায় হামলাসহ সারাদেশে বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি করতে বাধা প্রদান ও প্রগতিশীল ছাত্র জোটের নেতা কর্মীদের উপর ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে। এই সকল ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনার সুষ্টু তদন্ত করে দ্রুত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি করেন।
সমাপনী বক্তব্য সভাপতি ইমরান হাবিব রুমন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সারাদেশের ছাত্রসমাজ ও দেশবাসীকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন বৃটিশ উপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই থেকে শুরু করে ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যূত্থান, ৭১’র মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের প্রতিটি পর্যায়েই সামনে থকে নেতৃত্ব দিয়েছে ছাত্ররা। আর আজ যখন এক অন্ধকার শক্তি সারা দেশকে গ্রাস করার উন্মত্ততায় মেতেছে, সেই সময়ে কি এদেশের ছাত্রসমাজ নির্বিকার থাকবে? প্রশ্ন আসতে পারে আমরা কি পারবো? অন্যায়-অন্ধকার আর অসত্যের এই তীব্র স্রোতের বিপরীতে আমাদের এই ক্ষীণ শক্তি কি প্রতিরোধ তৈরী করতে সক্ষম হবে? কিছুই হবে না, কিছুই পারা যাবে না বলা তো সহজ, নিশ্চুপ থেকে যা চলছে তার কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করা যায়। এর মাধ্যমে শারীরিকভাবে হয়ত কিছুদিন বেশি বেচেঁ থাকা যায় সত্য কিন্তু মৃত্যু হয় মর্যাদার, মনুষ্যত্বের।
আমরা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সেই মনুষ্যত্বের ঝাণ্ডাকে উর্ধ্বে তুলে ধরে অন্ধকারের বিপরীতে থাকে আলো, মিথ্যার বিপরীতে থাকে সত্য আর অন্যায়ের বিপরীতেই থাকে ন্যায়; আমরা অন্ধকারের বিরুদ্ধে সেই সত্য-ন্যায়ের শক্তির জাগরণ ঘটাতে চাই। আমরা শাসকশ্রেণির শিক্ষা সংকোচন নীতি ও শিক্ষার বেসরকারিকরণ-বাণিজ্যিকীকরণ সাম্প্রদায়িকরণের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলন ও শিক্ষা অধিকার রক্ষা এবং গণতন্ত্রের সংগ্রাম এগিয়ে নেয়ার জন্য প্রতিষ্ঠাকালীন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে আগামীতেও ছাত্র সমাজ ও দেশবাসীর সর্বাঙ্গীন সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করি এবং হামলা, মামলার বিরুদ্ধে সারাদেশের ছাত্র-শিক্ষক অভিভাবক সহ সকল স্তরের দেশপ্রেমিক জনতাকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাই।