বাজেট প্রত্যাখান করে বাম জোটের বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত

ধনী তোষণ, ঋণ নির্ভর, বিশাল ঘাটতির বাজেট প্রস্তাব সংশোধন করে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও জনকল্যাণ খাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করুন

LDA-200619-3ঋণ নির্ভর, ধনী-গরিব বৈষম্যের বিশাল ঘাটতির বাজেট সংশোধন করে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনায় শিক্ষা-স্বাস্থ্য-কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা খাতসহ জনকল্যাণ ও উৎপাদনশীল খাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবিতে আজ ২০ জুন ২০১৯ সারা দেশে বাম গণতান্ত্রিক জোটের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ বিকেল সাড়ে চারটায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বাম জোটের সমন্বয়ক ও বাসদ নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জোটের কেন্দ্রীয় নেতা শাহ আলম, সাইফুল হক, মোশারফ হোসেন নান্নু, হামিদুল হক, মানস নন্দী, জুলহাস নাই বাবু, মমিনুল ইসলাম ও বাম জোটের ঢাকা মহানগর সমন্বয়ক খালেকুজ্জামান লিপন।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, এবারের বাজেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতির, ঋণ নির্ভর, ধনী-গরিব বৈষম্যের বাজেট। আমাদের দেশে বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়াটাই গণতান্ত্রিক না, আমলাতান্ত্রিক। ফলে প্রতি বছরের ন্যায় আমলাদের বেতন-ভাতা এবং দেশি-বিদেশী ঋণের সুদ পরিশোধ, প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র এই সকল অনুৎপাদনশীল খাতে মোট বাজেটের ৪১% বরাদ্দ করা হয়েছে। বিপরীতে শিক্ষা-স্বাস্থ্য-কৃষিসহ উৎপাদনশীল খাত প্রতিবারের ন্যায় উপেক্ষিত থাকছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, এবারের বাজেটেও কালো টাকা সাদা করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অথচ প্রতি বছর এ সুযোগ দেয়া হলেও কালো টাকার মালিকেরা সামান্যই সাড়া দেয়। গত ১০ বছরে মাত্র ১৪ হাজার কোটি কালো টাকা সাদা হয়েছে যার ৯ হাজার কোটি টাকাই ২০০৭-৮ সালে হয়েছে। রাজস্ব আয়ের যে প্রস্তাব করা হয়েছে তা আদায় করা হবে কিভাবে তার নির্দেশনা নাই। বাজেটে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য দূর করারও কোন নির্দেশনা নাই। গতবারের অভিজ্ঞতা বলে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা আদায় যোগ্য নয়। তাছাড়া ২০১০ সাল থেকে চলতি অর্থ বছর পর্যন্ত বাজেট বাস্তবায়ন সক্ষমতাও ক্রমাগত কমছে। ২০১০ সালে ৮৯.৯% থেকে কমে বর্তমানে ৭৬.১% দাঁড়িয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বাজেটে ৫ স্তরের যে নতুন ভ্যাট আইন প্রণয়ন করার প্রস্তাব করা হয়েছে তাতে একদিকে গ্রাহক ভোক্তা হয়রানী বাড়বে অন্যদিকে কর আদায়েও জটিলতা বাড়বে। প্রতিবারের মতো এবারেও পোশাক শিল্পের মালিকদের পূর্বের ৩৬০০ কোটি টাকার সাথে নতুন করে আরো ২৮২৫ কোটি টাকার প্রণোদনা দেয়ার প্রস্তাব করা হলেও গার্মেন্টস শ্রমিক ও গ্রামীণ শ্রমজীবীদের আবাসন ও রেশনের জন্য কোন থোক বরাদ্দ রাখা হয়নি।

নেতৃবৃন্দ বলেন সরকার একদিকে ডিজিটাল বাংলাদেশের বাহবা নিচ্ছেন অন্যদিকে মোবাইলে কথা বলার উপর, মোবাইল সেট আমদানির উপর এবং ল্যাপটপ, কম্প্যুটারের উপর কর বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে যা সাংঘর্ষিক।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ১৬.৭৫% বরাদ্দ দেখানো হলেও বাস্তবে এটা সাধারণ শিক্ষা,কারিগরি শিক্ষা, মাদ্রাসা শিক্ষা, ক্যাডেট কলেজ, সামরিক শিক্ষা এবং ২৮ মন্ত্রণালয় অধিদপ্তরের ট্রেনিং কে যুক্ত করে দেখানো হয়েছে। বাস্তবে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ হয়েছে মাত্র ১১.৬৮% যা মোট জিডিপির মাত্র ২.১১%। এতে বরাদ্দ কিছুটা বাড়ানো হয়েছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে তা শুভংকরের ফাঁকি। কৃষি খাতের যে বরাদ্দ তাও কৃষি, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ, ভূমি, বণ ও পরিবেশ, পানিসম্পদ এই ৫ মন্ত্রণালয়ের যৌথ বরাদ্দ।

নেতৃবৃন্দ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি করেন এবং সুনির্দিষ্টভাবে এবারের বোরো ধানের দাম না পেয়ে যে ১ কোটি ৮০ লক্ষ কার্ডধারী কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের জন্য প্রত্যেককে কমপক্ষে ৫০০০ টাকা করে ক্ষতিপূরণ বাবদ মোট ১০ হাজার কোটি টাকা এবং প্রতি ইউনিয়নে ১টি করে খাদ্য গুদাম নির্মাণের জন্য ১ কোটি টাকা করে মোট ৫ হাজার কোটি টাকা প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দের জোর দাবি জানান।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রেসক্লাব, তোপখানা রোড হয়ে পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

Translate »