বাজেট প্রস্তাবে জৌলুষ চাকচিক্যের বাহারের নীচে জনগণের দুঃখ-দুর্দশার চিত্র চাপা পড়ে গেছে

২০১৫-১৬ অর্থ বছরের বাজেট প্রস্তাবের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া
বাজেট প্রস্তাবে জৌলুষ চাকচিক্যের বাহারের নীচে জনগণের দুঃখ-দুর্দশার চিত্র চাপা পড়ে গেছে

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান সংবাদপত্রে দেয়া এক বিবৃতিতে আজ সংসদে পেশকৃত ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের বাজেট প্রস্তাবের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “বাজেট তৈরি প্রক্রিয়া আগের মতোই আমলতান্ত্রিক থেকে গেছে। জনগণের কাছ থেকে তা উঠে আসেনা, জনগণের উপর চাপানো হয়। অনেক সম্ভাবনা ও সন্তুষ্টির আশ্বাস সম্বলিত বাজেট বক্তৃতার সাথে সাধারণ মানুষ তাদের জীবনের অভিজ্ঞতা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার কোন মিল খুঁজে পায় না যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া হিসাবে দেখা যায়। প্রতিবারই মুষ্টিমেয় লোকের উন্নতিকে দেশের উন্নতি বলে চালানো হয়। অর্থমন্ত্রী তার এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক লুটপাটকারীদের ‘ডাকাত’ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন কিন্তু নানা কারণে সাজা না হওয়ার কথাও বলেছেন। প্রতিরক্ষা খাতের বরাদ্দ তথ্য তিনি বুঝতে পারেন না এবং তা পাকিস্তানী ট্রেডিশন বলেও জানিয়েছেন। দেশে সাদা বলতে যে অর্থনীতিকে বুঝায় তাকে গ্রাস করে আছে যে ‘কালো’ অর্থনীতি অর্থাৎ লুটতরাজের অর্থনীতি তাকে প্রতিবারের মতো এবারও স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। ফলে দেশে বিনিয়োগসহ সকল উন্নয়ন কর্মকা-ই চোরা পথে চলার জন্য উৎসাহিত হবে। বাজেটের আকার যত বড়ই করা হোক্ তার সাথে পাল্লা দিয়ে দুর্নীতি-দুঃশাসনের রাস্তাও যদি প্রসারিত হয় তাহলে তা সাধারণ জনগণের কল্যাণে আসেনা। বাহ্যিক চাকচিক্য ও জৌলুষ বাড়ে তার নীচে জনগণের দুঃখ-দুর্দশার চিত্র চাপা পড়ে। এবারের বাজেট তার ব্যতিক্রম কিছু দেখাতে পারেনি। এবারের বাজেটেও জনপ্রশাসন খাতে সর্বোচ্চ ব্যয় এবং ঋণের সুদ পরিশোধ বাবদ ২য় সর্বোচ্চ ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে। শিক্ষা-স্বাস্থ্য-কৃষিসহ জনকল্যাণ খাতে বরাদ্দ আগের মতোই রয়েছে। ফলে মানব উন্নয়নসহ এসব খাতে উন্নয়ন সম্ভব হবে না।”