বাম জোটের বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করেই পুনঃতফসিল ঘোষণা করতে হবে

বাম জোটের বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ
একতরফা তফসিল জনগণ বরদাশত করবে না
নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করেই পুনঃতফসিল ঘোষণা করতে হবে

101118-LDA -2নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল প্রত্যাখ্যান করে, অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে পুনঃতফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। এই দাবিতে ১০ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, একতরফা নির্বাচনের জন্য সরকারের ছক অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন একতরফাভাবে তফসিল ঘোষণা করেছে। এই একতরফা তফসিল জনগণ বরদাশত করবে না।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘোষিত তফসিল বাতিল এবং অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করে পুনঃতফসিল ঘোষণা না করা হলে, নির্বাচন কমিশন অভিমুখে বিক্ষোভের ঘোষণা দেন।
জোট সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র সহকারী সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাসদ কেন্দ্রীয় নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, বাসদ (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় নেতা মানস নন্দী, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক। সভা পরিচালনা করেন সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, নির্বাচনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য বাম জোট দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছে। তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, দল-নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন তদারকি সরকার গঠন, নির্বাচনের কমিশনের পুনর্গঠন, কালো টাকা-পেশীশক্তি-সাম্প্রদায়িকতা-প্রশাসনিক কারসাজিমুক্ত নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির জন্য বাম জোট সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে বারবার দাবি জানিয়ে আসছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে বাম জোট নেতারা অবাধ-নিরপেক্ষ-অংশগ্রহণমূলক-গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সুনির্দিষ্ট ৮টি দাবি, নির্বাচনী ব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কারের জন্য ৭টি প্রস্তাবনা দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী সংলাপ বিষয়ে প্রকাশ্যে তাঁর বক্তব্য দেয়ার কথা বলেছিলেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, একদিকে সংলাপ সম্পর্কিত প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত ভাষণ বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে সংলাপের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তড়িঘড়ি করে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করে দিয়েছে। এভাবে পুরো রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল করে দিয়েছে। সরকারের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন একতরফা নির্বাচনের প্রেক্ষাপট তৈরির অপচেষ্টা করছে।
নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো একতরফা নির্বাচন জনগণ বরদাশত করবে না। এ ধরনের কোনো অপচেষ্টা জনগণ ভণ্ডুল করে দেবে।
রাজপথে নেমে এসে একতরফা নির্বাচেনর নীল নকশা বানচাল করে দিতে নেতৃবৃন্দ জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরানা পল্টন মোড়ে এসে শেষ হয়।