‘বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭’ এর বিশেষ বিধান (১৯ নং ধারা) বাতিল কর

‘বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭’ এর বিশেষ বিধান (১৯ নং ধারা) বাতিল কর
বাল্য বিবাহের বৈধতা দেওয়ার সরকারী চক্রান্ত রুখে দাঁড়ান
DSCF2628copy‘বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭’ এর বিশেষ বিধান (১৯ নং ধারা) বাতিল করার দাবিতে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর উদ্যোগে আজ ৩ মার্চ ২০১৭ শুক্রবার সকাল ১০.০০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর সাধারণ সম্পাদক শম্পা বসু এবং পরিচালনা করেন সংগঠনের সদস্য মুক্তা বাড়ৈ। সভায় বক্তব্য রাখেন ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক শিপ্রা মন্ডল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ইমরান হাবীব রুমন. সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ইডেন কলেজ শাখার সভাপতি নবীনা আক্তার।
বক্তাগণ বলেন, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সংসদে ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭’ পাস হয়। এই আইনের ১৯ ধারায় বলা হয়েছে ‘এই আইনের অন্যান্য বিধানে যা কিছু থাকুক না কেন, কোন বিশেষ প্রেক্ষাপটে অপ্রাপ্তবয়স্কের সর্বোত্তম স্বার্থে আদালতের নির্দেশক্রমে এবং মাতা-পিতার বা প্রযোজ্যক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতিক্রমে বিধি দ্বারা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিয়ে সম্পাদিত হলে তা এই আইনের অধীন অপরাধ বলে গণ্য হবে না।’ অর্থাৎ এই আইনের মধ্য দিয়ে শিশুর বিয়ে বৈধতা পাবে।
‘বিশেষ প্রেক্ষাপট’ কী এবং কত কম বয়সে বিয়ে করা যাবে বা বাবা-মা ছাড়া আর কারা অভিভাবকত্ব দাবি করতে পারবেন তা এই আইনে স্পষ্ট করা হয়নি। আইনে উল্লেখ না থাকলেও, ধর্ষণের শিকার হয়ে বা প্রেমের সম্পর্কের কারণে মেয়ে শিশুর অন্তসত্ত্বা হয়ে পড়াকে বিশেষ ক্ষেত্রে আইনের বিশেষ বিধান রাখার পক্ষে যুক্তি করেছেন সরকার। সেক্ষেত্রে মনে হচ্ছে ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করে ধর্ষিতার সাথে বিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজছে সরকার।
বাংলাদেশে ১৫ বছর বয়স হওয়ার আগেই শতকরা ৩৯ শতাংশ মেয়ের এবং ১৮ বছরের মধ্যে ৭৪ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়। বাংলাদেশে বাল্য বিয়ের গড় হার ৬৬%। ১৫ বছরের কম বয়সী মেয়েদের বিয়ের এই হার বিশ্বে সর্বেŸাচ্চ। এই বিবেচনায় বাল্যবিয়ের হারে শীর্ষে বাংলাদেশ।
এমন পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত আমাদের জন্য আত্মঘাতী হবে। ৯৯% বাল্য বিবাহই বাবা-মার সম্মতিতে হয়ে থাকে। দারিদ্র, যৌতুক, নিরাপত্তাহীনতা, অসচেতনতা, অশিক্ষা, কুসংস্কার, বেকারত্ব ইত্যাদি যে সকল কারণে বাল্য বিয়ের হার বেশি সেগুলো দূর করার কোন কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে আইন করা হচ্ছে মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স কমানোর। এই আইনের ফলে যুগ যুগ ধরে এর কুপ্রভাব আমাদের সমাজে থাকবে।
আইনের শর্ত হচ্ছে বাবা-মার সম্মতি, তার মানে মেয়ের অমতে এবং জোরপূর্বকও তাকে বিয়ে দেওয়া আইনসম্মত বলে গণ্য হবে। আবার বিয়ের এই বয়স জাতিসংঘ ঘোষিত আর্ন্তজাতিক শিশু অধিকার সনদেরও লঙ্ঘন। ১৮ বছরের আগে সে ভোট দিতে পারবে না, তার নিজেস্ব ব্যাংক এ্যকাউন্ট থাকবে না, সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে পারবে না, ফলে একজন অসহায় শিশুকে এই আইনের মাধ্যমে কোথায় ঠেলে দেওয়া হবে?
নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নারীদের সম্পত্তির উত্তারধিকারে সমান অধিকার দেওয়া হচ্ছে না। সিডও সনদের ২টি ধারা এখনো সরকার অনুমোদন দেয়নি। নারীদের সামনে এগিয়ে যাবার আইন না করে পিছিয়ে দেবার আইন করা হচ্ছে। অবিলম্বে ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭’ থেকে এই বিশেষ বিধান বাতিলের দাবি জানান।