বাসদের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত

শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, কৃষকদের সার্টিফিকেট মামলা প্রত্যাহার, 
রেশনিং ব্যবস্থা চালু ও ভোট ডাকাতির নির্বাচন বাতিল করে 
নির্দলীয় তদারকি সরকারের অধিনে দ্রুত নির্বাচন দাবি
Haturi-kastey edited copyবাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর কেন্দ্রীয় বর্ধিত সভা গতকাল ১২ ও আজ ১৩ জানুয়ারি ২০১৯ দুই দিনব্যাপী ঢাকার ৮/৪-এ সেগুনবাগিচাস্থ ভ্যানগার্ড মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান।
বাসদ এর বর্ধিত সভা থেকে নজিরবিহীন ভোট ডাকাতির নির্বাচন বাতিল করে নির্দলীয় তদারকি সরকারের অধিনে দ্রুত নির্বাচন দাবিতে এবং গার্মেন্টস শ্রমিক সুমন মিয়া হত্যার বিচার, মজুরি ও গ্রেড বৈষম্য দূর করে শ্রমিকের বাঁচার মতো ন্যূনতম মজুরি প্রদান, কৃষকের সার্টিফিকেট মামলা প্রত্যাহার, ফসলের লাভজনক দাম, আর্মি রেটে গ্রাম-শহরের রেশনিং চালু, শিক্ষা বাণিজ্য বন্ধ, নারী নির্যাতন প্রতিরোধের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন গড়ে তোলার উপর জোর দেয়া হয়। সভায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নানা অনিয়ম, জাল-জালিয়াতির চিত্র তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন বাসদ মনোনীত ৩৭ জন প্রার্থী এবং কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ। বক্তারা হলেন- বজলুর রশীদ ফিরোজ, রাজেকুজ্জামান রতন, নিখিল দাস, আব্দুল কুদ্দুস, জনার্দন দত্ত নান্টু, জয়নাল আবেদীন মুকুল, অধ্যক্ষ ওয়াজেদ পারভেজ, সাইফুল ইসলাম পল্টু, মঈনুর রহমান মগনু, মিলন কৃষ্ণ মন্ডল, আবুল বাশার মঞ্জু, মমিনুল ইসলাম, মঙ্গল কিসকু, শম্পা বসু, খালেকুজ্জামান লিপন, সৌমিত্র কুমার দাস, আহসান হাবিব বুলবুল, চৌধুরী ফয়সাল সোয়েব, প্রণব জ্যোতি পাল, অ্যাড. মোবারক হোসেন, আবু নাঈম খান বিপ্লব, সেলিম মাহমুদ, শাহজাহান তালুকদার, সাঈদ আখতার আমিন, আলফাজ হোসেন যুবরাজ, সাদেক হোসেন, মহিন উদ্দিন, নব কুমার কর্মকার, আলাউদ্দিন, রাহাত আহমেদ, হারুন অর রশীদ, শফিউর রহমান শফি, আসসাদুল ইসলাম, ডা. হারাধন চক্রবর্ত্তী প্রমুখ।
সভায় বক্তাগণ বলেন পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র, শাসক বুর্জোয়া দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী, লুম্পেন বেকার যুবক, সিভিল-মিলিটারি আমলাতন্ত্র, লুটেরা ব্যবাসয়ী সিন্ডিকেট, তথাকথিত দলদাস বুদ্ধিজীবী-সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যম মিলে গত ৩০ ডিসেম্বর তারিখের ভোট ডাকাতির আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে বুর্জোয়ারা তাদের নিয়মতান্ত্রিক ক্ষমতা পরিবর্তনের এবং বুর্জোয়া স্থিতাবস্থা বজায় রাখার যে পথ নির্বাচন তাকে পুরো ধ্বংস করে ফেলেছে।
একই সাথে ৪০ হাজার ১০০ কেন্দ্রে যে সকল লক্ষ লক্ষ প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার, পুলিং অফিসার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে বলপূর্বক ও স্বেচ্ছায় বা অর্থসহ নানা লোভের মাধ্যমে এই ভোট ডাকাতিতে সহযোগিতা করতে বাধ্য করে তাদের নৈতিকতাকে ধ্বংস করে দিল সেই সকল শিক্ষক-কর্মকর্তারা একটা গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণে ভূমিকা রাখতে পারবে কি? প্রায় সোয়া ২ কোটি নতুন ভোটার যারা জীবনের প্রথম ভোটাধিকার প্রদানের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হলো। রাতের আধারে ব্যালট পেপারে সীল মেরে বাক্স ভর্তি করতে এবং দিনের বেলায় ভোটের গোপনীয়তাকে কবর দিয়ে প্রকাশ্যে সরকার দলের প্রার্থীর মার্কায় ভোট দিতে বাধ্য করলো এর মাধ্যমে গোটা যুব সমাজের নৈতিকতা ও চরিত্রকে ধ্বংস করে দিল। যার ফলাফল হিসেবে জাতিকে এক অন্ধকার প্রকোষ্ঠে নিক্ষেপ করা হলো।
সভায় এই ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধে এবং জনসমর্থনহীন এই সরকারের বিরুদ্ধে সকল বাম প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় হেফাজতের আমির মওলানা শফির সংবিধান ও গণতান্ত্রিক চেতনা বিরোধী, নারী বিদ্ধেষী বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয় এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরিপন্থী নারী বিদ্ধেষী বক্তব্যের জন্য তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়। একই সাথে ধর্মান্ধ মৌলবাদী শক্তি ও ফতোয়াবাজদের বিরুদ্ধে সকল প্রগতিশীল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানানো হয়।
দুই দিনব্যাপী নির্বাচনের মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা সভায় কৃষক-শ্রমিক-ছাত্র-নারীসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষের ন্যায়সংগত দাবিতে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন গড়ে তোলার নানা কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়।