বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং সংগঠন করার দাবিতে শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

290716-Privet Univeristy-4মৌলবাদী ও জঙ্গি তৎপরতা প্রতিরোধ, মুক্তবুদ্ধির চর্চা, গণতান্ত্রিক শিক্ষা ব্যাবস্থা, প্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তোলা, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং সংগঠন করার দাবিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিক্ষোভ সমাবেশ আজ ২৯ জুলাই ২০১৬ বিকেল ৪:৩০টায় শাহবাগ মোড়ে অনুষ্ঠিত হয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক তোষণ দে-এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ছাত্র ফ্রন্টের সাবেক সভাপতি খালেকুজ্জামান লিপন, ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স, নগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মুক্তা বাড়ৈ, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ননি ফ্যাসিও, নথ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্দ্রজিৎ, ইবাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের আতিক, আহসান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদ বিন আকরাম নিলয়, এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মওদুদ তন্ময়, ডেফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কামরুল হাসান খান ও বিইউবিটির সাদরুল আনাম তাহসীন।
290716-Privet Univeristy-1সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার প্রায় ৬৭% শিক্ষার্থী এখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। টিআইবি’র একটি রিপোর্ট বলছে, বর্তমানে ৯৫টি বিশ্ববিদ্যলয়ের মধ্যে ৫২টি তে উপাচার্য আছে। সহ উপাচার্য আছে ১৮টিতে, ৩০টিতে কোষাধ্যক্ষ আছে। বাকীগুলোতে নেই। ১০-১২টি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়েরই নিজস্ব ক্যাম্পাস ও স্থায়ী শিক্ষক নেই। টিআইবির রিপোর্ট আরও উল্লেখ করছে, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য লেনদেন হয় ১ কোটি থেকে ৩ কোটি টাকা; ভিসি, প্রোভিসি, কোষাধ্যক্ষ নিয়োগের অনুমোদনের জন্য ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ; বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনা পরিদর্শনের জন্য ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ; বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিস্পত্তির জন্য ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা। রাষ্ট্র এই শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব নেয়নি বরং সামর্থ্য থাকলে পড়তে পারবে আর না থাকলে বিদায় হও এই নীতিতে পরিচালিত হয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য ইউজিসি’র যে ন্যূনতম শর্তগুলি প্রযোজ্য তা রক্ষিত হচ্ছে কিনা তা নজরদারি করার কথা মঞ্জুরি কমিশনের। কিন্তু উদ্যোক্তাদের মধ্যে বেশিরভাগ ব্যবসায়ী এবং শাসকদলগুলোর অর্ন্তভুক্ত রাজনীতিবীদ, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবি, সাবেক ছাত্রনেতা হওয়ার কারণে সেই নজরদারীও করা হয়না। আর এর ফলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ঘোষণায় অলাভজনক প্রতিষ্ঠান বললেও তা বর্তমানে শিক্ষা ব্যবসার রমরমা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। আর লাখ লাখ শিক্ষার্থী প্রতিদিন এর শিকারে পরিণত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার জন্য যে মুক্তচিন্তা চর্চার পরিবেশ থাকা প্রয়োজন তার ন্যূনতম আয়োজনও এসব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নেই। একদিকে মৌলিক বিষয়গুলোকে উপেক্ষা করে তথাকথিক বাজারমুখী বিষয়গুলো এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ানো হয়। যা শিক্ষার মূল চেতনা পরিপন্থী। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে লেখা থাকে ধূমপান ও রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মালিকদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য ঠিকই ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি ওনার্স এসোসিয়েশন’ আছে কিন্তু ছাত্রদের সংগঠিত হওয়ার মতো কোন প্ল্যাটফরম নেই। ছাত্রদের রাজনীতি-সংস্কৃতি চর্চার জন্য ছাত্র সংগঠন নাই। শিক্ষাজীবন থেকেই গণতান্ত্রিক চর্চার পাঠশালা হিসেবে ছাত্র সংসদ নির্বাচন নাই। বরং প্রতিযোগীতামূলক বাজারে টিকে থাকতে স্মার্ট হতে হবে, আধুনিক হতে হবে এইসব বকুনির আড়ালে দেশীয় শিল্প-সংস্কৃতি-ইতিহাস-ঐতিহ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে কর্পোরেট ভোগবাদী সংস্কৃতিতে আচ্ছন্ন একদল ছিন্নমূল মানুষ তৈরি করছে।
290716-Privet Univeristy-2নেতৃবৃন্দ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইউজিসি’র নজরদারী বাড়ানো, প্রয়োজনে আইনের সংস্কার করা, শিক্ষার ন্যূনতম আয়োজন নিশ্চিত করা, আর্থ-সামাজিক অবস্থার সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে টিউশন ফি নির্ধারণে অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করা, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রাকৃতিক বিজ্ঞান, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞানের মৌলিক বিষয়াবলীকে অর্ন্তভুক্ত করা ইত্যাদি যেমন প্রয়োজন। তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাধ মুক্তবুদ্ধি চর্চার গণতান্ত্রিক পরিবেশ নির্মাণও জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংগঠন, সাংস্কৃতিক সংগঠন করার স্বাধীনতা দিতে হবে এবং অবিলম্বে সারা দেশের সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেয়ারও জোর দাবি জানান।
290716-Privet Univeristy-3সমাবেশ থেকে নিম্ললিখিত দাবিগুলো সরকার যাতে বাস্তবায়ন করে তার জন্য দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন:-
১. সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠন, সাংস্কৃতিক সংগঠন করার স্বাধীনতা, অবাধ রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক চর্চার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। অবিলম্বে সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে হবে।
২. দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে টিউশন ফি নির্ধারণে সকল প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
৩. প্রাকৃতিক বিজ্ঞান, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়াবলী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্ন্তভুক্ত করতে হবে।
৪. প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগের উদ্যোগে বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক, গণমানুষের রাজনীতিক ইত্যদি মণীষীদের জীবনী ও তাঁদের কর্ম নিয়ে আলোচনা সভা, সেমিনার, স্মরণ সভা ইত্যাদি আয়োজন করতে হবে।