মওলানা ভাসানীর স্বপ্ন শোষণমুক্ত-ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এগিয়ে নিন-বাসদ

মওলানা ভাসানীর স্বপ্ন
শোষণমুক্ত-ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এগিয়ে নিন

——————————————————————– বাসদ
SPB-17112020-2মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রি দল-বাসদ ঢাকা মহানগর শাখার উদ্যোগে ১৭ নভেম্বর ২০২০ বেলা ১১:৩০টায় তোপখানা রোডস্থ বাসদ ভবনের নীচ তলায় মওলানা ভাসানীর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
SPB-17112020-4বাসদ ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ এর সভাপতিত্বেব অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বাসদ ঢাকা মহানগর শাখার সদস্য সচিব জুলফিকার আলী, সদস্য খালেকুজ্জামান লিপন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাসিরউদ্দিন প্রিন্স।
SPB-17112020-5আলোচনা সভায় বক্তারা মওলানা ভাসানীর দীর্ঘ ৯৬ বছরের জীবন ও সংগ্রাম এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, তিনি আজীবন আপোষহীন, অসাম্প্রদায়িক ও বিদ্রোহী মানুষ ছিলেন। তিনি যুবক বয়সে জমিদারতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়েছেন, আসামে গিয়ে ভূমিহীন কৃষক জনতার জন্য সংগ্রাম করেছেন। পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পর পাকিস্তানী শাসকদের উপনিবেশিক শাসন-শোষণ, বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তিনি পাকিস্তানের সাম্রাজ্যবাদের পক্ষে সিয়াটো, সেন্টু চুক্তি সমর্থন করায় তার তীব্র প্রতিবাদ করেন। তিনি পাকিস্তানে প্রথম গণতান্ত্রিক বিরোধী দল আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে মুসলিম শব্দ বাদ দিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে মওলানার ভূমিকা ছিল অগ্রণী। মওলানা ভাসানী ধর্মবিশ্বাসী ছিলেন তবে ধর্মান্ধ ছিলেন না। যা আজকের এই সময়ে ভাবতেও আশ্চায্য লাগে। স্বায়ত্তশাসন ও সাম্রাজ্যবাদী চুক্তি নিয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগের আপোষমুখি অবস্থানের বিরুদ্ধে গিয়ে তিনি আওয়ামী লীগ ছেড়ে ন্যাপ গঠন করেন। তিনি দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কৃষকদের নিয়ে ঘেরাও আন্দোলনের সূত্রপাত করেছেন। ৬ দফা বাস্তবায়ন ও ৬৯ এর গণআন্দোলন ও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন। তিনি বাংলাদেশে শোষণমুক্ত সমাজ তথা সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হোক তা সমসময় কামনা করতেন। এজন্য তিনি ঐ সময়ে বাম সংগঠনগুলোর সাথে যুক্ত হয়ে কৃষক ও শ্রমিক সংগঠন গঠন করে কৃষক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি নিযুক্ত হন। কিন্তু তৎকালীন সময়ে বামপন্থি কমিউনিস্টরা মওলানা ভাসানীকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। তিনি কাগমারি সম্মেলন থেকে পাকিস্তানকে যে ‘ওয়ালাইকুম আচ্ছালাম’ বলেছিলেন তাকে কাজে লাগানো গেলে হয়তো বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ও স্বাধীন বাংলাদেশের চিত্র ভিন্ন হতে পারত।
SPB-17112020-6বক্তাগণ আরও বলেন, তিনি স্বাধীন দেশে দুর্নীতি, লুটপাট ও দুর্ভিক্ষের বিরুদ্ধে লড়েছেন এবং জীবনের সাহাহ্নে এসে ভারত সরকার কর্তৃক একতরফা ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে ১৯৭৬ সালের মে মাসে দুদিনব্যাপী লংমার্চ করেছেন। বক্তারা মওলানা ভাসানীর সমগ্র জীবন নিয়ে লেখক, গবেষক, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদ এর উদ্বৃত করে বলেন, শোষণের অস্তিত্ব তিনি যেখানেই অনুভব করেছেন, প্রতিবাদে গর্জে উঠেছেন। সেজন্যই তিনি সংগ্রাম শুরু করেন জোতদার ও জমিদারদের বিরুদ্ধে, সুদখোর মহাজনের বিরুদ্ধে, আসামের অমানবিক লাইন প্রথা ও বাঙাল খেদাও আন্দোলনের বিরুদ্ধে, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে এবং পাকিস্তানী উপনিবেশিক শাসক-শোষকদের বিরুদ্ধে। স্বাধীনতার পরে যখন তিনি লক্ষ্য করেন এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশেও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা হচ্ছে না, তখনও এর প্রতিবাদ করে গেছেন তিনি।
SPB-17112020-3বক্তাগণ তার জীবন ও সংগ্রাম থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনে পুঁজিবাদ, সাম্রাজ্যবাদ, ফ্যাসিবাদ, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াইকে আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

Translate »