মজুরি কমিশন গঠন করে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ১৫০০০/= টাকা ঘোষণা কর-গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট

শ্রমিকের অধিকার ও মর্যাদাপুর্ণ জীবনমান বিবেচনায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি শীর্ষক গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট আয়োজিত মতবিনিময় সভায় আলোচকবৃন্দ।291215_GSF-Audianceআজ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫ মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির গোলটেবিল মিলনায়তনে ‘শ্রমিকের অধিকার ও মর্যাদাপুর্ণ জীবনমান বিবেচনায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি আহসান হাবিব বুলবুল এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় ন্যায্য মজুরি নির্ধারণের মানদন্ডের বিভিন্ন সুচক তুলে ধরে আলোচনা করেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, তেল-গ্যাস-বিদুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল – বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড বজলুর রশিদ ফিরোজ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি জাহেদুল হক মিলু, সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ এর সভাপতি হবিবুল্লাহ বাচ্চু, সাবেক সভাপতি খলিলুর রহমান, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের নির্বাহী উপদেষ্টা শামিম ইমাম, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আন্তর্জাতিক সম্পাদক মনজুর মঈন, গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের অর্থ সম্পাদক সহিদুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ। মতবিনিময় সভায় ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি খালেকুজ্জামান লিপন । সভায় উপস্থিত ছিলেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের অর্থ সম্পাদক জুলফিকার আলী, রি-রোলিং এন্ড ষ্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সহ-সভাপতি খাইরুল কবির, সহ-সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম গোলক, সাংগঠনিক সম্পাদক সৌমিত্র কুমার দাস, গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক দিপক রায়, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের অর্থ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরিফ, সোহাগ, নুর হোসেন প্রমুখ।291215_GSF-Khalequzzamanআলোচকবৃন্দ শ্রমিকের দৈনিক প্রয়োজনীয় খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা ও অন্যান্য দ্রব্যের বাজার মূল্য, আন্তর্জাতিক দারিদ্র সীমা অনুসারে মাথাপিছু আয় এবং ঘোষিত জাতীয় পে-স্কেলের প্রেক্ষিতে অবিলম্বে মজুরি কমিশন গঠন করে জাতীয় ন্যূনতম  মজুরি ১৫০০০/= টাকার অধিক ঘোষণা করা এবং ঘোষিত মজুরি বাস্তবায়নের জন্য আইনি বাধ্যবাধকতা থাকা ঊচিত বলে মত দেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, গত মে মাসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন পে-কমিশনের পর মজুরি কমিশন ঘোষণা করা হবে। জাতীয় পে-স্কেল ঘোষিত হয়েছে তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রকৃচির সদস্যগণ মর্যাদা ও বৈষম্য নিরসনের দাবিতে আন্দোলন করছেন। অন্যদিকে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারমূল্য, বাড়ি ভাড়া, গাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির কারনে পিষ্ট দেশের মোট শ্রম শক্তির নব্বইভাগ যে শ্রমিক, তাদের ন্যায্য মজুরির দাবি আজ অনুচ্চারিত।291215_GSF-Mujahidul Islam Selimআলোচকবৃন্দ জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ১৫০০০/= টাকা ঘোষণার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।291215_GSF-Anu Muhammadমতবিনিময় সভায় উস্থপিত ধারনাপত্র নিচে দেয়া হলো:

‘শ্রমিকের অধিকার ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনমান বিবেচনায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি’ শীর্ষক

মতবিনিময় সভা

২৯ ডিসেম্বর ২০১৫ সকাল ১০টা

গোলটেবিল মিলনায়তন, ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটি

বাংলাদেশের উৎপাদনের প্রধান চালিকা শক্তি কি? এ প্রশ্নের উত্তর দিতে কোন দ্বিধা কি কারও আছে? একবাক্যে সবাই বলবেন শ্রমজীবী মানুষই অর্থনীতি এবং উৎপাদনের প্রধান চালিকা শক্তি। আবার যদি জানতে চাওয়া হয় দেশে সবচেয়ে দুর্দশাগ্রস্ত কারা? শারীরিকভাবে দুর্বল, অসুস্থ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করে কারা? মাথা পিছু আয় কম এমনকি সবচেয়ে কম মজুরি পায় কারা, এরকম প্রশ্ন যতই করা হোক না কেন উত্তর কিন্তু একটাই-তা হলো বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষ। সেই শ্রমিকের মজুরি কত হলে তা ন্যায্য হয় এটা নির্ধারণ করা নিয়ে শ্রমিক-মালিক-সরকারের ত্রিমুখী লড়াই চলছে। মালিক বলে, মজুরি বাড়ানো সম্ভব নয়, সরকার বলে, মালিকদের স্বার্থওতো দেখতে হবে। একদল অর্থনীতিবিদ হিসেব দেখিয়ে বলেন, বিশ্বাবাজার-মালিকদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা এসব বিচার করে শ্রমিকের মজুরি নির্ধারণ করতে হবে, যাতে দু পক্ষই জিতে। অভিজ্ঞতা বলে, এসব যুক্তি শেষ পর্যন্ত মালিকদের পক্ষেই যায়। মালিক-সরকার-বুদ্ধিজীবী যদি এক পক্ষে দাঁড়ায় তা হলে শ্রমজীবী মানুষের পক্ষেও যুক্তি নিয়ে দাঁড়ানো জরুরি হয়ে পড়ে। আমাদের জাতীয় ফেডারেশন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট দীর্ঘদিন ধরেই মজুরি নির্ধারণের মাপকাঠি কী হওয়া উচিৎ তা বলে আসছে। মজুরি : বাজারদর-শ্রমিকের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বিষয়। মজুরির পরিমাণ নিয়ে মালিকের দৃষ্টিভঙ্গি ও মনোভাব আর শ্রমিকের মনোভাব বিপরীত। মালিক বলে, আমরা যা দিচ্ছি তা যথেষ্ট; শ্রমিক বলে-সব জিনিসের দাম বাড়ছে, এই মজুরিতে আমার পোষায় না, এ মজুরি কোন ভাবেই যথেষ্ঠ নয়। তাহলে বিতর্কের সমাধান কোথায়? মজুরি কত হলে তা ন্যায্য হবে? মজুরির পরিমাণ তো সব সময় এক থাকে না, মজুরি নির্ধারণের মাপকাঠিই বা কী হবে? বর্তমান সময়ে ন্যূনতম মজুরি কত হলে তা শ্রমিকদের বাঁচারমতো মজুরি হবে। তা নিয়ে যুক্তিসঙ্গত আলোচনা হওয়া উচিত।

দেশের রপ্তানি আয়ের ৮০ ভাগ আসে গার্মেন্টস খাত থেকে। গত বছর বাংলাদেশের মোট রপ্তানিআয় ছিল ৩০ বিলিয়ন ডলার, এর মধ্যে ২৪ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা গার্মেন্টস খাত থেকে আয় হয়েছে। ১৯৭৮ সালে ২টি গার্মেন্টস কারখানা এবং বার হাজার ডলার রপ্তানিআয় দিয়ে যে শিল্পের যাত্রা শুরু, সেখানে আজ প্রায় ৪৫০০টি কারখানা স্থাপিত হয়েছে। ৪০ লাখ শ্রমিক এ শিল্পের সাথে যুক্ত। পৃথিবীতে ২৬টি গার্মেন্ট রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে সস্তা শ্রমিকের দেশ। চীনের পর বাংলাদেশ এখন দ্বিতীয় বৃহত্তম গার্মেন্টস রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে।

একজন শ্রমিক নির্দিষ্ট সময় কাজ করার পর কাজের বিনিময়ে যে অর্থ পায় তাকে মজুরি বলে। মজুরি সাধারণত মাসিক ভিত্তিতে হয়। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাপ্তাহিক, দৈনিক বা পিস রেট ইত্যাদি রূপেও হতে পারে। আইএলও কনভেনশন এর ১৩১ নং ধারায় বলা হয়েছে, ‘সর্বনিম্ন মজুরি অবশ্যই আইন দ্বারা নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিক ও তার পরিবারের প্রয়োজন, জীবন যাত্রার ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা ইত্যাদিকে বিবেচনায় নিয়ে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করতে হবে।’ বিশ্ব মানবাধিকার ঘোষণায় বলা হয়েছে-‘প্রত্যেক কর্মীর নিজের ও পরিবারের মানবিক মর্যাদা রক্ষায় সক্ষম এমন ন্যায্য পারিশ্রমিক পাওয়ার অধিকার রয়েছে।’

বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫নং অনুচ্ছেদে নাগরিকদের যুক্তিসঙ্গত মজুরির বিনিময়ে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার বিষয়টি রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে বলা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, যুক্তিসঙ্গত অথবা মানবিক মর্যাদা রক্ষা করারমতো মজুরি নির্ধারণ করা হবে কীভাবে? একটি শ্রমিক পরিবারে কী কী দরকার হয়? অন্তত তিন বেলা খাবার, পোশাক, মাথা গোঁজার ঠাঁই, অসুস্থ্য হলে চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষা, বৃদ্ধ বয়সের জন্য সঞ্চয়, অতিথি আপ্যায়ন ও বিনোদন ছাড়া মানবিক জীবন কীভাবে হয়? এসব বিবেচনায় নিয়ে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ন্যুনতম মজুরির বিধান আছে। অন্তত, ৯০টি দেশে ন্যূনতম মজুরি আইন করে নির্ধারণ করা হয়। ন্যূনতম মজুরি আইন প্রথম করা হয় নিউজিল্যান্ডে ১৮৯৬ সালে। এর পর অস্ট্রেলিয়ায় ১৮৯৯ সালে, ব্রিটেনে ১৯০৯ সালে, শ্রীলংকায় ১৯২৭ সালে এবং ১৯৩৬ সালে ভারতে, ১৯৬৯ সালে পাকিস্তানে প্রবর্তন করা হয়। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিকে বিবেচনায় নিয়ে ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, বেলজিয়াম, পর্তুগাল, স্পেন, মরিশাস, মেক্সিকো প্রভৃতি দেশে প্রতি বছর মজুরি পুনঃনির্ধারণ করা হয়। কানাডায় করা হয় প্রতি দুই বছর পর পর। বাংলাদেশে পাঁচ বছর পর পর মজুরি পুনঃনির্ধারণের আইন করা হয়েছে।

মজুরি কতো হলে বাংলাদেশের বিবেচনায় তা ন্যূনতম মজুরি হবে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হিসাব করে দেখিয়েছে দৈনিক ১০ ঘণ্টা কাজ করলে একজন পুরুষ গার্মেন্টস শ্রমিকের ৩ হাজার ৩৬৪ কিলোক্যালরি এবং নারী শ্রমিকের ২ হাজার ৪০৬ কিলোক্যালরি তাপ লাগে। এ হিসাবকে ভিত্তি ধরে কী পরিমাণ ও কী ধরনের খাদ্য প্রয়োজন ও তার বাজারমূল্য হিসাব করলেও ২৪,৫৫০ টাকার কমে একটি পরিবার চলতে পারে না। সাধারণভাবে একজন মানুষের জন্য তাপশক্তি কত লাগে, এটা হিসেব করতে হলে বিভিন্ন কাজে কত কিলোক্যালরি তাপ লাগে তা জানা দরকার। স্বাভাবিক স্বাস্থ্যের একজন মানুষের তাপশক্তি প্রয়োজন হয় : মাঝারি গতিতে হাঁটলে (১২ মিনিটে ১ কি. মি.) ৪ কিলোক্যালরি, মাঝারি ধরনের কাজে ৩ কিলোক্যালরি, ঘরের কাজে ২ কিলোক্যালরি, বসে থাকতে (টিভি দেখা, গল্প করা) ১.৫ কিলোক্যালরি, ঘুমানোতে ১ কিলোক্যালরি প্রতি মিনিটে প্রয়োজন হয়।

এ হিসাবে একজন গার্মেন্টস শ্রমিকের প্রতিদিন কত কিলোক্যালরি তাপ প্রয়োজন :

৮ ঘণ্টা কাজ (৮X৬০ X ৩)                                                            = ১৪৪০ কিলোক্যালরি

৮ ঘণ্টা ঘুম (৮ X ৬০ X১)                                                               = ৪৮০ কিলোক্যালরি

১ ঘণ্টা বিরতি (১ X৬০ X ১.৫)                                                     = ৯০ কিলোক্যালরি

২ ঘণ্টা ওভারটাইম (২ X ৬০ X ৩)                                             = ৩৬০ কিলোক্যালরি

২ ঘণ্টা ঘরের কাজ (২ X ৬০X২)                                                 = ২৪০ কিলোক্যালরি

২ ঘণ্টা অবসর, আড্ডা, গল্প (২ X ৬০ X ১.৫)                          = ১৮০ কিলোক্যালরি

১ ঘণ্টা হাঁটা : কর্মক্ষেত্রে যাওয়া-আসা (১ X ৬০ X৪)              = ২৪০ কিলোক্যালরি

সর্বমোট     = ৩০৩০ কিলোক্যালরি

নারী শ্রমিকদের ওজন ৫০ কেজি ধরলে এর কিছুটা কম কিলোক্যালরি তাপ লাগবে। আবার সন্তান সম্ভবা কিংবা প্রসব পরবর্তী সময়ে খাবার ও পুষ্টি কিছু বেশি লাগবে। এখানে আরো একটি বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। গার্মেন্টসের একজন নারী শ্রমিক ঘুমায় কতক্ষণ? এক হিসাবে দেখা গেছে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা। তাকে রান্নার জন্য লাইন দিতে হয়, বাথরুমে যাবার জন্য লাইন দিতে হয়। একারণে ফ্যাক্টরিতে দেরিতে আসলে মজুরি কেটে নেয়া বা অনুপস্থিত দেখানো হয়, ফলে ঘুম বা বিশ্রাম না হলেও তাকে ছুটতে হয়।

সুষম খাদ্য দ্বারা এই ক্যালরির প্রয়োজন মেটালে শারীরিক সুস্থতা এবং কর্মশক্তি রক্ষা করা সম্ভব। পুষ্টি বিজ্ঞানিদের মতে মোট খাদ্যের ৫৭ শতাংশ কার্বহাইড্রেট যেমন, চাল-আটা দ্বারা, ৩০ শতাংশ চর্বি জাতীয় খাবার যেমন, তেল-ঘি-মাখন দ্বারা এবং ১৩ শতাংশ প্রোটিন জাতীয় খাদ্য যেমন, মাছ-মাংস, ডিম-দুধ দ্বারা পূরণ করা দরকার। ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ খুবই প্রয়োজন, রোগ প্রতিরোধ এবং শক্তি ব্যবহার করার জন্য। আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম শক্তি উৎপাদন করে না কিন্তু এগুলোর অভাব হলে শরীর কর্মক্ষম থাকতে পারে না। ভিটামিন ও খনিজ দ্রব্যের জন্য শাক-সবজি ও ফলমূল খাওয়া প্রয়োজন।

বাজারে প্রাপ্ত সস্তা খাবার দ্বারা যদি একজন শ্রমিক তার শক্তি ও পুষ্টি রক্ষা করতে চায়, তাহলে প্রতিদিন নিম্নরূপ খরচ হবে :

খাদ্য ও পরিমাণ

খাবারের নাম                                                      ক্যালরি                 বাজার মূল্য (টাকা)

চাল ৫০০ গ্রাম                                    ২০০০             ১৮.০০

ডাল ৬০ গ্রাম                                      ২০০                      ০৮.৫০

তেল (সয়াবিন) ৫০ মিলিলিটার          ৪৫০                      ০৫.০০

ডিম ১টি                                               ৭০                         ০৮.০০

মাছ ৬০ গ্রাম                                       ৮০                         ১০.০০

আলু ১০০ গ্রাম                                   ১০০                      ০৩.০০

শাক-সবজি ১৫০ গ্রাম                     ৫০                         ০৩.৫০

কাঁচা মরিচ, মশল্লা, হলুদ                                –               ০৫.০০

ফল : ১টি কলা                                   ৫০                        ০৭.০০

রান্নার খরচ                                                                       ০৫.০০ (লাকড়ি বা কেরসিন খরচ)

চা : দিনে ২ কাপ                                                                ১০.০০

সর্বমোট                                                                ৩০০০ কিলোক্যালরি      ৮৩.০০ টাকা

(আমরা জানি অসুস্থ হলে খরচ বাড়ে আবার শিশুদের ভাত কম লাগে কিন্তু শিশুদের অন্যান্য খরচ বেশি। তাই সব মিলে গড়ে ৮৩ টাকা প্রতিদিন খরচ ধরলে)।

৫ জনের পরিবারের খরচ কত?

খাওয়া খরচ  (৮৩X ৫ X ৩০)                                                                                 = ১২,৪৫০.০০

বাসা ভাড়া {২ রুমের ভাড়া (৪০০০) + পানি + বিদ্যুৎ)}                                         =   ৫,০০০.০০

যাতায়াত-২ জন কর্মজীবী মানুষ (৫০০ X ২)                                                         =   ১,০০০.০০

চিকিৎসা (২০০ X ৫)                                                                                                 =   ১,০০০.০০

শিক্ষা খরচ                                                                                                                  =   ২,০০০.০০

অতিথি আপ্যায়ন                                                                                                       =   ১,০০০.০০

তেল, সাবান, টুথপেস্ট, সেভিং কিটস, ক্রিম, পাউডার                                             =     ৫০০.০০

জুতা, স্যান্ডেল                                                                                                            =     ২০০.০০

মোবাইল খরচ                                                                                                            =     ৪০০.০০

পোশাক (বছরে ৪ সেট কাপড়, বিছানার  চাদর)                                                      =   ১,০০০.০০

সর্বমোট                                                                                                                     =২৪,৫৫০.০০

এখানে সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়, বিনোদন, অতিথী আপ্যায়ন হিসাবে ধরা হয়নি। এগুলো ছাড়া কি মানুষের জীবন চলে? না। কে না চায় তার সন্তান সুস্থ থাক, শিক্ষিত হোক। বৃদ্ধ বয়সে যখন কর্মক্ষমতা থাকে না তখন একজন মানুষ ভীষণ অসহায় হয়ে পড়ে। এই অসহায় সময়ে জীবন ধারণের জন্য সঞ্চয় করা বা সন্তানের উপর নির্ভর করতে সবাই চায়। ভবিষ্যতের জন্য বা যে কোন বিপদ আপদের সময় কাজে লাগাবার জন্য কোন সঞ্চয় কি শ্রমিক করবে না? শ্রমিক কি তাদের বাবা মা’র ভরণ পোষণের দায়িত্ব নেবে না? যদি নিতে হয় তাহলে তার মজুরি কত হওয়া উচিত? একটা প্রশ্ন আসতে পারে চাকরির শুরুতেই তো শ্রমিকের বিয়ে এবং সন্তান-সন্ততি হবে না। তাহলে শুরুতে বেতন কত হওয়া উচিৎ? আমরা মনে করি শ্রমশক্তি দ্বারা যা উৎপাদন হয় এবং জীবন ধারণ করতে যা যা প্রয়োজন হয় তার মূল্য বিবেচনা করে শ্রমিকের সর্বনিম্ন মজুরি ১৫০০০ টাকা হওয়া উচিত।

মন্ত্রী-এমপিদের বেতন বাড়ে-শ্রমিকের বাড়বে না কেন?

দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপিদের বেতন ভাতা বাড়ানো হয়েছে। ইতিমধ্যে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করা শুরু হয়েছে। এবার নতুন পে স্কেল অনুযায়ী সর্বনিম্ন বেতন দাঁড়াবে প্রায় ১৩,৮০০ টাকা। সর্বোচ্চ বেতন দাঁড়াবে (৭৮ হাজার টাকা মূলবেতন ধরলে) দেড় লাখ টাকারও বেশি। তাহলে যারা উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত আছে তাদের বেতন কত হওয়া উচিত? পে স্কেল ঘোষণার পর থেকেই দ্রব্যমূল্য, বাড়িভাড়া এখন গাড়িভাড়াও বেড়ে গেছে। ফলে গার্মেন্টস শ্রমিকরা অর্থনৈতিকভাবে দুর্দশার মধ্যে পড়েছে।

কারণ শুধু জীবন ধারণ করার জন্যই তো চাকরি নয়, নিজের ও সন্তানের ভবিষ্যৎকে বিবেচনা করতে হবে। আজ থেকে ২৫ বছর পর দেশের উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হলে শ্রমিকের সন্তানের কথা ভাবতে হবে। জীবন যাত্রার ব্যয় যখন সর্বত্র বাড়ছে তখন ১৫ হাজার টাকা মজুরি দাবি কি একেবারেই ন্যূনতম নয়। অতীতে সবসময় পে কমিশনের চাইতে শ্রমিকের মজুরি বেশি নির্ধারণ করা হতো। দেশের অর্থনীতির অবস্থা এবং মালিকদের সক্ষমতাসহ সামগ্রিক বিবেচনায় একজন গার্মেন্টস শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি তাই হওয়া উচিত কমপক্ষে ১৫ হাজার টাকা।

দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতার স্বার্থেই শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন

শ্রমিক বেতন পেলে সে টাকা দেশেই খরচ করে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য যেমন কাপড়, সাবান, টুথপেস্ট, স্যান্ডেলসহ দ্রব্য উৎপাদন ও বিক্রি বাড়ে। লুটপাটকারী ধনীরা বিদেশে বাজার করে, বিদেশে টাকা পাচার করে। শ্রমিকের বেতন বৃদ্ধি মানে দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি, বাজার সম্প্রসারিত হওয়া এবং উৎপাদন বৃদ্ধি। তাই যে দেশের শ্রমিকদের মজুরি বেশি সে দেশ তত অর্র্থনৈতিকভাবে উন্নত। পাঁচ-ছয় হাজার টাকা বেতনের একজন দরিদ্র শ্রমিক মানে কম খেতে পাওয়া, চিকিৎসাহীন দুর্বল শ্রমিক, তার কাছে বেশি উৎপাদন আশা করা বোকামি। দুর্বল শ্রমিকের সন্তান শারীরিকভাবে দুর্বল এবং শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। ফলে ২৫ বছর পরে কি ধরনের শ্রমশক্তি পাব তা ভাবলে আতঙ্কিত হতে হয়।  জীবন যাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে বিবেচনা করলে এবং দেশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থেই, সকল শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৫ হাজার টাকা করা প্রয়োজন। একটা বিষয় পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে মজুরি কোন দয়া নয়। উৎপাদন ক্রিয়ার অংশিদার হিসেবে শ্রমিককে বিবেচনা করে বাজার দরের সাথে সঙ্গতি রেখে জীবনধারণেরমতো মজুরি তাকে দিতেই হবে।

মজুরি বাড়ালে গার্মেন্টস চলে যাবে অন্য দেশে এ ধারণা অমূলক

মজুরি কত কম দিলে বিদেশের বাজার ধরে রাখা যাবে অথবা মজুরি বাড়লে তা পণ্যের দামের উপর কত প্রভাব পড়বে সে সম্পর্কে আলোচনা করলেই বোঝা যাবে গার্মেন্টস শিল্প অন্য দেশে চলে যাবে কিনা?

ব্রিটেনের ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস ২০১৩ সালের ১০ মে এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানায়, বাংলাদেশের শ্রমিকদের মজুরি দ্বিগুণ করলে ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে একটি টি শার্টের মূল্য বাড়বে মাত্র তিন সেন্ট। আমেরিকায় একটি টি শার্টের দাম ৩ থেকে ১৫ ডলারের মধ্যে। বিভিন্ন কারণে সেখানে টি শার্টের দাম ১০-৩০ সেন্ট বাড়ে কমে। তা হলে ৩ সেন্ট দাম বাড়লে সেখানকার ক্রেতারা টি শার্ট কিনবে না এটা বিশ্বাসযোগ‌্য নয়। আসলে দেশি মালিক আর বিদেশি মালিক বায়ার-রা মিলে শ্রমিককে কম মজুরি দেয়ার জন্য মিথ্যা ভূতের ভয় দেখায়। বাস্তবে গার্মেন্ট চলে যাওয়া তো দূরের কথা উল্টো চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমাদের দেশে কাজ আসছে, ইতিমধ্যে চীনের ব্যবসায়ীদের একটা বড় দল বাংলাদেশ ঘুরে গেছে। তারা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সাথে বৈঠক করে গেছে।

বাংলা নিউজ ২৪ . কম ১৪ মার্চ ২০১৩ সালের রিপোর্টে উল্লেখ করেছে থাইল্যান্ড মালয়েশিয়া ছেড়ে বাংলাদেশে আসছে ব্যবসায়ীরা। বেপজা-র চেয়াম্যান মেজর জেনারেল কে এম মমিনর রহমান বলেন, চীনে শ্রমিকের গড় মজুরি ৫০০ ডলার, ভিয়েতনামে ৩০০ ডলার। চীন থেকে ব্যবসায়ীরা থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম মালয়েশিয়ায় যাওয়া শুরু করেছিল। এসব দেশে শ্রমিকের গড় মজুরি বৃদ্ধি পেয়ে এখন তিনশ ডলার। বাংলাদেশ এখন তাই তাদের পছন্দের প্রথম তালিকায়। এখানে গড় মজুরি ৭০ ডলারেরও কম।

পি এইচ গার্মেন্টস থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে এসেছে তাকে জায়গা দেয়া হয়েছে কর্ণফুলী এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনে। মালয়েশিয়া থেকে সব কারখানা বন্ধ করে বাংলাদেশে এসেছে ‘গ্লোবাল লেবেল’। স্যামসাং বাংলাদেশে আসতে চায়। বেপজার কাছে ৫০০ প্লট চেয়েছে তারা। চট্টগ্রাম ইপিজেড এর পার্শ্বে একটি জায়গার কথা ভাবছে বেপজা। চীনের পাঁচটি বড় কোম্পানি মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে আসতে চায়। এসবই কিন্তু সস্তা ও দক্ষ শ্রমশক্তির কারণে। পোপ পর্যন্ত বলতে বাধ্য হয়েছেন, বাংলাদেশে শ্রম দাস ব্যবস্থা চলছে। এ দাসরা যদি একটু পেট ভরে খাবারমতো ব্যবস্থা, রাতে ঘুমানোর জন্য ভাড়া করে থাকারমতো ঘর এবং কোন রকমে বাঁচারমতো মজুরি পেতে চায়, তা হলে রব উঠে গার্মেন্টস আর থাকবে না। এধরনের কথা বলার উদ্দেশ্য হলো-শ্রমিকদের গার্মেন্টস অন্য দেশে চলে যাওয়া ও চাকরি হারানোর ভয় দেখিয়ে কম মজুরির ফাঁদে আটকে রাখা। বাংলাদেশের প্রচুর শ্রমশক্তি এবং দক্ষ শ্রমিককে এরা সস্তা মজুরির ফাঁদে আটকে রাখতে চায়।

মালিকরা শুধু মুনাফাই করে না, সরকারের কাছ থেকে সব রকম সুবিধা নেয়-শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি বাস্তবায়ন হবে না কেন?

মালিকরা শিল্প কারখানা নির্মাণ করে শ্রমিকদের কাজ দিয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে, শিল্প কারখানা বন্ধ হলে লাখ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে যাবে-এসব কথা বলে মালিকরা সরকারের কাছ থেকে সব সময় সুবিধা নিয়ে থাকে। সরকারও ঘোষণা করে তারা ব্যবসা বান্ধব সরকার, ফলে তারা পরস্পর পরস্পরের সহযোগী। একারণেই জাতীয় সংসদে মালিক ও ব্যবসায়ীদের প্রাধান্য, এরা আইন প্রণয়ন করে প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করে। এদের কোন দাবিই সরকারের কাছে অপূর্ণ থাকে না। এরা প্রণোদনার নামে টাকা নেয়, ১ শতাংশ সুদে সরকারের কাছে ঋণ চায়, কাঁচামাল আমদাদিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা চায়-এদের চাওয়ার কোন শেষ নাই। কিন্তু শ্রমিক মজুরি দাবি করলে বলে, তাদের সব উৎপাদনের জিনিসের দাম বাড়ছে, ফলে মজুরি বাড়ানো সম্ভব নয়। কিন্তু তারা যদি বাজারদরের সাথে তাল মিলিয়ে সুতা, কাপড়, যন্ত্রপাতি, রং, বিদ্যুৎ এর দাম দিতে পারে, পরিবহনের বাড়তি ভাড়া মিটাতে পারে, তাহলে শ্রমিকের মজুরির বেলায় তার ব্যতিক্রম কেন হবে? শ্রমিকদের খাবার, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা খরচ, সন্তানের শিক্ষা খরচ কি বাড়ছে না?

দেশ উন্নত হচ্ছে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে তার সাথে সাথে শ্রমিকের জীবন কি উন্নত হবে না? প্রতিনিয়ত হিসেব দেয়া হচ্ছে স্বাধীনতার পর দেশের অনেক উন্নতি হয়েছে মাথা পিছু আয় বেড়েছে। খাদ্য উৎপাদন, রপ্তানি আয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সবই বাড়ছে। কিন্তু তার সাথে সঙ্গতি রেখে শ্রমিকের জীবন-যাপন উপযোগী মজুরি যদি না বাড়ে তাহলে বৈষম্য ক্রমাগত বাড়তেই থাকবে। সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১৩১৪ ডলার। সে হিসেবে ৫ সদস্যের একটি পরিবারে মাসিক আয় হওয়ার কথা গড়ে ৪৩,৮০০ টাকা। একটি শ্রমিক পরিবারের মাসিক আয় কত? এ হিসাব থেকে বোঝা যায় শ্রমিক যারা উৎপাদনের নিয়ামক শক্তি তারা গড় আয়ের কত নিচে পড়ে আছে। পুষ্টিকর ও প্রয়োজনীয় খাদ্যের অভাবে পুষ্টিহীনতায় আক্রান্ত শ্রমিক যেমন উৎপাদিকা শক্তি বাড়াতে পারে না তেমনি মানবিক অধিকার নিয়ে বাঁচতে পারে না। স্বাধীনতার প্রধান লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু স্বাধীনতার পর দেশের বয়স যত বাড়ছে সমাজে বৈষম্যও তত বাড়ছে।

সমাজে আয় বৈষম্য শুধু অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে ব্যহত করে না। গণতান্ত্রিক অধিকার ও সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে। যে শ্রমিকের শ্রমে ঘামে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ঘটে সে কি গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকবে? ন্যায্য মজুরি ছাড়া শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার কথা বলা অর্থহীন। ন্যায্য মজুরির আন্দোলন তাই গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ। আন্দোলন করলে শিল্প ধ্বংস ও দেশের ভাবমুর্তি ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। পুলিশী নির্যাতন করে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ন্যায্য মজুরি না দিয়ে দমনমূলক ব্যবস্থা নিলে শিল্পে শান্তি বিরাজ করবে না। গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণ, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সুষ্ঠু শিল্প সম্পর্ক বজায় রাখার স্বার্থেই ন্যায্য মজুরি বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট

কেন্দ্রীয় কমিটি

তারিখ : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫