মন্ত্রী পরিষদে অনুমোদিত সড়ক পরিবহন আইন সম্পর্কে বাসদ এর প্রতিক্রিয়া

মন্ত্রী পরিষদে অনুমোদিত সড়ক পরিবহন আইন সম্পর্কে বাসদ এর প্রতিক্রিয়া
এই আইন শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা ও জনগণের জান-মাল রক্ষায় মোটেই যথার্থ নয়
Haturi-kastey edited copyবাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান ৯ আগস্ট ২০১৮ সংবাদপত্রে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সরকার তড়িঘড়ি করে ৭ বছর ঝুলে থাকা সড়ক পরিবহন আইন মন্ত্রীসভায় অনুমোদন দিয়েছে। পত্র-পত্রিকায় যেটুকু সংবাদ এই আইন সম্পর্কে বেরিয়েছে তাতে সড়ক নৈরাজ্য বন্ধে এটা কতটুকু কার্যকর হবে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহল ও গোটা দেশবাসীর মতো আমরাও সন্দিহান। বাস্তবে এই আইনে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের দাবি বাস্তবায়ন হবে না এবং জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা বিধানে মোটেই যথার্থ নয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীসহ গোটা দেশবাসীর প্রত্যাশা ছিল সড়কে নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা দূর করে নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় বিশেষজ্ঞসহ সকল মহলের মতামতের ভিত্তিতে একটি যথার্থ আইন প্রণয়ন করা হবে। কিন্তু তা না করে দুর্ঘটনার সব দায় পরিবহন শ্রমিকদের উপর চাপিয়ে তাদের শাস্তির বিধান করে, মালিকের মুনাফালোভ, বিআরটিএ, ট্রাফিক পুলিশ, পরিবহন সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম তা রোধে কার্যকর কোন ব্যবস্থার কথা বলা হয়নি।
খালেকুজ্জামান বলেন, সরকার সড়ক দুর্ঘটনার সকল দায় শ্রমিকের উপর চাপানো এবং তাদের শাস্তির ব্যাপারে যতটা উৎসাহী মালিক সিন্ডিকেট এবং অব্যবস্থাপনা বন্ধ করায় ততটাই নিরব। এ মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেছে মন্ত্রী পরিষদ অনুমোদিত আইনে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময়ও সরকার সুকৌশলে মালিক ও অন্যান্যদের আড়াল করে ছাত্র-শ্রমিক মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপপ্রয়াস চালিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, যানবাহনের ফিটনেস, রুট পারমিট দেখার দায়িত্ব যাদের তাদের ব্যাপারে তেমন কিছুই বলা হয়নি। চালকদের নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, কর্মঘণ্টা, বেতন কাঠামো, বিশ্রামাগার, সৌচাগার, ট্রেনিং ইন্সটিটিউট, লাইসেন্স প্রদানে জটিলতা দীর্ঘসূত্রিতা, ঘুষ-দুর্নীতি দূর ইত্যাদির ব্যাপারেও কার্যকর কি পদক্ষেপ নেয়া হবে তা সুস্পষ্ট উল্লেখ এই আইনে নাই।
বিবৃতিতে বলা হয়, যে দেশে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয় না, হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন হয়না, সেখানে আইনের বাস্তবায়ন হবে তার নিশ্চয়তা কে দেবে? ফলে আইনের বাস্তবায়নে যারা ব্যর্থতার পরিচয় দেবে তাদেরও শাস্তির আওতায় এনে আইন করতে হবে। আর আন্দোলন ধামাচাপা দেয়ার জন্য যেনতেন আইন না করে বিশেষজ্ঞসহ সকল মহলের মতামতের ভিত্তিতে কার্যকর আইন প্রণয়নের জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।