মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনায় জনকল্যাণে বাজেট প্রণয়ন করুন-বাসদ

২০১৯-২০ অর্থ বছরের
বাজেট ধনীকে আরো ধনী, গরীকে আরোও নিঃম্ব করবে
বাজেট ধনী, শিল্প মালিক, ঋণখেলাপী, কালোটাকার মালিক ও টাকা পারচারকারী বান্ধব, জন বান্ধব নয়
IMG_1670 copyবাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ ঢাকা মহানগর শাখার উদ্যোগে আজ ১৪ জুন বিকাল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঘোষিত বাজেট নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বাসদ ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ ঢাকা নগরের সদস্য সচিব জুলফিকার আলী, সদস্য খালেকুজ্জামান লিপন, আহসান হাবিব বুলবুল, শম্পা বসুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, এবারের বাজেট দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতির বাজেট। বাজেটে ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে। তা সত্বেও ব্যাংক, শিল্প মালিক, গার্মেন্টস মালিক, কালো টাকার মালিক ও টাকা পাচারকারীদের নানাভাবে ছাড় ও প্রণোদনা দিতে সরকারের বাজেটে কোন কমতি হয়নি। যে দেশে শ্রমিকদের মজুরি পৃথিবীর সবচেয়ে কম এবং মালিকদের মুনাফার হার সবচেয়ে বেশি সেখানে গার্মেন্টস মালিকদের পুরনো প্রণোদনার সাথে নতুন নগদ প্রণোদনাসহ ৬৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকছে। গার্মেন্টস মালিকরা বন্ডেডওয়ার হাউজের মাধ্যমে ৩৩ হাজার ১২ কোটি সহ প্রায় ১৫ ধরনের সুবিধা পাচ্ছে। বিপরীতে জিডিপিতে প্রায় ১৫% অর্থাৎ ৩ লাখ ৩২ হাজার ৮৬৫ কোটি টাকা অবদান রাখা সত্ত্বেও শ্রমশক্তির প্রায় ৪০ ভাগ কৃষকের জন্য তেমন কিছুই রাখা হয়নি। বোরো ধান চাষে প্রতি বিঘা জমিতে কৃষকের ৪/৫ হাজার টাকা লোকসান হলেও তার জন্য কোন সহায়তা বা নগদ প্রণোদনা বাজেটে রাখা হয়নি, ৪০ লাখ গার্মেন্টস শ্রমিক বৈদেশিক মুদ্রার প্রায় ৮৫ ভাগ জোগান দিলেও তাদের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী শ্রমিকদের আবাসন, রেশন ও চিকিৎসার জন্য বাজেটে কোন বরাদ্দ রাখা হয়নি। তাদের জীবনমান উন্নয়নে দেয়া হয়নি কোন বিশেষ বরাদ্দ। দেশের সাধারণ মানুষের পকেট থেকে আরোও টাকা বের করার জন্য মোবাইল ফোনে আরোও শুল্ক বাড়িয়ে ১০০ টাকার মধ্যে ২৭ টাকা ভ্যাট ও সারচার্জ কেটে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে বাজেটের প্রায় ৪১% টাকা আমলা, প্রতিরক্ষা, পুলিশ, র‌্যাব ও দেশি বিদেশী ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। বিবরীতে দেশের ১৬ কোটি মানুষের কল্যাণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বাজেটের মাত্র ৩১% টাকা খরচ করা হবে। ফলে এই বাজেটের মধ্যে সরকারের দর্শন ও নীতি পরিষ্কার হয়েছে যে, সরকার ধনী, লুটেরাদের স্বার্থের পাহারদার হিসেবে বাজেট পেশ করেছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বাজেটে যতটুকু টাকা বরাদ্দ করা হয় তাও বছরে শেষে অনুৎপাদনশীল খাতে বৃদ্ধি পায় আবার উৎপাদনশীল খাতে কমে যায়। গত বছরের বাজেট বরাদ্দের তুলনায় সামরিক ও পুলিশ-র‌্যাবের খাতে বেশি খরচ করেছে। বিপরীতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দকৃত টাকা থেকে টাকা ফেরত গেছে। সাড়ে ৪ কোটি বেকারের দেশে কর্মসংস্থানের কোন নির্দেশনাও এ বাজেটে নেই। ফলে সামগ্রিকভাবে এ বছরের বাজেটকে সবচেয়ে বড় ঘাটতির, শিল্প মালিকের, ঋণখেলাপী, টাকা পারচারকারীদের বা ধনী বান্ধব বাজেট বলাটাই যৌক্তিক। কোনভাবেই এ বাজেট জন বান্ধব বাজেট বলা যাবে না এবং এই বাজেট ধনীকে আরো ধনী এবং গরীবকে আরো নিঃশ্ব করবে বলে নেতৃবৃন্দ সমাবেশে বলেন। বক্তাগণ ধনী বান্ধব এই বাজেটকে প্রত্যাখান করে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনায় জনগণের কল্যাণে বাজেট প্রণয়নের সংগ্রামে বেগবান করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।