রোকেয়া দিবস উপলক্ষে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর উদ্যোগে বেগম রোকেয়ার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কোটেশন প্রদর্শনী, র‌্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

রোকেয়া দিবস উপলক্ষে বেগম রোকেয়ার প্রতিকৃতিতে
পুষ্পস্তবক অর্পণ, কোটেশন প্রদর্শনী, র‌্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

DSCF1255বেগম রোকেয়ার ১৩৫তম জন্ম ও ৮৩তম মৃত্যু দিবস উপলক্ষে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর উদ্যোগে ৯ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের রোকেয়া ভাষ্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়য়ের কলা ভবনের সামনে বেগম রোকেয়ার কোটেশন প্রদর্শনী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সকাল ১০টায় র‌্যালি শুরু হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর কেন্দ্রীয় সভাপতি রওশন আরা রুশোর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য শামসুন্নাহার জ্যোৎস্না, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শম্পা বসু, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা নগর শাখার সভাপতি রুখসানা আফরোজ আশা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক প্রীতিলতা, ইডেন কলেজ শাখার সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ, বদরুন্নেসা মহিলা কলেজের আহ্বায়ক রুকাইয়া আক্তার লিপি প্রমূখ।

DSCF1246copyবেগম রোকেয়ার জীবন সংগ্রাম বিষয়ে বক্তারা বলেন, বেগম রোকেয়া আজ থেকে ১৩৫ বছর আগে ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। একদিকে অবরোধ প্রথা অন্যদিকে অশিক্ষার অভিশাপ-এমনি এক সামাজিক পরিবেশে বেড়ে ওঠেন তিনি। শিক্ষাগ্রহণে প্রবল আকাক্সক্ষার কারণে এবং কখনও বড় ভাই কখনও স্বামীর সহযোগিতায় পারিবারিক-সামাজিক বাধা উপেক্ষা করতে পেরেছিলেন। ১৮৯৬ সালে ১৬ বছর বয়সে তাঁর বিয়ে হয়। স্বামীর মৃত্যুর পর ১৯০৯ সালে ৫ জন ছাত্রী নিয়ে ভাগলপুরে থাকার ঘরে স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন রোকেয়া। কিন্তু সপত্নী কন্যা ও জামাতা সম্পত্তির লোভে রোকেয়ার জীবন অতিষ্ঠ করে তোলে। আদর্শবাদী রোকেয়া ব্যক্তিগত বিষয়-সম্পত্তিগত স্বার্থ ভাবনার উর্দ্ধে ছিলেন। ঘর, সম্পত্তি আর নিরাপত্তার মোহ ত্যাগ করে এক শতাব্দী আগে ২৯ বছরের এক বিধবা তরুণী মেয়েদের স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে পা বাড়ালেন কোলকাতায়। কোথা থেকে পেলেন এই শক্তি ও সাহস!! ভালবেসেছিলেন মানুষকে-অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে উৎসারিত হয়েছিল সেই নিঃস্বার্থ ভালবাসার শক্তি। ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর ভোর ৪ টায় ৫২ বছর বয়সে তিনি নিজ স্কুলে মৃত্যুবরণ করেন।

DSCF1276copyসভাপতির বক্তব্যে রওশন আরা রুশো বলেন, নারীশিক্ষা বিস্তারে বেগম রোকেয়ার ভূমিকার তুলনা হয়তো পাওয়া যাবে। কিন্তু মানুষের দুঃখ, বিশেষ করে অবহেলিত নারীসমাজের অবর্ণনীয় দুর্গতির বাস্তব চিত্র উপস্থিত করে শ্লেষ, বিদ্রুপ, কৌতুকরস, বৈজ্ঞানিক যুক্তিবাদ, ঐতিহাসিক নজির ও উন্নত জীবনের স্বপ্ন তুলে ধরে, উঁচু স্তরের রুচি ও মূল্যবোধের আবেদন দিয়ে, বিবেকের কষাঘাতে নারীমুক্তির যে আকুতি রোকেয়া তাঁর সাহিত্যকর্ম ও জীবনসংগ্রামের মধ্যে রেখে গেছেন, সেখানে তিনি অনন্য ও বিশিষ্ট।

প্রকৌশলী শম্পা বসু বলেন, সাম্প্রতিক নারী নির্যাতন ও বৈষম্যের ক্রমবর্ধমান চিত্র পরিষ্কারভাবে আমাদের দেখিয়ে দেয় রোকেয়ার জীবন সংগ্রাম এবং চিন্তা, শিক্ষা ও সাহিত্যকর্ম থেকে আমরা কত দূরত্বে অবস্থান করছি। পথে-ঘাটে, কর্মস্থলে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, ঘরে-বাইরে সর্বত্র নারীর উপর সহিংসতা, লাঞ্ছনা, অপমানের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। সমকাজে সমমজুরি না পাওয়া, যৌতুক, বাল্যবিবাহের বলি হওয়া, সম্পত্তির উত্তরাধিকারে সমঅধিকার না পাওয়া, সিনেমা-নাটক-বিজ্ঞাপনে নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করাÑ এসবই স্বাধীন দেশে রোকেয়ার মৃত্যুর ৮৩ বছর পরেও আপামর নারীদের জীবন চিত্র।

সমাবেশ থেকে সভ্যতা বাঁচাতে নারীর প্রতি সকল ধরনের বৈষম্য ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে নারী-পুরুষের ঐক্যবদ্ধ লড়াই গড়ে তোলার আহ্বান জানান হয়।