শর্ত আরোপ করে ডাকসু নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন

Logo-SSF-19সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রিয় সভাপতি ইমরান হাবিব রুমন ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, নানাবিধ অযৌক্তিক, অগণতান্ত্রিক ও স্বেচ্ছাচারী শর্ত আরোপ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ডাকসু নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। গত ২৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের বৈঠকে গঠনতন্ত্র ও আচরণবিধির যে রুপরেখা হাজির করা হয়েছে তা ছাত্রসমাজকে হতাশ করেছে। ছাত্রসংগঠনগুলোর মতামতকে উপেক্ষা করে অগণতান্ত্রিক ও একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ডাকসু’র ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স-মাস্টার্স-এমফিল এর শিক্ষার্থীদের কথা বলা হয়েছে আবার এদের বয়স অনুর্ধ্ব ৩০ হতে হবে এবং অনার্স ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গতকাল প্রধান রিটার্নিং কমকর্তা আবার বললেন, সান্ধ্যকালীন কোর্সের শিক্ষার্থীরাও ভোটার এবং প্রার্থী হতে পারবেন কিন্তু তাদের অনার্স ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হতে হবে। আমরা মনে করি সিন্ডিকেটের এ ধরণের সিদ্ধান্ত একপাক্ষিক-বৈষম্যমূলক ও অগণতান্ত্রিক। যারা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ ও হল সংসদের চাঁদা দেয় তারাই ডাকসু’র ভোটার ও প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা রাখে। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের সাজানো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ডাকসু নির্বাচনের ক্ষেত্রে সেশন, বয়স, অনার্স কোথায় করেছে ইত্যাদি অযৌক্তিক শর্ত আরোপ করছে।
নের্তৃবৃন্দ আরও বলেন, ডাকসুকে শাসকদের ইচ্ছামাফিক পরিচালনার স্বার্থে ছাত্রদের ক্লাবে পরিণত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বয়সসীমা নিয়ে অহেতুক কূটতর্ক করা হচ্ছে। পৃথিবীর কোন বিশ্ববিদ্যালয়েই ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা হিসেবে বয়সসীমা বেধে দেয়া আছে বলে আমাদের জানা নেই। যে কোন বয়সে একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে এটা তার গণতান্ত্রিক অধিকার। যদি কেউ অনার্স না করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স এবং এম ফিলে ভর্তি হতে পারেন তবে তিনি কেন ডাকসুর ভোটার হতে পারবেন না তার কোন সদুত্তরও প্রশাসন দিতে পারছে না। প্রশাসনের এ ধরণের সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক, অগণতান্ত্রিক ও বৈষম্যমূলক। সরকারি ছাত্র সংগঠনকে সুবিধা করে দেয়ার জন্যই প্রশাসন এ ধরণের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন কিনা সে সংশয়ও জনমনে আছে। নির্বাচিত ডাকসু’র অনুপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ক্ষমতাবলে ডাকসু’র গঠনতন্ত্রের এমন মৌলিক কাঠামো সংশোধনও অগণতান্ত্রিক বলেই আমরা মনে করি। নির্বাচিত ডাকসুরই কেবল এ ধরণের সিদ্ধান্ত নিতে পারার ক্ষমতা থাকা উচিত।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ইতিপূর্বে কোন সময়ই ডাকসু নির্বাচনের আচরণ বিধি ছিল না। এবারে কর্তৃপক্ষ আচরণ বিধি প্রণয়নের নামে প্রার্থীদের বিচরণকে সীমাবদ্ধ করে দিতে চাইছে। বলা হয়েছে দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কেবল প্রচারকাজ চালানো যাবে, ক্লাস রুমে প্রচার করা যাবে না, কোন বিশিষ্ট ব্যক্তি বা সাবেক ছাত্রনেতৃত্ব ডাকসুর কোন প্যানেলের প্রচারকাজে বা পরিচিতি সভায় অংশ নিতে পারবে না ইত্যাদি অন্তত্য অযৌক্তিক। আমাদের প্রশ্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কি এসব শর্ত আরোপ করে বিশ্ববিদ্যালয়কে কিন্ডার গার্টেন বানাতে চাইছেন। বিশ্ববিদ্যালয় হলো মুক্ত চিন্তার অবাধ বিচরণের ক্ষেত্র। তাই ডাকসু নির্বাচনে এহেন অযৌক্তিক, অগণতান্ত্রিক বিধি নিষেধ জারির স্বেচ্ছাচারী আচরণ থেকে প্রশাসনকে দূরে থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। একই সাথে উক্ত বিধি নিষেধ বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।
নেতৃবৃন্দ বলেন প্রশাসনের এহেন আচরণে ছাত্রসমাজ তথা দেশবাসী মনে করছে শর্ত আরোপ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ডাকসু নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে কিনা?
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দীর্ঘসময় ধরে হলগুলোতে যে অগণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় আছে তার প্রেক্ষিতে পরিবেশ পরিষদের সভায় ক্রিয়াশীল অধিকাংশ সংগঠন এর পক্ষ থেকে ভোট গ্রহণের বুথ হল থেকে সরিয়ে একাডেমিক ভবনে স্থানান্তরিত করার যে দাবি তোলা হয়েছিল তাকেও উপেক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যদিয়ে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের মতামতকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। যেহেতু ক্যাম্পাসে ও হলে ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের একচ্ছত্র দখলদারিত্ব কায়েম রয়েছে, ফলে শিক্ষার্থীরা নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে না। যা একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অন্তরায়।
অবিলম্বে এ ধরণের অগণতান্ত্রিক শর্ত বাতিল করে ডাকসু ও হল সংসদের চাঁদা প্রদানকারী সকল শিক্ষার্থীকে ভোটার ও প্রার্থী হওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, হলে-ক্যাম্পাসে সহাবস্থান-গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং ডাকসু’র ভোট কেন্দ্র হল থেকে স্থানান্তর করে একাডেমিক ভবনে স্থানান্তরের দাবি জানান নের্তৃবৃন্দ।