শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ২২তম মৃত্যুবাষির্কী উপলক্ষে সমাবেশ ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত

জামাত-শিবিরসহ যুদ্ধাপরাধ সংশ্লিষ্ট সকল সংগঠন নিষিদ্ধ,
শিক্ষা-সংস্কৃতিসহ সর্বক্ষেত্রে মৌলবাদবিরোধী সংগ্রাম জোরদার ও
মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা বাস্তবায়নের দাবি

DSCF2164 copy২৬ জুন ২০১৬ শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ২২তম মৃতুবার্ষিকী। জাহানারা ইমাম স্মরণে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর উদ্যোগে সকাল ৮ টায় মিরপুরে শহীদ জননীর সমাধীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয় এবং সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর সভাপতি রওশন আরা রুশোর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শম্পা বসুর পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশিদ ফিরোজ, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মণ্ডলী সদস্য সামসুন্নাহার জ্যোৎস্না, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এর কেন্দ্রীয় সভাপতি ইমরান হাবীব রুমন প্রমুখ।DSCF2184 copyসমাবেশে বক্তাগণ বলেন, মুক্তিযুদ্ধে একজন মানুষ কেমন করে তার সমস্তকিছু উজার করে দিতে পারে তার জ্বলন্ত উদাহরণ হলো জাহানারা ইমাম। কিন্তু স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে শাসকদের কাছে মানুষের এই ত্যাগের কোন মূল্যই রইল না। তারা মানুষের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে, বড় করে দেখলো তাদের ক্ষমতাকেন্দ্রিক লুটপাটের রাজনীতিকে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে শুরু থেকেই পরিস্কার অবস্থান নিতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। তারা রাজাকার, আলবদরদের সমাজে প্রতিষ্ঠা করা, আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়া এবং এই শক্তিকে নিজেদের ক্ষমতায় যাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করলো। ফলে যুদ্ধাপরারীদের বিচারের দাবির তীব্র আকাক্সক্ষা থেকেই ১৯৯২ সালে গড়ে উঠে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি’Ñআর এর নেতৃত্ব দেন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম।

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে পরিচালিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলন ও গণআদালতের রায় সেদিন বাস্তবায়িত না হলেও সে চেতনা ফুল্গ ধারার মতো সমাজে বয়ে চলেছিল। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে গড়ে ওঠে ‘গণজাগরণ মঞ্চ’। আন্দোলনের চাপে সরকার কাদের মোল্লা, কামারুজ্জামান, সাকা চৌধুরী, মুজাহিদ ও নিজামীর ফাঁসির রায় কার্যকর করতে বাধ্য হয়। কিন্তু এখনও যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ হয়নি। যুদ্ধাপরাধীদের আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ বাজেয়াপ্ত করার দাবি বাস্তবায়ন করেনি সরকার। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ৭ বছর। এই সময়ে মৌলবাদী জঙ্গী ধর্মন্ধগোষ্ঠী প্রগতিশীল লেখক-প্রকাশক-শিক্ষক, পুরোহিত-ভিক্ষু-পীর-মোসায়েকসহ ভিন্নমত ধারণকারীদের হত্যা করে চলেছে। সেসব হত্যাকা-ের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় একের পর এক হত্যা খুন চলছে। ক্ষমতা দখলের রাজনীতিতে শাসকশ্রেণির দলসমূহ যুদ্ধাপরাধীদের সাথে জোট এবং নানা মাত্রায় আপোসের খেলায় মত্ত। ফলে মুক্তিযুদ্ধের মৌল চেতনা স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরও বাস্তবায়ত হয়নি। এটা পুঁজিবাদী আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা ও বুর্জোয়া রাজনীতির সীমাবদ্ধতা। ফলে শোষণমুক্ত সমাজ তথা সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের মৌল চেতনা প্রতিষ্ঠত হবে না। আবার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের ন্যায্যতা ও যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। তাই মৃত্যুর পূর্বে দেশবাসীর উপর জাহানারা ইমাম যে দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিলেন তা পালন করতে তরুণ প্রজন্মসহ দেশবসীকে এগিয়ে আসতে হবে। বক্তাগণ ১৯৫ জন পাকিস্তানী সেনাসহ সকল যুদ্ধাপরাধীর বিচার, জামাত-শিবিরসহ যুদ্ধাপরাধী সকল সংগঠন নিষিদ্ধ, যুদ্ধাপরাধীদের সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাজেয়াপ্ত, ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার নিষিদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের সংগ্রামকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নেয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।