শ্রমিকের ন্যায্যমজুরি ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার ছাড়া গণতন্ত্রের কথা বলা প্রহসন মাত্র-কমরেড খালেকুজ্জামান

image2 copyসমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২৭ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে তিনটায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক সমাবেশে কমরেড খালেকুজ্জামান বলেন, দেশের কোটি কোটি শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার, কর্মক্ষেত্রে জীবনের নিরাপত্তা, মৃত্যুবরণ কিংবা আহত হলে যথাযথ ক্ষতিপূরণ ছাড়া সমাজে গণতন্ত্র আছে বলা প্রহসনের নামান্তর। ন্যূনতম মজুরি ১৫ হাজার টাকা, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার, কর্মক্ষেত্রে জীবনের নিরাপত্তা, শ্রমিক নেতা সৌমিত্র কুমার দাশ ও আহমেদ জীবনসহ গ্রেফতারকৃত শ্রমিকদের মুক্তি, মামলা-হামলা-ছাঁটাই-নির্যাতন বন্ধ করার দাবি নিয়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি জাহেদুল হক মিলু। বক্তব্য রাখেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, সংহতি বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টেরসহ সভাপতি ওসমান আলী, আব্দুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান হাবীব বুলবুল, রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি ইমাম হোসেন খোকন, শ্রমিক ফ্রন্ট ঢাকা নগর সভাপতি জুলফিকার আলী, দপ্তর সম্পাদক খালেকুজ্জামান লিপন, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, ট্যাক্সি কার চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শাহজালাল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি ইমরান হাবিব রুমনসহ শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।
image1 copyসমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, রাষ্ট্র এবং সরকার মালিকদেরকে অনেক সুবিধা দিলেও ন্যায্য মজুরি চাইলে শ্রমিক নেতাদের উপর নেমে আসে নির্যাতন। দেশে শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যা ৭ কোটিরও বেশি, তাদের ন্যায্য মজুরিপ্রতিষ্ঠিত না হলে মধ্যম আয়ের দেশ কাদের? দেশের প্রবৃদ্ধি ও জাতীয় আয় বৃদ্ধির সাথে সাথে বৈষম্য ক্রমাগত বাড়ছে। ইপিজেড এ ট্রেড ইউনিয়ন নাই, অন্যান্য ক্ষেত্রেট্রেড ইউনিয়ন থাকলেও আইনি জটিলতা সৃষ্টি করে ট্রেড ইউনিয়ন করার ক্ষেত্রে বাধা দেয়া হচ্ছে। রানা প্লাজা, তাজরিন, টাম্পাকো দুর্ঘটনায় শ্রমিকের মৃত্যুর পর এ নিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি হলেও এখনও ক্ষতিপূরণের মানদ- নির্ধারণ করা হয় নাই। আশুলিয়ার মজুরি আন্দোলনের পর শ্রমিক নেতাদের মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার, শত শত শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে অথচ আইন ভঙ্গকারি মালিকদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় নাই। শ্রমিকের শ্রম ও দেশের সম্পদ লুটপাট কারীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য নেতৃবৃন্দ সমাবেশ থেকে আহবান জানান। সমাবেশ শেষে একটি বর্ণাঢ্য মিছিল প্রেসক্লাব গুলিস্থানের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে।