শ্রমিক নেতা সৌমিত্র কুমার দাশ ও আহমেদ জীবন সহ সকলের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে- গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট

আশুলিয়ায় গ্রেফতারকৃত শ্রমিক নেতা সৌমিত্র কুমার দাশ আহমেদ জীবন সহ সকলের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবেগার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট

gsf-060117-1আশুলিয়ায় মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনের দায়ে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, সাভার-আশুলিয়া-ধামরাই শিল্পান্চল শাখার সভাপতি, সমাজতন্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জাহাংগীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি সৌমিত্র কুমার দাশ ও সাধারন সম্পাদক আহমেদ জীবন সহ গ্রেফতারকৃত সকল শ্রমিক নেতার মুক্তির দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট এর উদ্যোগে আজ ৬ জানুয়ারি’১৭ বিকাল ৩.৩০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আহসান হাবিব বুলবুল। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি স্কপ নেতা জাহেদুল হক মিলু, সাধারণ সম্পাদক স্কপ নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন স্কপের যুগ্ম সমন্বয়কারি চৌধুরি আশিকুল আলম, গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারি ঐক্য পরিষদ এর আব্দুল ওহায়েদ, কাজী রুহল আমিন, প্রকাশ রায়, সংগঠনের সহ-সভাপতি খালেকুজ্জামান লিপন, খায়রুল কবির, সাধারন সম্পাদক সেলিম মাহমুদ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।gsf-060117-2সমাবেশে বক্তাবন বলেন, ৪৫ লাখ গার্মেন্টস শ্রমিকের শ্রমে ঘামে দেশের রপ্তানী আয়ের ৮০ ভাগ আসে অথচ তারা মাত্র ৩০০০টাকা বেসিক সহ ৫৩০০টাকা মোট মজুরি পায়। যা দিয়ে বর্তমান বাজার দরে একটি শ্রমিক পরিবার কিভাবে চলে? ফলে শ্রমিকরা তাদের জীবন-যাপন ব্যায় বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই মজুরি বাড়ানোর দাবি করেছে। ইতোমধ্যেই রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার, বিচারপতি, মন্ত্রী, এমপি ও সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন- ভাতাদি দ্বিগুন হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে ফলে স্বাভাবিকভাবেই শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবি অত্যন্ত ন্যায় সংগত ও যৌক্তিক। সরকার ও মালিক পক্ষ মজুরি বাড়ানোর উদ্যোগ না নিয়ে উল্টো শ্রম আইনের মিথ্যা ও ভুল ব্যাখ্যা  দিয়ে ৫ বছরের আগে মজুরি বৃদ্ধির সুযোগ নেই বলে প্রচার করছে। আরো প্রচার করছে আন্দোলনকারিরা ষড়যন্ত্রকারি, বিদেশি অনুচর। এসব বিভ্রান্তমুলক কথা বলে আন্দোলনকারিদের উপর দমন- নির্যাতন, গ্রেফতার, মিথ্যা-মামলা হয়রানি চাপিয়ে দিয়েছে। গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট এর সাংগঠনিক সম্পাদক, সাভার-আশুলিয়া-ধামরাই শিল্পান্চল শাখার সভাপতি,শ্রমিক নেতা সৌমিত্র কুমার দাশ, সাধারন সম্পাদক আহমেদ জীবন সহ শ্রমিক নেতাদের বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে। অজ্ঞাত শত শত শ্রমিকের নামে মামলা ও ১৬০০ শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছ এবং ১১ টি মামলা দাঁতের করা হয়েছে।

বক্তাগন আরো বলেন, শ্রম আইনের ১৪০(ক) ধারা অনুযায়ি সরকারকে বিশেষ ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, সরকার প্রয়োজন মনে করলে ৫ বছরের আগে যে কোন সময় মজুরি বোর্ড পুর্নগঠন ও মজুরি পুর্ননির্ধারন করার। বক্তাগন বলেন আশুলিয়ার আন্দোলনকারি শ্রমিকেরা ইতোমধ্যেই তাদের মজুরি ১৫০০০ টাকা নির্ধারনের করার দাবি জানিয়েছে। জাতীয় পে- স্কেল অনুযায়িও নিম্নতম বেতন দাড়িয়েছে ১৪৮০০ টাকা। যদিও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতনের বাইরে পেনশন-গ্রাচ্যুইটি, হাউজ লোন সহ প্রায় ১৯/২০ রকমের সুবিধা পায় যা গার্মেন্টস সহ বেসরকারি খাতের শ্রমিকের  ভাবতেও পারে না। আর বর্তমান বাজার দর ও জীবন – যাপন ব্যায় হিসেব করলে ৫ জনের একটি পরিবারের পক্ষে ৩০০০০ হাজার টাকা নিচে কোনভাবেই চলতে পারে না, সেক্ষেত্রে স্বামী- স্ত্রী দুজন চাকুরি করলে ১৫০০০ টাকা নিম্নতম মজুরি প্রয়োজন।

বক্তাগন আইএলও কনভেনশন ও শ্রম আইন অনুযায়ি দমন- পীড়ন, ছাঁটাই- নির্যাত বন্ধ ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করে মজুরি বোর্ড গঠন ও শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে কার্যকর ব্যাবস্থা গ্রহন করা সহ গ্রেফতারকৃত শ্রমিক নেতা সৌমিত্র কুমার দাশ, আহমেদ জীবন সহ শ্রমিক নেতাদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন।