শ্রমের মর্যাদা, ন্যায্য মজুরি, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার ও জীবনের নিরাপত্তার আন্দোলন শক্তিশালী করার দাবিতে নিয়ে সারাদেশে মে দিবস পালন

ঢাকা: মে দিবস উপলক্ষে ঢাকায় সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট এর উদ‌্যোগে নগরীতে রালি, তোপখানা রোডে সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।May-SLF-1সমাবেশে বক্তব‌্য রাখেন শ্রমিক ফ্রন্ট এর সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, জুলফিকার আলী, আহসান হাবিব বুলবুল, খালেকুজ্জামান লিপন, শাহজালাল প্রমুখ।

আশুলিয়া: মহান মে দিবসে আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুত বাসস্ট্যান্ডে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের “শ্রমিক সমাবেশ” অনুষ্ঠিত।May-Asulyaআশুলিয়া শিল্পাঞ্চল কমিটির সভাপতি সৌমিত্র কুমার দাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব‌্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি কমরেড জাহেদুল হক মিলু, সহ-সভাপতি শ্রমিক নেতা আব্দুর রাজ্জাক, স্থানীয় নেতা আহমেদ জীবন,মাফিজুল ইসলাম,আনিসুর রহমান,সাজু সরকার,আবুল কালাম প্রমুখ। সভা থেকে অবিলম্বে মজুরি বোর্ড গঠন করে ১৫ হাজার টাকা ন্যুনতম মজুরি নির্ধারন, হামলা-মামলা-ছাটাই-নির্যাতন বন্ধ সহ ৬দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

নারায়ণগঞ্জ: মে দিবস উপলক্ষে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশ ও লাল পতাকা মিছিলের কর্মসূচিতে আবু নাঈম খান বিপ্লবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতসমাবেশে বক্তব‌্য রাখছেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট এর সভাপতি শ্রমিক নেতা জাহেদুল হক মিলু, বাসদ জেলা সমন্বয়ক নিখিল দাস, সেলিম মাহমুদ, জাহাঙ্গীর আলম গোলক প্রমুখ।May-N-gong-1এছাড়াও গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট লাংগলবন্দ, নারায়ণগন্জ শাখার ১লা মের সমাবেশ করে।

গাজীপুর: মে দিবস উপলক্ষে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট গাজীপুর জেলা শাখার উদ‌্যোগে লাল পতাকা মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।May-Gazipur-1সমাবেশে বক্তব‌্য রাখেন সেলিম মাহমুদ, রাহাত আহমেদ, আব্দুল লতিফ, কবির হোসেন প্রমুখ।

সিরাজগঞ্জ: মহান মে দিবস উপলক্ষে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার উদ‌্যোগে লাল পতাকা মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।May-S-gong-1মিছিল ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন নব কুমার কর্মকরার, আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।

গাইবান্ধা: মহান মে দিবস উপলক্ষে বাসদ গাইবান্ধা জেলা শাখা উদ‌্যোগে নগরীতে র‌্যালি ও আলোচনা সভা।May-Gaibandah

সুন্দরগঞ্জ: মহান মে দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে গতকাল মঙ্গলবার সুন্দরগঞ্জ শহরে র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল চত্বরে আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলা বাসদ সমন্বয়ক কমরেড গোলাম রব্বানী, জেলা ফোরাম সদস্য অ্যাডভোকেট মোস্তফা মনিরুজ্জামান, স্থানীয় বাসদ নেতা রিয়াজুল ইসলাম প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বাসদ সমন্বয়ক আবু বক্কর সিদ্দিক।

চাঁদপুর: বাসদ-সিপিবির উদ্যোগে চাঁদপুরে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পালিত। শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণের পর সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কমরেড সাজাহান তালুকদার, দীপালী রানী, জাকির হোসেনসহ অন্যান্যরা।

May-Chandpurমৌলভীবাজার: মহান মে দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির উদ্যোগে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব চত্বরে সমাবেশ , গণসঙ্গীত ও লাল পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত । বাসদ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহ্বায়ক এডভোকেট মঈনুর রহমান মগনুর সভাপতিত্বে ও সিপিবি জেলা কমিটির সহসাধারন সম্পাদক এডভোকেট মাসুক মিয়ার পরিচালনায় সমাবেশে বক্ত‌ব‌্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমদ , সিপিবি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নিলিমেষ ঘোষ বলু , বাসদ নেতা মুজাহিদ আহমদ, কমরেড আবুল হাসান ।May-M.Bazarসমাবেশ শুরুর আগে গণসঙ্গীত পরিবেশন করে উদীচী মৌলভীবাজার জেলা সংসদের সদস্যরা। সমাবেশ শেষে একটি লাল পতাকা মিছিল মৌলভীবাজার শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌমূহনায় শেষ হয়। এর পর চৌমূহনা চ্ত্তরে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর উদ্যোগে মে দিবস উপলক্ষে গণসঙ্গীত পরিবেশিত হয়।

নওগাঁ: মহান মে দিবসে নওগাঁয় সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের “শ্রমিক সমাবেশ” ও লাল পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।May-Nogoan-1

ফেনী: মে দিবস উপলক্ষে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট ফেনী জেলা আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশ ও লাল পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। May-Feni-1

সমাবেশে বক্তব‌্য রাখেন জেলা বাসদ সমন্বয়ক ডা. হারাধন চক্রবর্ত্তী, মালেক মনসুর, অর্জুন দাস প্রমুখ।

চট্টগ্রাম: মে দিবসে বাসদ চট্টগ্রাম জেলা শাখার সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব‌্য রাখেন জেলা বাসদ সমন্বয়ক মহিন উদ্দিন, শ্রমিক নেতা আকরাম হোসেন, আল কাদেরী জয় প্রমুখ।May-CTGএছাড়া মহান মে দিবসে পুরাতন রেল ষ্টেশন চত্বরে চট্টগ্রাম জেলা মোটর ওয়ার্কশপ মেকানিকস ইউনিয়নের সমাবেশে বক্তব‌্য রাখছেন জেলা বাসদ সমন্বয়ক মহিন উদ্দিন।

বরিশাল: আজ মহান মে দিবস উপলক্ষ্যে বরিশালে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের উদ্যোগে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও এক বর্ণাঢ্য র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়।May-BSL-1

সকাল ৯টা থেকে শ্রমিক ফ্রন্টের কার্যালয় সংলগ্ন মাতৃছায়া স্কুল চত্বরে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্যোগে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। সকাল ১০টায় মে দিবস স্মরণে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বরিশাল জেলা সংগঠক ডা: মনীষা চক্রবর্তী ও পরিচালনা করেন বাসদ জেলা সংগঠক এইচ এম ইমন। বক্তব্য রাখেন শ্রমিক ফ্রন্ট নেতা ইলিয়াস হোসেন, দুলাল মল্লিক, মানিক মৃধা, ব্যাটারীচালিত রিক্সা সংগ্রাম কমিটির জেলা আহবায়ক ও শ্রমিক ফ্রন্ট সংগঠক শাজাহান মিস্ত্রী, যুগ্ম-আহবায়ক রুস্তম হাওলাদার, সদস্য সচিব শহীদুল ইসলাম, কৃষিবিদ মাসুদ রানা, গণফোরাম বরিশাল জেলা সভাপতি এ্যাড. হিরণ কুমার দাস মিঠু, বাসদ বরিশাল জেলা সংগঠক বদরুদ্দোজা সৈকত, বাসদ বরিশাল জেলা সংগঠক জোহরা রেখা ।

সিলেট: মহান মে দিবস উপলক্ষে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে আজ বিকাল ৩ টায় লাল পতাকা মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আম্বরখানাস্ত দলীয় কার্যালয় থেকে মিছিল বের হয়ে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমাবেশে মিলিত হয়।

May-SYL-1সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার আহ্ববায়ক আবু জাফরের সভাপতিত্বে ও জেলা নেতা প্রণব জ্যোতি পালের পরিচারনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের জেলা সাধারন সম্পাদক শাহজান আহমদ, শ্রমিক ফ্রন্ট নেতা রফিকুল ইসলাম, মামুন বেপারী, মাহবুব আহমদ, ইব্রাহিম মিয়া , ছালিক মিয়া, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সিলেট মহানগর সভাপতি পাপ্পু চন্দ প্রমূখ।

রংপুর: মহান মে দিবস উপলক্ষে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের উদ‌্যোগে নগরীতে লাল পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

May-Rangpur-1খুলনা: মহান মে দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল- বাসদ ও সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট খুলনা জেলা শাখার উদ্যোগে আজ সকাল সাড়ে দশটায় লাল পতাকা মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল শহীদ হাদিস পার্ক থেকে শুরু হয়ে ফেরিঘাট, খানজাহান আলী সড়ক, সিমেট্রি সড়ক, ডাকবাংলোর মোড়, বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় হয়ে পিকচার প্যালেস মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। May-Khulna-1

মিছিল পরবর্তী পিকচার প্যালেস মোড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাসদ খুলনা জেলা শাখার সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট খুলনা জেলা শাখার আহ্বায়ক জনার্দন দত্ত নান্টু। বক্তব্য রাখেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক শেখ সাদী ভূঁইয়া, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট খুলনা জেলা শাখার সদস্য অজয় মজুমদার ও নিতাই বর্মন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট খুলনা মহানগর শাখার সদস্য সাখাওয়াত হোসেন বিপ্লব ও বিএল কলেজ শাখার সভাপতি সঞ্জিত মন্ডল। সভা পরিচালনা করেন বাসদ খুলনা জেলা শাখার সদস্য অনুপ মন্ডল।
সমাবেশ থেকে বক্তারা দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি, খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিল, খুলনা টেক্সটাইল মিল,খুলনা হার্ডবোর্ড মিল সহ বন্ধ সব কারখানা খুলে দেয়া, ন্যূনতম মজুরি ১৫ হাজার টাকা ঘোষণা করা, অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার নিশ্চিত করা, শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী সব কালো আইন বাতিল করা, কর্মক্ষেত্রে দূর্ঘটনায় নিহত শ্রমিক পরিবারকে ৪৮ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া ও দায়ি মালিকদের শাস্তি দেয়া, আন্দোলনরত পাটকল শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নেয়া, ইত্যাদি দাবি জানান। একইসাথে বক্তারা বলেন, যতদিন বিশ্বে পুজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থা থাকবে ততদিন শোষণ থেকে শ্রমিক শ্রেণীর মুক্তি নেই। তাই মহান মে দিবস আমাদের এই শিক্ষাও দেয় শ্রমিক শ্রেণীর দাবি আদায়ের সংগ্রামকে শোষণমুক্ত সমাজ অর্থাৎ চলমান রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙ্গে সমাজতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের সংগ্রামে রূপ দিতে হবে। বক্তারা তাই গ্রাম-শহরের সকল ক্ষেত্রে কর্মরত মেহনতি জনতাকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্ববান জানান।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ১৩০ বছর আগে ১৮৮৬ সালে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের আন্দোলনে জীবন দিয়েছিলেন আগস্ত, স্পাইজ, এঞ্জেলস, ফিসার। কিন্তু ন্যায্য দাবিতে গড়ে উঠা আন্দোলন হত্যা ও নির্যাতনের মাধ্যমে দমন করা যায় না। এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীর দেশে দেশে। পরবর্তিতে ১৮৮৯ সালে ফ্রেডেরিক এঙ্গেলসের নেতৃত্বে ‘দ্বিতীয় আন্তর্জাতিকের প্যারিস কংগ্রেসে’ ১ মে আন্তর্জাতিক বিক্ষোভ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়। ১৮৯০ সালের নিউইয়র্কে প্রথম মে দিবসের সমাবেশের প্রস্তাবে লেখা হয়, ‘৮ ঘণ্টা কাজের দিনের দাবি পূরণের সংগ্রাম আমরা চালিয়ে যাব কিন্তু কখনো ভুলবো না, আমাদের শেষ লক্ষ্য হল (পুঁজিবাদী) মজুরি ব্যবস্থার উচ্ছেদ সাধন’। তারপর থেকেই ৮ ঘণ্টা কাজ, ন্যায্য মজুরি আর পুঁজিবাদ উচ্ছেদের সংগ্রাম একসাথেই চলছে।

শ্রমিক তার শমশক্তি বিক্রি করে কখন মাস হিসেবে, কখন সপ্তাহ হিসেবে, কখন ঘণ্টা আবার কখন পিস রেট হিসেবে। বিনিময়ে সে পায় মজুরি, যা দিয়ে সে খাবার, পোশাক, চিকিৎসা, বাড়িভাড়া, সন্তানের শিক্ষা, মোবাইল বিল, গাড়িভাড়া পরিশোধ করে। বর্তমান বাজারদর হিসেব করলে ১৫ হাজার টাকার নিচে মজুরি কোন ভাবেই ন্যায্য হতে পারে না। একটা দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হয় শ্রমিকের শ্রমে-ঘামে। বাংলাদেশের জিডিপি প্রতি বছর বাড়ছে। গত বছর ছিল ১৬ লাখ কোটি টাকা, সরকার বলছে এবার তা হবে ১৮ লাখ কোটি টাকারও বেশি। মাথাপিছু আয় বেড়ে এখন ১৪৬৬ ডলার হয়েছে। তাহলে ৫ সদস্যের পরিবারের মাসিক আয় হওয়ার কথা ৪৮ হাজার টাকা। কিন্তু এ আয় বৃদ্ধিতে যাদের প্রধান ভুমিকা সেই শ্রমিক কৃষকের আয় কত? তাদের বেঁচে থাকবার মতো মজুরি নেই বলে মে দিবসের ১৩০ বছর পরেও শ্রমিকদের ওভার টাইম করতে বাধ্য হতে হচ্ছে। শ্রমিকের মজুরি বাড়ছে না, বাড়ছে মালিকের মুনাফা। ফলে সমাজে বাড়ছে বৈষম্য। তাই শ্রমিক মানেই পুষ্টিহীন শরীর আর দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মুখের একদল মানুষ।

ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার শ্রমিকের গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু বাংলাদেশের মাত্র ৫ শতাংশ শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্ত। শ্রমিকরা যেন সংগঠিত হতে না পারে সে ব্যাপারে মালিকদের স্বার্থরক্ষাকারি দলগুলো খুবই সক্রিয়। বিএনপি জোটের শাসনামলে ২০০৬ সালে প্রণীত শ্রম আইন এবং আওয়ামী জোটের শাসনামলে সংশোধিত শ্রম আইন ২০১৩ উভয়ক্ষেত্রেই ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। শ্রম আইনের ১(৪), ২৩, ২৬, ১৭৯, ১৮০, ১৮২ ধারার কারণে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করা তো দূরের কথা চাকরি রক্ষা করাই কঠিন। তাই শ্রমিকদের অধিকার পদে পদে সংকুচিত হচ্ছে। দেশের ৯ কোটি কর্মক্ষম মানুষের মধ্যে ৬ কোটি ১৪ লক্ষ শ্রমজীবী। ট্রেড ইউনিয়ন না থাকায় তাঁরা অসহায়, অসংগঠিত এবং অসচেতন। অন্যদিকে মালিকরা সংগঠিত, শক্তিশালী এবং আইন তাদের পক্ষে।

বাংলাদেশের শ্রমিকের মজুরি সবচেয়ে কম এটা মালিকদের জন্য খুশির কথা হলেও শ্রমিকদের জন্য এর চাইতে বড় কষ্ট আর নেই। এর পাশাপাশি কাজ করতে এসে দুর্ঘটনায় মৃত্যু যেন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পর্যন্ত ছোট বড় ২১৮ টি দুর্ঘটনায় প্রায় ৩ হাজার শ্রমিক মৃত্যুবরণ করেছে, আহত হয়েছে আরও কয়েক হাজার। শ্রম আইন অনুযায়ী কর্মস্থলে মৃত্যু হলে ক্ষতিপূরণ মাত্র এক লাখ টাকা। শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি, মালিকের অবহেলায় শ্রমিকের মৃত্যু হলে মালিকের শাস্তি এবং শ্রমিককে আজীবন আয়ের সমান টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। মালিকের অবহেলায় কর্মস্থলে শ্রমিকের মৃত্যু হলে শুধু মালিক নয় সরকারও দায়ি। কারণ কারখানা নির্মাণ, ব্যবসা পরিচালনার অনুমতি দেয় সরকার। কারখানা পরিদর্শন করার দায়িত্বও সরকারের। জীবিকার জন্য কাজ করতে এসে শ্রমিক জীবন হারাবে এটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

মে দিবসের আহবান-ঐক্যবদ্ধ হন, লড়াই করে দাবি আদায় করুন

যে শ্রমিক উৎপাদন করে সে কেন জীবন জীবিকার জন্য করুণা প্রার্থী হবে? শ্রমিক শ্রমশক্তি বিক্রি করে কিন্তু মর্যাদা বিক্রি করে না। মে দিবস আন্দোলনের নেতারা ১৪/১৬ ঘণ্টা কাজ করেছে তার পরও শ্রমিকদেরকে সংগঠিত করেছেন অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। মালিকরা শ্রমিক নেতাদেরকে হত্যা করেছে, যাতে শ্রমিকরা ভয় পায়, সংগঠিত না হয়। কিন্তু ইতিহাসের শিক্ষা এই যে, হত্যা করে শ্রমিকদের আন্দোলন দমন করা যায় না, মালিকের দালালি করে শ্রমিকদের অধিকার আদায় হয় না।

সমাবেশসমূহ থেকে দাবি তোলা হয়:-

১ ন্যূনতম মজুরি ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণ কর।

২ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার খর্ব করা চলবে না।

৩ আট ঘণ্টা কাজের অধিকার বাস্তবায়ন করতে হবে।

৪ মালিকের অবহেলায় শ্রমিকের মৃত্যুতে ৪৮ লাখ টাকা (শ্রমিককে আজীবন আয়ের সমান) ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।