ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়কে কেন্দ্র করে শাসক শ্রেণির দলগুলোর মধ্যে যে ধরনের বাক বিতণ্ডা শুরু হয়েছে তা অনভিপ্রেত-বাসদ

haturi-kastey-editedবাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির এক সভা ১৪ আগস্ট ২০১৭ সকাল ১১:৩০টায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ, জাহেদুল হক মিলু ও রাজেকুজ্জামান রতন।
সভার এক প্রস্তাবে সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে গণতন্ত্রের উপযোগি কার্যকারিতা সম্পন্ন করে তোলার জন্য সর্বমহলের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়কে কেন্দ্র করে শাসক শ্রেণির দলগুলোর মধ্যে যে ধরনের বাক বিতণ্ডা শুরু হয়েছে তা অনভিপ্রেত এবং দ্বি-দলীয় পাল্টাপাল্টির রাজনৈতিক বদভ্যাসের পুনরাবৃত্তি মাত্র। একদল রাজনৈতিক ফায়দা তোলা ও অন্যদল উন্মোচিত চেহারা ঢাকার জন্য বিচার বিভাগের উপর চাপ সৃষ্টি করে চলছে।
শাসকদল ও জোটের যুদ্ধংদেহী মনোভাবে, দুর্বলযুক্তি মালা, দাম্ভিক উক্তি এবং আত্মবিস্তৃত দায়িত্বহীনতা সর্বোচ্চ আদালতের নিরীক্ষণ পর্যালোচনার যথার্থতাকেই তুলে ধরে। শাসকদল হিসাবে আওয়ামী লীগের আত্মোপলব্ধির জন্য যেখানে সর্বোচ্চ সংযম ও গভীর বিবেচনা বোধে অগ্রসর হওয়া প্রয়োজন ছিল তার অনুপস্থিতি বর্তমান সংকট উত্তরণের বদলে আরেক ধাপ পিছনে ফেলে দেবে এবং পরিস্থিতির জটিলতা বাড়াবে বৈ কমাবেনা। সর্বোচ্চ আদালতের রায় শূণ্যে ভাসমান শুধুমাত্র রায় সর্বস্ব হয় না। স্থান-কাল, সার্বিক পরিস্থিতি-পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনা বেষ্টিত রায় এজন্য প্রয়োজন হয়, যাতে বর্তমানের কার্যকারিতা, ন্যায় পরায়ণতা ও ভবিষ্যতে রায় এর যথার্থতা বিচারে সহজ হয়। তাছাড়া এই রায় এর সাথে বাংলাদেশের শাসন, প্রশাসন, প্রথা-প্রতিষ্ঠান আইন বিচার এমনভাবে সংশ্লিষ্ট হয়ে রয়েছে যে বিশদ পর্যালোচনা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব ছিলনা। তারপরও অসম্পূর্ণতা বা ভুল-ত্রুটি কিংবা বিচার বিভাগের জবাবদিহিতা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা বা উপায় খোঁজা চলতে পারে এবং চলা উচিত। কিন্তু এখন যা চলছে বা চালানো হচ্ছে তা কোনভাবেই অনুমোদন যোগ্য নয় এবং জনগণের কাছেও গ্রহণযোগ্য নয় বলে আমরা মনে করি।
আমরা ডুবতে থাকা কোন একটি প্রতিষ্ঠানের রক্ষাই শুধু নয়, সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে গণতন্ত্রের উপযোগি কার্যকারিতা সম্পন্ন করে তোলার জন্য সর্বমহলের এগিয়ে আসার এবং অনভিপ্রেত বাক বিতণ্ডা বন্ধ করে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাই।