সংগ্রাম পরিষদের সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ

বাজেটে কৃষি ও গ্রামীণ খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও
স্বল্পমূল্যে পল্লী রেশনিং ব্যবস্থা চালু করার দাবি

270618-KKSPআসন্ন বাজেটে কৃষি ও গ্রামীণ খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও স্বল্পমূল্যে পল্লী রেশনিং চালুর দাবিতে কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে বিক্ষোভ কমসূচি পালিত হয়েছে। আজ ২৭ জুন বেলা ১২ টায় জাতীয় সংসদ অভিমুখে সংগ্রাম পরিষদের বিক্ষোভ মিছিলের পূর্বে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত ৭ জুন ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের জন্য চার লক্ষ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট ব্যয়ের যে প্রস্তাব করা হয়েছে তা বাগাড়ম্বরপূর্ণ, ফাঁকা ও প্রতারণামূলক। এই বাজেট বিত্তবান, সুবিধাভোগী ও লুটেরা গোষ্ঠীর জন্যই করা হয়েছে উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, এই ধরনের বাজেটের মধ্য দিয়ে ধনী ও লুটেরাদের হাতে আরো বেশি সহায়-সম্পদ কেন্দ্রীভ‚ত হবে। এর ফলে ধনী-দরিদ্র্যের বৈষম্য আরো বৃদ্ধি পাবে। বক্তারা আসন্ন বাজেটে জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ কৃষক ও ক্ষেতমজুরদের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখার দাবি জানান।
অধ্যাপক আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি অ্যাড. এস এম এ সবুর, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি অ্যাড. সোহেল আহমদ, খেতমজুর ইউনিয়নের সভাপতি সাইফুল হক, বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, কৃষক-ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি রঞ্জিত চট্টোপাধ্যায়, বিপ্লবী কৃষক ফোরামের আবুল হাসেম তুফান, বিপ্লবী কৃষক সংহতির সভাপতি আনসার আলী দুলাল সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রেজা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সরকার নিজেদের কৃষিবান্ধব হিসাবে দাবি করলেও বাজেট বরাদ্দে তার প্রতিফলন ঘটেনি বরঞ্চ দেশের প্রধান উৎপাদনশীল এ কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি এবারও উপেক্ষিত হয়েছে। বক্তারা আরো বলেন, বাজেটের যাও সামান্য বরাদ্দ হয় সেই অর্থের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খোদ উৎপাদক চাষী পায়না। এর দ্বারা লাভবান হয় কৃষি সংক্রান্ত ব্যবসায়ীসহ নানা ধরনের সিন্ডিকেট ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। সরকারী ভর্তুকীর অধিকাংশটাই চলে যায় ডিপটিইউবওয়েল, পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর এর মালিক ধনি কৃষক ও সার আমদানিকারক এবং চাতাল ও চাল কলের মালিক, ফড়িয়া, মধ্যস্বত্বভোগী আর সরকারি দলের সাথে যুক্ত স্থানীয় প্রভাবশালী টাউট-বাটপাড়দের হাতে। বক্তারা বলেন, সরকার কৃষকদের কাছ থেকে ধান-চাল না কেনায় এবং কৃষি বরাদ্দের দ্বারা প্রকৃত কৃষক প্রত্যক্ষভাবে লাভবান না হওয়ায় বাস্তবে বাগাড়ম্বরপূর্ণ এই বরাদ্দও কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে তেমন কোন কাজে লাগছে না। তাছাড়া হাওর অঞ্চলের কৃষক, পাট চাষী, আখ চাষীসহ গ্রামীণ প্রত্যক্ষ উৎপাদকেরা কিভাবে নিজেদের জন্য টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করবে তারও কোন প্রস্তাবনা অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় নেই।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ক্ষেতমজুর ও গ্রামীণ বেকারদের কর্মসংস্থানের কার্যকরি কোন উদ্যোগ বাজেটে দেখা যাচ্ছে না। ক্ষেতমজুর, গ্রামীণ শ্রমজীবী ও প্রান্তিক জনগণের জন্য স্বল্প দামে পল্লী রেশনিং ব্যবস্থা চালুর কোন উদ্যোগ বাজেটে নেই। খাসজমির উপর ভ‚মিহীনদের অধিকারসহ কৃষি উন্নয়নের প্রশ্নগুলো আজ উপেক্ষিত। সর্বোপরি কৃষক-ক্ষেমজুর-ভ‚মিহীনসহ গ্রামের অবহেলিত, শোষিত, নিপীড়িত জনগণের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, আবাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে মনোযোগ ও বরাদ্দ দরকার ছিল প্রস্তাবিত বাজেটে তা দৃষ্টিগ্রাহ্য নয়।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ কৃষি ও গ্রামীণ খাত, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানের মত মৌলিক খাতসমূহে বরাদ্দ বৃদ্ধি ও তা বাস্তবায়নের বিশ্বাসযোগ্য নীতি-কৌশল প্রণয়নের মাধ্যমে পুরো বাজেটকে ঢেলে সাজানোর দাবি করছে। সমাবেশ শেষে জাতীয় সংসদ ভবনের উদ্দেশ্যে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের সামনে গেলে পুলিশ মিছিলে বাধা দেয়। সেখানেই সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকারের কাছে দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করে।