সংস্কৃতির শিকড় কাটা অভিযানে নামলেন বাংলাদেশের শাসক শ্রেণি

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গভীর রাতে জাতিসত্তার উপর চরম আঘাত হেনেছিল পাকিস্তানী শাসকশ্রেণি
স্বাধীন বাংলাদেশে ৪৬ বছর পর ২৫ মে একই অন্ধকার সময়
বেছে নিয়ে সংস্কৃতির শিকড় কাটা অভিযানে নামলেন বাংলাদেশের শাসক শ্রেণি
260517হাইকোর্টের সামনে স্থাপিত ন্যায় বিচারের প্রতীক ভাস্কর্য জাস্টিসিয়া অপসারনে ঘটনা এবং প্রতিবাদী ছাত্র-জনতার উপর পুলিশী হামলা-গ্রেফতার এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান আজ ২৬ মে ২০১৭ সংবাদপত্রে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট সন্মুখ থেকে ন্যায় বিচারের প্রতীকী ভাস্কর্য সরিয়ে নেয়া হয়েছে। রাতের অন্ধকারে কাজটি সমাধা করা হয়েছে। হেফাজতে ইসলাম, আওয়ামী ওলামা লীগসহ ধর্মান্ধ ধর্মব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ফিকিরবাজ সংগঠন ও সংস্থার দাবি ও চাপে শাসক দল ভোটের সমীকরণে প্রতারণামূলক কৌশলে এ কাজ করিয়েছে। পায়ের তলা থেকে সরে যাওয়া মাটি ভরাট করতে যে কোন আবর্জনার উপর দাঁড়াতেই আজ আর শাসকদের বাধছেনা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ফেরি করে এবং ২০ ভাগ থেকে ৯ ভাগ জনগোষ্ঠীতে নেমে আসা সংখ্যালঘুদের উপর নির্ভর করে, সর্বোচ্চ দরে ভোট কেনা-বেচার পরসা সাজিয়েও যখন ভোটের বাক্সের এক কোনা ভর্তি করা যাবেনা নিশ্চিত হয়েছেন তখনই তারা মৌলবাদী আর মুসলিম পার্থক্য রেখা ঘুচিয়ে বড় ভোট ব্যাঙ্ক হাসিলে ধর্মান্ধ শক্তির একটা বড় অংশকে মাঠে নামানোর পথ ধরেছে। এ শক্তি ভোটের কাজে লাগুক আর না লাগুক, ঘোষিত ডিজিটাল ভোট জায়েজে এই সন্ধি কাজে লাগানো যাবে মনে করছেন ক্ষমতাসীনরা। অথচ কতবড় সর্বনাশা বিভক্তি ও বিভ্রান্তির বীজ রোপন করা হলো তা ভাবার ফুরসৎ পাচ্ছে না তারা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গভীর রাতে জাতিসত্তার উপর চরম আঘাত হেনেছিল পাকিস্তানী শাসকশ্রেণি; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ৪৬ বছর পর ২৫ মে একই অন্ধকার সময় বেছে নিয়ে সংস্কৃতির শিকড় কাটা অভিযানে নামলেন বাংলাদেশের শাসকশ্রেণি। দেলোয়ার হোসেন সাঈদীসহ যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামীর সাথে আল্লামা শফির নেতৃত্বাধীন হেফাজতে ইসলামী ধর্মান্ধ চক্রের শাসন-প্রশাসন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে মৌলিক তেমন পার্থক্য নেই। অথচ রাজনৈতিক পক্ষ-বিপক্ষে যুদ্ধরত ক্ষমতাসীন ও ক্ষমতাপ্রত্যাশী প্রধান বুর্জোয়া দলগুলি এদের দলে ভেড়ানোর টানাটানিতে সকল মূল্যবোধ ও নীতি আদর্শকে ছিন্ন ভিন্ন করে চলেছেন।
এমনিতেই ইট-পাথর, কাঠ, লোহা-লক্করের উন্নয়নের নীচে গরিষ্ঠ মানুষ চাপা পড়ছে, মানবতা পিষ্ঠ হচ্ছে, দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির কাছে জনগণ জিম্মি দশায় পতিত হচ্ছে, তাতে আবার বোঝার উপর শাকের আঁটি চাপানো দশা হচ্ছে। এই অবস্থা পরিবর্তনের সংগ্রামেই সত্যিকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পুনর্বাসন সম্ভব। প্রয়োজন সংঘবদ্ধ প্রতিবাদ-প্রতিরোধের শক্তি গড়ে তোলা। দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির বিপরীতে আদর্শবাদী বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলা। আমরা সেই লক্ষ্যে সর্বস্তরের জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।