সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

সারাদেশে নারী-শিশু নির্যাতন-ধর্ষণ-হত্যা বন্ধ, সুলতানা কামালের হুমকিদাতাদের গ্রেফতার-বিচার
কল্পনা চাকমা হত্যা ও লংগদু হামলার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিতIMG_1418 copyসারাদেশে নারী-শিশু নির্যাতন-ধর্ষণ-হত্যা বন্ধ করা, সুলতানা কামালের হুমকিদাতাদের গ্রেফতার, কল্পনা চাকমা হত্যা ও লংগদু হামলার বিচারের দাবিতে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর উদ্যোগে ১৬ জুন ২০১৭ সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। 

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শম্পা বসু এবং পরিচালনা করেন সংগঠনের সদস্য রুখসানা আফরোজ আশা। সভায় বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ম-লীর সদস্য সামসুন্নাহার জ্যোৎস্না, সংগঠনের সদস্য ও ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক শিপ্রা মন্ডল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এর ঢাকা নগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মুক্তা বাড়ৈ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সুস্মিতা মরিয়ম।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, কয়েকদিন আগে ঢাকার বাড্ডা এলাকায় ৮ বছরের একটি মেয়েকে ইফতারের দাওয়াত দিয়ে ধর্ষণ করে বাসার দুই দারোয়ান। হবিগঞ্জে সুখিয়া রবিদাসকে ধর্ষণের পর পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এর আগে ধর্ষিত হয়েছেন গারো, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, সাঁওতাল, বাঙালী, হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান জাতিগত বা ধর্মীয় যে পার্থক্যই থাকুক তাদের একমাত্র পরিচয় তারা নারী। বয়সও কোন বাধা হয়নি এ ক্ষেত্রে। ৩ বছর থেকে ৬০ বছর সকল বয়সের নারীকেই ধর্ষণ করা হয়। গাজিপুরে হজরত আলীর ১০ বছরের মেয়ে আয়েশাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় বখাটে ফারুক মিঞাঁ। হজরত আলী বিচারের আশায় থানা, মেম্বার, চেয়ারম্যানের কাছে গেছেন। কোথাও বিচার পাননি। উল্টা ফারুক মিঞাঁরা তার দরিদ্র পরিবারের একমাত্র সম্বল গরুটা নিয়ে জবাই করে খেয়ে ফেলে। রাষ্ট্রের এই বিচারহীরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি মেয়েকে নিয়ে রেল লাইনে আত্মহত্যা করেন। তনু ধর্ষণ-হত্যার ১৪ মাস পেরিয়ে গেলেও কেউ গ্রেফতার হয়নি। বিচারতো পরের কথা। টাকা আর ক্ষমতার কাছে আইন-বিচার সব জিম্মি হয়ে আছে। এদেশে অন্যায়কারীরা, নিপীড়করা যা খুশি তাই করতে পারে। বাংলাদেশে বিচারহীনতার রেওয়াজ চলছে। একের পর এক নারী নির্যাতনের ঘটনা এবং একের পর এক বিচারহীনতার কাহিনী। একটি নির্যাতনের ঘটনা বিভৎসতায়, বর্বরতায় আগেরটিকে ছাপিয়ে যাচ্ছে। সারাদেশে এমন অসংখ্য নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে চলেছে। গত চার মাসে (জানুয়ারি থেকে এপ্রিল) ধর্ষণ-হত্যা- নির্যাতনের শিকার হয়েছেন প্রায় দেড় হাজার নারী ও শিশু। সমাবেশ থেকে বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, আর কত নারী নির্যাতিত হলে সরকার ও পুলিশ প্রশাসন বিচারকার্য শুরু করবে?
বক্তাগণ আরও বলেন, নারী নিপীড়নের কোন ঘটনা ঘটলেই অনেকে প্রশ্ন করে মেয়েটি ওখানে কেন গেল? কী পোশাক পরে ছিল? কার সাথে গিয়েছিল? অর্থাৎ নিপীড়িত মেয়েটিরই চরিত্র খারাপ প্রমাণের চেষ্টা! শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, বোরকা, এমনকি যে মেয়েটি নিজের পোশাক নিজে পরতে শিখে নাই, সেও কি নিরাপদ? বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে, অফিসে, কারখানায়, রাস্তায়, বাসে, ট্রেনে, স্কুলে, কলেজে, বিশ্ববিদ্যালয়ে এমনকি নিজের ঘরেও নারীরা নির্যাতনের শিকার হন। নারীরা তাহলে কোথায় যাবে? কোথায় থাকবে? নারী নির্যাতনের জন্য নারীর পোশাক না নিপীড়কের বর্বর ও পুরুষতান্ত্রিক ভোগবাদী দৃষ্টিভঙ্গী দায়ী।
বক্তাগণ বলেন, নারীনেত্রী মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামালের কথা বিকৃত করে হেফাজতে ইসলাম সমাবেশ করে তাঁকে হুমকি দিল। সরকার এখনও নীরব। এর মধ্য দিয়ে সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী এই মৌলবাদী গোষ্ঠীর উথ্থানকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে। বক্তাগণ অবিলম্বে হুমকিদাতাদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেন।
বক্তাগণ বলেন, নারী নেত্রী কল্পনা চাকমাকে ২১ বছর আগে অপহরণ করা হয়। এখনও আমরা বিচার পাইনি। এদিকে একের পর এক ধর্মীয় ও জাতিগত নিপীড়ন চলছে। এর সর্বশেষ শিকার লংগদু। এ পর্যন্ত পাহাড়ে বা সমতলে যত ধর্মীয় ও জাতিগত নিপীড়ন হয়েছে তার কোনটিরই বিচার হয়নি। ফলে নিপীড়ন আরও বেড়েছে।