সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট ৩৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সমাবেশে নেতৃবৃন্দের আহ্বান

১৫ হাজার টাকা নূন্যতম মজুরি, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন ও বিধিমালা এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলুন

180116_SLF 32th foundation day-Part of gatheringবাংলাদেশের মাটিতে শোষন মুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজ, অর্থনীতিবাদী-সুবিধাবাদী ট্রেড ইউনিয়নের বিপরীতে বিপ্লবী ধারার শ্রেণী সচেতন ট্রেড ইউনিয়ন ও শ্রমিক আন্দোলন গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে ১৯৮২ সালের ১৮ জানুয়ারি বাংলাদেশের মাটিতে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিকফ্রন্টের ঐতিহাসিক আত্মপ্রকাশ ঘটে। ৩৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আজ ১৮ জানুয়ারি বিকাল ৪টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ ও লালপতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি, স্কপ নেতা কমরেড জাহেদুল হক মিলু। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক, স্কপ নেতা কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন, সহ-সভাপতি, আব্দুর রাজ্জাক, কোষাধ্যক্ষ জুলফিকার আলী, দপ্তর সম্পাদক খালেকুজ্জামান লিপন, রি-রোলিং ষ্টীল মিলস শ্রমিক ফ্রন্ট সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম খাঁন বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট এর সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ প্রমুখ।
180116_SLF 32th foundation day-Jahedul Haq Miluসমাবেশে বক্তাগন বলেন, দেশের বর্তমানে ৬ কোটি ১০ লাখ শ্রমজীবী মানুষ, কিন্তু স্বাধীনতার ৪৫ বছরে শ্রমজীবী মানুষের দুঃখ-দুর্দশা কমেনি বরং বেড়েই চলেছে। পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে শোষন ও লুন্ঠন। দেশের প্রবাসী শ্রমিকেরা রেমিটেন্স আনে বছরে ১৬ বিলিয়ন ডলার, রপ্তানী আয় করে ৩১ বিলিয়ন ডলার, আর কৃষকরা খাদ্য উৎপাদন বাড়িয়েছে ৩ গুন, এর উপর দাড়িয়ে আছে দেশ। কিন্তু যাদের শ্রমে ও ঘামে দেশ দাড়িয়ে আছে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়নি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপি, সচিবদের “বেতন বৃদ্ধি হয়েছে” বাড়ী ভাড়া, গাড়ী ভাড়া, দ্রব্যমূল্য, গ্যাস-বিদ্যুতের দাম, সন্তানের শিক্ষার খরচ বাড়ছে কিন্তু শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কথা মালিক বা সরকার কেউ বলছে না।
দেশে সবাই গণতন্ত্রের কথা বলে কিন্তু ট্র্ডে ইউনিয়ন করা যে শ্রমিকের গণতান্ত্রিক অধিকার তা মালিকরা স্বীকার করতে চায় না। দেশে ছোট-বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান ৪ লাখেরও বেশী কিন্তু শ্রমিক ইউনিয়নের সংখ্যা ৮ হাজারেরও কম। রি-রোলিং এ কোন ইউনিয়ন নেই। যা আছে তাও মালিকদের ইশারায় চলে। শ্রম আইন ও বিধিমালা শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী কালাকানুনে পরিপূর্ন। আর শ্রমিকের নিরাপত্তা কি পরিমানে হুমকির মধ্যে আছে তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ রানা প্লাজা, তাজরিন, স্পেকট্রাম, গরীব এন্ড গরীব সহ অসংখ্য ভবন ধ্বংস ও অগ্নিকান্ডে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু। কিন্তু মালিকের অবহেলাজনিত কারনে শ্রমিকের মৃত্যুতে ক্ষতিপুরনের মানদন্ড এখনও ঠিক করা হয়নি, শাস্তির বিধান কার্যকর হয় না।
বক্তাগণ আরও বলেন, ব্রিটিশের বিরুদ্ধে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে, শ্রমজীবী মানুষ আন্দোলন করেছিলো। দেশ স্বাধীন হয়েছে কিন্তু শোষনের অবসান হয়নি। বাংলাদেশ রাষ্ট্র পরিণত হয়েছে ধনী মালিক শ্রেণীর রাষ্ট্রে। মালিকরা সংখ্যায় কম কিন্তু তারা সংগঠিত, শ্রমিকরা সংখ্যায় বেশী কিন্তু তারা অসংগঠিত। সংগঠন ছাড়া শ্রমিক তার স্বার্থ আদায় করতে পারবে না। তাই শ্রম আইন ও বিধিমালার অগণতান্ত্রিক ধারাসমূহ বাতিল, সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার প্রতিষ্ঠা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও নিরাপদ কর্ম পরিবেশ গড়ে তোলা, ১৫ হাজার টাকা জাতীয় নুন্যতম মজুরি নির্ধারণ সহ শ্রমিক শ্রেণীর সার্বিক মুক্তির লক্ষে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জোরদার ও বিপ্লবী ধারার শ্রেণী সচেতন ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে একটি লাল পতাকা মিছিল প্রেস ক্লাব, তোপ খানা, পল্টন, সেগুন বাগিচা এলাকা প্রদক্ষিন করে।