সরকার নির্ধারিত রেটে সরাসরি কৃষকের কাছে থেকে ধান ক্রয়, গ্রামীন রেশনিং চালু ও বাজেটে কৃষিখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করুন- কৃষক ক্ষেতমজুর সমাবেশে নেতৃবৃন্দ

১ জুন সারাদেশে ডিসি অফিস/ডিসি ফুড অফিস ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা
সরকার নির্ধারিত রেটে সরাসরি কৃষকের কাছে থেকে ধান ক্রয়, গ্রামীন রেশনিং চালু ও বাজেটে কৃষিখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করুন- কৃষক ক্ষেতমজুর সমাবেশে নেতৃবৃন্দ24-05-16 PKKSS-2প্রগতিশীল কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগঠন সমূহের উদ্যোগে আজ ২৪ মে ২০১৬ বিকেল ৪:৩০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। কৃষক নেতা অধ্যাপক আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাইফুল হক, সাজ্জাদ জহির চন্দন, বজলুর রশীদ ফিরোজ, এডভোকেট আনোয়ার হোসের রেজা, মোখলেছুর রহমান, শহীদুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। জিডিপি-তে এখনও কৃষির অবদান ১৬%। দেশের মোট ৬ কোটি ১৪ লক্ষ শ্রম শক্তির ৪৭% কৃষিতে নিয়োজিত। কিন্তু কৃষি ও কৃষির সাথে সম্পর্কিত কৃষক-ক্ষেতমজুরসহ জনগণ বারে বারেই অবহেলার শিকার। কৃষক কিনতে এবং বেচতে দুইবারেই ঠকে। কৃষি উপকরণের দাম বেশি, উৎপাদিত ফসলের দাম কম। ফলে ন্যায্য দাম থেকে কৃষক বছরের পর বছর বঞ্চিত হচ্ছে। এতে করে গরীব-মাঝারী কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সর্বশান্ত হচ্ছে, ক্রমান্বয়ে ভূমিহীন সর্বহারা হচ্ছে। অন্যদিকে মধ্যস্বত্তভোগী ফড়িয়া ব্যবসায়ী-আড়তদারেরা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে। এ বছরেও চলতি বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। সরকার বাহবা নিচ্ছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, উদ্বৃত্ত হচ্ছে অথচ যাদের শ্রমে ঘামে খাদ্য উৎপাদন বাড়ছে তাদের ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে। সরকার বলেছে এ বছর ধানের উৎপাদন খরচ পড়েছে প্রতি কেজি ২০.৭০ টাকা, যা গত বছরের চেয়ে .৭০ টাকা বেশি। অথচ ধানের ক্রয়মূল্য সরকার ঘোষণা করেছে গত বছরের চেয়ে .৫০ টাকা কম অর্থাৎ প্রতি কেজি ২৩.০০ টাকা।
24-05-16 PKKSS-1দেশে লুটেরা ধনিরা হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে নিয়ে মেরে দিলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় না অথচ মাত্র ৫৮২ কোটি টাকা ঋণের জন্য কৃষকের কোমরে দড়ি পরানো হয়। ২ লক্ষ কৃষকের নামে সার্টিফিকেট মামলা দেয়া হয়েছে। প্রতি বছর যে বাজেট হয়, তাতেও কৃষি খাত বরাবরের মতো অবহেলিত থেকে যাচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমানে বাজারে ধান ৩৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে । সরকারি হিসাবেই উৎপাদন খরচ পড়েছে মণ প্রতি ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা। এতে কৃষকের লোকসান হচ্ছে মণ প্রতি ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা। এ অবস্থার হাত থেকে কৃষি-কৃষক বাঁচাতে কৃষক-ক্ষেতমজুর সংগঠনসমূহ দীর্ঘ দিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে প্রতি ইউনিয়নে সরকারি ক্রয় কেন্দ্র খুলে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত দামে ধান ক্রয় করার। কিন্তু তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। অপর দিকে ক্ষেতমজুর ভূমিহীনদের সারা বছরের কাজ ও খাদ্যের নিরাপত্তা দিতে ১২০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্প চালু, ৫০০ টাকা দৈনিক মজুরি নির্ধারন এবং স্বল্প দামে গ্রামীণ রেশনিং চালুর দাবি আজও বাস্তবায়িত হয়নি।
নেতৃবৃন্দ কৃষক ক্ষেতমজুর বাঁচাতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য আহ্বান জানান।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ, প্রতি ইউনিয়নে কমপক্ষে ১টি ক্রয় কেন্দ্র খুলে সরকার নির্ধারিত রেটে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় , সার্টিফিকেট মামলা প্রত্যাহার ও ১০হাজার টাকা কৃষিঋন সুদসহ মুওকুফ, ১২০দিনের কর্মসৃজন প্রকল্প ও গ্রামীন রেশনিং ব্যাবস্থা চালু , হাওর অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ক্ষতিপূরণ-পুর্নবাসন ও ঋণ মওকুফ, ব্যাংক থেকে কৃষি ঋণ প্রদানে ও গ্রামীণ প্রকল্পসমূহে ঘুষ-দুর্নীতি লুটপাট বন্ধ, বাজেটে কৃষি ও গ্রামীণ খাতে বরাদ্দ বাড়ানো এবং খাস জমি প্রকৃত ভূমিহীনদের নামে বরাদ্দের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।
সমাবেশ থেকে উপরোক্ত দাবিতে আগামী ১ জুন ২০১৬ সারাদেশে ডিসি অফিস/ডিসি ফুড অফিস ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।